টি-২০ বিশ্বকাপ
দেশ এবং ভেন্যু পাল্টালে রদবদল ঘটতে পারে বাংলাদেশ দলেও
ধরেই নেওয়া যাক, বাংলাদেশ দল ভারতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবে না। বিসিবি এবং ক্রীড়া উপদেষ্টা গত তিনদিন ধরে দৃঢ়তার সঙ্গে বলে আসছেন— বিশ্বকাপে ভারতের মাটিতে খেলার প্রশ্নে যে অবস্থান নিয়েছে, সে জায়গায় বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকবে।
এদিকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেনও আজ বৃহস্পতিবার জানিয়ে দিয়েছেন, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বাংলাদেশ দল ভারতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না।
এই হলো বাংলাদেশের অবস্থান। অন্যদিকে আইসিসি বাংলাদেশের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি খুঁটিয়ে দেখছে। বাংলাদেশের কোথায়, কী ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সমস্যা রয়েছে—তার বিস্তারিত বিবরণ চেয়েছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ এখন অনিশ্চিত।
এমন ধোঁয়াশাচ্ছন্ন অবস্থায় দাঁড়িয়েও অনেক কিছু ভাবতে হচ্ছে জাতীয় দলের নির্বাচকদের। কারণ, ভারতে না হলেও বাংলাদেশের চাওয়া অনুযায়ী শ্রীলঙ্কায় খেলা হতে পারে। পূর্বনির্ধারিত সূচিতে বাংলাদেশের চারটি ম্যাচই ভারতে—তিনটি কলকাতায় এবং একটি মুম্বাইয়ে।
আইসিসি যদি বাংলাদেশের দাবি মেনে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজন করে, তাহলে টাইগারদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে জমে ওঠা মেঘ কেটে যাবে। তখন লিটন দাসের দল কলম্বো, ক্যান্ডি, গল কিংবা ডাম্বুলায় বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো খেলবে।
ভারতের কলকাতার ইডেন গার্ডেন্স ও মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম এবং শ্রীলঙ্কার কলম্বো, ক্যান্ডি, গল কিংবা ডাম্বুলার আবহাওয়া, পরিবেশ ও উইকেট এক নয়— অনেকটাই ভিন্ন।
ভারতের এই দুটি ভেন্যুই শতভাগ ব্যাটিং-বান্ধব। আর শ্রীলঙ্কার উইকেট অনেকটাই স্পোর্টিং। কলকাতা ও মুম্বাইয়ের তুলনায় গতি ও বাউন্স কিছুটা কম থাকলেও লঙ্কান কন্ডিশন খানিকটা স্পিন সহায়ক।
খুব স্বাভাবিকভাবেই বলা যায়, শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপের চার ম্যাচ খেললে বাংলাদেশ স্কোয়াডে পরিবর্তনের সম্ভাবনা অনেক বেশি।
সেটা কিভাবে সম্ভব? দল তো ঘোষণাই হয়ে গেছে, এখন আবার রদবদলের প্রশ্ন কেন? এ প্রশ্নের উত্তর হলো, আইসিসির বেঁধে দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী আগামী ২৯–৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত দলে পরিবর্তন আনা যাবে।
বাংলাদেশ কি ওই সময়ের মধ্যে পরিবর্তনের কথা ভাববে? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে প্রধান নির্বাচক আশরাফ হোসেন লিপুর সঙ্গে কথা হলে তিনি খুব সাংকেতিক ভাষায় বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘শুধু দেশ বা ভেন্যু পাল্টালেই যে দলে পরিবর্তন আসবে- এমন নয়। যেহেতু ২৯–৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত দলে পরিবর্তনের সুযোগ আইসিসি দিয়ে রেখেছে, তাই ইনজুরি ও ফর্ম বিবেচনায় শেষ মুহূর্তে ছোটখাটো রদবদলের অপশন আছে।’
প্রধান নির্বাচকের এই মন্তব্যই ইঙ্গিত দেয়, নির্বাচকরা পাখির চোখে বিপিএল দেখছেন। যাদের ফিটনেসে ঘাটতি আছে, ইনজুরিপ্রবণ মনে হচ্ছে কিংবা যারা ধারাবাহিকভাবে খারাপ খেলছেন বা ফর্মে নেই—তাদের বিকল্প ভাবনাও চলছে।
এখন প্রশ্ন উঠতে পারে—তারা কারা, কিংবা সংখ্যায় কতজন ক্রিকেটার বদলাতে পারেন?
