ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. খেলাধুলা

প্রসঙ্গ ভারতে বিশ্বকাপ

‘বাংলাদেশ আবেগপ্রবণ জাতি, সিদ্ধান্ত নিলে পিছু হটবে না’

সৌরভ কুমার দাস | সিলেট থেকে | প্রকাশিত: ০৬:৫২ পিএম, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) নিয়মিত মুখ পাকিস্তানের অলরাউন্ডার খুশদিল শাহ। চলতি আসরে তিনি খেলছেন রংপুর রাইডার্সের জার্সিতে। জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে বিপিএলের পরিবেশ, বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মানসিকতা ও পারফরম্যান্সের প্রশংসার পাশাপাশি ভারত-পাকিস্তান ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ঘিরে বিশ্বকাপের সম্ভাব্য ভেন্যু বিতর্কেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।

দেশের প্রশ্নে কোনো আপস নয়—এমন দৃঢ় কণ্ঠে খুশদিল শাহ কথা বলেছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি), আইসিসির ভূমিকা এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটের আবেগী বাস্তবতা নিয়েও।

প্রশ্ন: আরও একবার বাংলাদেশে… আপনি লম্বা সময় ধরেই বিপিএল খেলছেন এখানে। কেমন লাগছে?

খুশদিল শাহ: ভালো লাগে বিপিএল খেলতে, আলহামদুলিল্লাহ। অনেকদিন ধরেই আসছি। ভালো লাগে। দারুণ পরিবেশ, দুর্দান্ত সব লোকাল ক্রিকেটার। এখানে আসতে ও খেলতে আমার খুব ভালো লাগে।

প্রশ্ন: অনেকদিন ধরেই ভারত-পাকিস্তান একে অন্যের দেশে খেলে না। বাংলাদেশ এমন পরিস্থিতিতে নতুন। যদিও এখনো কিছুই চূড়ান্ত নয়..।

খুশদিল শাহ: আমি ছোটবেলা থেকে ক্রিকেট খেলছি। কিন্তু এ ধরনের পরিস্থিতি প্রথমবার দেখছি। ভারতই এটা শুরু করেছে। তারা এখানে যেতে চায় না, ওখানে যেতে চায়— বলতে থাকে পরিস্থিতি এমন, পরিবেশ ঠিক না, বনিবনা হয় না ইত্যাদি।

কিন্তু আমাদের যেভাবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হয়েছে এবং আমরা দুই জায়গায়— পাকিস্তান ও দুবাইতে—চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আয়োজন করেছি, সেই হিসাবে এখন পাকিস্তানও ভারতে যাবে না। কারণ পাকিস্তানেরও বিশ্ব ক্রিকেটে শক্ত অবস্থান আছে। এসব বিষয়ে সঠিক জবাব দেওয়া উচিত।

ইনশাআল্লাহ, আমাদের যে চেয়ারম্যান (মহসিন নাকভি), তিনি এ ব্যাপারে খুব কড়া। আমার শতভাগ বিশ্বাস, তিনি আমাদের দলকে ভারতে যেতে দেবেন না এবং আমরা পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় খেলবো।

বাংলাদেশের ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই। তবে বাংলাদেশ যদি নিজের কথায় অটল থাকে, সেটাও ঠিক আছে। তখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে— বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় বেশি হবে, নাকি ভারতে বেশি হবে। সেটা এখন আইসিসি কি সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপর নির্ভর করছে।

প্রশ্ন: আপনি তো পাকিস্তানের ব্যাপারে কথা বললেন। বাংলাদেশের কী করা উচিত বলে মনে হয় আপনার?

খুশদিল শাহ: বাংলাদেশের ব্যাপারে আপাতত আমি নিশ্চিত নই। তবে এটা জানি, তারা একটি আবেগপ্রবণ জাতি। তারা যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

প্রশ্ন: আপনি বলছিলেন বাংলাদেশিরা আবেগপ্রবণ। শেষ পর্যন্ত যদি ভারত যেতে না চাওয়ায় বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ বয়কট করতে হয়?

খুশদিল শাহ: ভারতে যাবে না। যদি বাংলাদেশ বলে আমরা খেলবো না, তাহলে আইসিসির তাতে খুব বড় কোনো ভূমিকা নেই। কারণ দেশ বলছে মানে একটাই কথা— খেলবো না তো খেলবো না কিংবা খেলবো তো খেলবো। তাই এখন বিশ্বকাপের আগে যদি তারা (বাংলাদেশ) সিদ্ধান্ত নেয় যে আমরা যাবো না, আমরা খেলবো না— তাহলে খেলবে না!

