দুটি ‘রিটায়ার্ড আউট’ ও ম্যাচ টাই, নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটে নাটক
ক্রিকেট ইতিহাসে বিরল এক রেকর্ডের জন্ম দিলো নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া টি–টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট সুপার স্ম্যাশ। পুরুষদের টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো একই ইনিংসে দুই ব্যাটারকে রিটায়ার্ড আউট করল একটি দল। অভূতপূর্ব এই কৌশলের ফলেই ওটাগো ভল্টসের বিপক্ষে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে নাটকীয়ভাবে ম্যাচ টাই করতে সক্ষম হলো নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টস (এনডি)।
ধীরগতির ব্যাটিংয়ে দল চাপের মুখে পড়লে এনডি টানা দুই ওভারে দুই ব্যাটারকে ফিরিয়ে নেয়। সাবেক নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটার জিত রাভাল ১৭তম ওভারের শুরুতে ২৮ বলে ২৩ রান করে রিটায়ার্ড আউট হন। পরের ওভারে একই সিদ্ধান্তে ফেরেন রুকি জেভিয়ার বেল, যিনি ১৩ বলে মাত্র ৯ রান করেছিলেন। তাদের জায়গায় নেমে বেন পোমার ও স্কট কুগেলেইন প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে ইনিংসে গতি ফেরান।
রাভাল ফেরার পর পোমারে ড্যানরু ফার্নসকে মিডউইকেট দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তিনি ১০ বলে ২০ রান করেন। শেষদিকে কুগেলেইন আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন।
শেষ ওভারে এনডির প্রয়োজন ছিল ১৯ রান। ফার্নসের প্রথম বলে বিমার থেকে সিঙ্গেল নেওয়ার পর কুগেলেইন পরের পাঁচ বলে তিনটি চার মারেন। শেষ বলে দরকার ছিল ৩ রান; রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে ফার্নসের ইয়র্কারে কুগেলেইন দুই রান নিতে পারলে ম্যাচ টাই হয়। কুগেলেইনের অপরাজিত ইনিংসটি ছিল ১২ বলে ৩৪ রানের, স্ট্রাইক রেট ২৮৩.৩৩।
ম্যাচ শেষে ভল্টস অধিনায়ক ম্যাক্স চু বলেন,‘ম্যাচের মাঝেই এই সিদ্ধান্ত এসেছে। আমাদের স্পিনাররা দারুণ বোলিং করেছে—বেন লকরোজ ও অভিষেকে ট্রয় জনসন। মধ্যভাগে আমরা এনডির জন্য ম্যাচ কঠিন করে তুলেছিলাম।’
এর আগে ২০২২ সালের ইংল্যান্ডের ভাইটালিটি ব্লাস্টে দুই ব্যাটার রিটায়ার্ড আউট হয়েছিলেন, তবে একই ইনিংসে নয়— কার্লোস ব্র্যাথওয়েট ও সামিত প্যাটেল ভিন্ন ইনিংসে তা করেছিলেন। মেয়েদের টি–টোয়েন্টিতে ২০২৫ সালের মে মাসে আরব আমিরাত নারী দল এক ম্যাচে বৃষ্টির আশঙ্কায় সময় বাঁচাতে দশ ব্যাটারকেই রিটায়ার্ড আউট করে নজির গড়েছিল।
আধুনিক টি–টোয়েন্টিতে উইকেটের মূল্য তুলনামূলক কমে যাওয়ায় দ্রুত রান তোলাই মুখ্য— এ কারণে ‘রিটায়ার্ড আউট’ কৌশলটি ধীরে ধীরে গ্রহণযোগ্য হচ্ছে। আইপিএলে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের নিজে নিজে রিটায়ার্ড আউটের মতো ঘটনাও এই প্রবণতাকে স্বাভাবিক করেছে।
এই টাইয়ের ফলে এনডি ও ভল্টস পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে। সুপার স্ম্যাশে কেবল নকআউট ম্যাচগুলোতেই (এলিমিনেশন ফাইনাল বা ফাইনাল) টাই হলে সুপার ওভারে ফল নির্ধারণ করা হবে।
আইএইচএস/