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রিজার্ভ উইকেটরক্ষক জাকের আলী অনিকের জায়গায় ১৫ জনের দলে থাকা নুরুল হাসান সোহানের অবস্থা ভালো নয়। বরং বেশ খারাপ। বাংলাদেশের হয়ে শেষ তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে সোহানের সংগ্রহ ছিল ৫, ১ ও ৫— মোট ১১ রান।
এবারের বিপিএলেও পাঁচ ম্যাচে দুইবার ব্যাটিংয়ের সুযোগ না পাওয়া সোহানের রান ছিল ৬, ৭* ও ৩*। একবারের জন্যও দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি রংপুর রাইডার্সের অধিনায়ক।
শুধু কম রানে ফেরাই নয়, তার ব্যাটিংয়ে আত্মবিশ্বাসের ছাপও তেমন নেই। এমন অবস্থায় লেট মিডল অর্ডারের জন্য বিকল্প খুঁজছেন নির্বাচকরা।
যেহেতু সোহান রিজার্ভ উইকেটরক্ষকও, তাই যে কোনো উইকেটরক্ষক কাম ব্যাটারই তার বিকল্প হতে পারেন। সে তালিকায় যার নাম সবার আগে উঠে আসে , সেই জাকের আলী অনিক এখনো নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন। বিপিএলে ৪ ম্যাচে জাকের আলীর সাকুল্যে রান (৬, ২৯, ৬, ১) ৪২।
এ ছাড়া পেসার তানজিম সাকিবের অবস্থাও ভালো নয়। এবারের বিপিএলে রাজশাহীর হয়ে পাঁচ ম্যাচে ৫ উইকেট পেলেও প্রতি ম্যাচেই রান দিয়েছেন বেশ বেশি। এই পাঁচ ম্যাচে তার সেরা ইকোনমি ছিল ৪ ওভারে ১/৩০। বাকি চার ম্যাচে তার বোলিং ফিগার— ১/৪৩, ১/৩৬, ২/৩১ ও ০/৪৩। অর্থাৎ প্রায় সব ম্যাচেই বেদম মার খেয়েছেন তানজিম সাকিব।
অন্যদিকে, তার সতীর্থ তরুণ ফাস্ট বোলার রিপন মণ্ডল নিজেকে দারুণভাবে মেলে ধরেছেন। ধারাবাহিকভাবে সমীহ জাগানো বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্রেক-থ্রু এনে তিন ম্যাচে ৪/১৩, ২/৪৩ ও ২/২৭— এই পরিসংখ্যান নিয়ে উইকেটশিকারি হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন রিপন মণ্ডল।
কে জানে, বিশ্বকাপের দলে তানজিম সাকিবের পরিবর্তে রিপন মন্ডলকে দেখা গেলে অবাক হওয়ারও কিছু থাকবে না।
তবে যেহেতু বিপিএল শেষ হওয়ার আরও ৫ দিন পর্যন্ত দলে পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে, তাই বিপিএল শেষেই হয়ত রদবদলটা আসতে পারে। সোহান আর তানজিম সাকিব ছাড়াও কারো যদি কোন ইনজুরি থাকে, তাহলে তারও কপাল পুড়তে পারে।
এআরবি/আইএইচএস/
সর্বশেষ - খেলাধুলা
- ১ বিসিবি পরিচালকের মন্তব্যে অসন্তোষ, তামিমের পক্ষে সরব সতীর্থরা
- ২ চট্টগ্রামের বোলারদের তোপে রাজশাহীর বোর্ডে মাত্র ১২৮
- ৩ মাঠের পাশে বজ্রপাত, পরিত্যক্ত এসএ টি-টোয়েন্টির ম্যাচ
- ৪ তামিমকে ‘ভারতীয় দালাল’ বললেন বিসিবি পরিচালক, ক্রিকেটপাড়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া
- ৫ টস জিতে রাজশাহীকে ব্যাটিংয়ে পাঠালো টেবিল টপার চট্টগ্রাম