প্রশ্ন: মুস্তাফিজকে নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। তিনি এই বছর পিএসএল-এও আসবেন। কোন দল তাকে নিতে পারে, তার ওপর চাপ থাকবে কি না?

খুশদিল শাহ: না, তার কী চাপ থাকবে? সে এত ক্রিকেট খেলেছে এবং বিশ্বে অনেক সময় এক নম্বরও হয়েছে। পিএসএলে যে কোনো দল তাকে নিতে পারে। তার কোনো সমস্যা নেই। তবে, আইপিএল ও তার ব্যক্তিগত ব্যাপার সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই। এই বিষয়ে আমি এতটুকুই বলতে পারি।

প্রশ্ন: আপনি বিপিএলে রংপুর রাইডার্সের হয়ে খেলছেন। নুরুল হাসান সোহান অধিনায়ক, লিটন দাস আছেন— যিনি বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক এবং তাওহিদ হৃদয় আছেন। এই তিনজনকে আপনি কিভাবে দেখেন?

খুশদিল শাহ: তিনজনই সম্প্রতি বাংলাদেশের হয়ে দেশের জন্য খেলছেন। তিনজনই ভালো। সোহান একজন কঠোর পরিশ্রমী যোদ্ধা, যে দলকে লড়তে শেখায়। আর লিটন দাস ও হৃদয় মূলত ব্যাটার— ব্যাটিংয়ে তারা নিজেদের কাজ খুব ভালোভাবে করে। তারাও কঠোর পরিশ্রমী। তিনজনই মাশাআল্লাহ ভালো।

প্রশ্ন: গতবার আপনি বিপিএল থেকে এসে জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছিলেন। এবার বিপিএলে আপনার লক্ষ্য কী?

খুশদিল শাহ: আমার একটাই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য— যেখানেই খেলি না কেন, ক্লাব ক্রিকেট হোক, ঘরোয়া ক্রিকেট হোক বা লিগ ক্রিকেট— আমি যেন ভালো পারফর্ম করি এবং শীর্ষে থাকতে পারি।

প্রশ্ন: বিপিএলে পারফরম্যান্স করা আপনার পাকিস্তান জাতীয় দলে ফেরার জন্য কতটা সহায়ক?

খুশদিল শাহ: জাতীয় দলের ব্যাপারে এখন আমার কোনো ধারণা নেই। এশিয়া কাপ ও ট্রাই নেশন্স সিরিজে আমাকে খেলানো হয়নি, শুধু দলের সঙ্গে ছিলাম, বেঞ্চে বসেছিলাম। এরপর দল থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছে। কেন বাদ দেওয়া হয়েছে, সেটা আমি জানি না।

তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে আলহামদুলিল্লাহ আমি ভালো করেছি। পাঁচ-ছয় নম্বর পজিশনে শেষ করেছি, ডাবল সেঞ্চুরি করেছি, ১৫০ প্লাস করেছি, বড় বড় ৫০ করেছি। এই বছর ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রায় ৭০০–৮০০ রান করেছি।

এখন নির্বাচক, কোচ ও অধিনায়ক যদি মনে করেন আমার প্রয়োজন আছে, তাহলে আমি প্রস্তুত। আর যদি না মনে করেন, তাহলে আমি লিগ, ঘরোয়া বা ক্লাব ক্রিকেট খেলতেই থাকবো।

প্রশ্ন: গত বছর আমরা দেখেছি আপনি অনেক ছক্কা মেরেছিলেন। এই বছর কম কেন?

খুশদিল শাহ: এই বছর এখানে আমাদের প্র্যাকটিস কিছুটা কম হয়েছে। তবে আলহামদুলিল্লাহ, প্র্যাকটিস ও ম্যাচ— দুটোতেই আমি ছক্কা মেরেছি।

প্রশ্ন: প্রতিদিন দুটি করে ম্যাচ হচ্ছে। শেষ ম্যাচে শিশির পড়ছে। এটা সুবিধা না অসুবিধা?

খুশদিল শাহ: এখানে শিশির এত বেশি পড়ে যে বল খুব ভারি হয়ে যায়। তখন ছক্কা মারা কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে আমরা চেষ্টা করছি কিভাবে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া যায়। আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের দল এখন টেবিলের শীর্ষে আছে। আমরা চাই শীর্ষস্থান ধরে রাখতে, কারণ প্লে-অফে দুইটি সুযোগ পাওয়া আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।

এসকেডি/আইএইচএস/