ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. খেলাধুলা

আইসিসি ‘না’ বলেনি, শ্রীলঙ্কায় খেলার সম্ভাবনা এখনো আছে বাংলাদেশের

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশিত: ০৯:০১ পিএম, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

আইসিসি আরও একবার বাংলাদেশকে সিদ্ধান্ত পাল্টানোর অনুরোধ করলো। ১৩ জানুয়ারি দুপুরে এক ভিডিও কনফারেন্সে আইসিসির তরফ থেকে আবারও বলা হলো ভারতেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ, মানে বিসিবিও জানিয়ে দিলো-আমরা অনড়। আগের সিদ্ধান্তেই বহাল আছি। ভারতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা সম্ভব নয়।

আইসিসি আর বিসিবি কেউই নিজের অবস্থান থেকে এক চুলও নড়েনি। আইসিসি প্রথম থেকেই ভারতে খেলার অনুরোধ করে আসছে। বাংলাদেশও নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বলে ভারতে না খেলার কথা জানিয়ে আসছে।

এরকম অবস্থায় আইসিসির সাথে ভিডিও কনফারেন্সেও কারও অবস্থানের রদবদল ঘটল না। আইসিসি থেকে বাংলাদেশকে আরও একবার সিদ্ধান্ত পাল্টানোর অনুরোধ জানানো হলো। বাংলাদেশও জানিয়ে দিলো-না, আমরা আগের অবস্থানেই আছি।

বাংলাদেশের এত আপত্তি ও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের পরও যখন কনফারেন্সে আইসিসি টাইগারদের ভারতে গিয়েই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বলছে, তখন খুব স্বাভাবিকভাবেই মনে হচ্ছে-বাংলাদেশের আর আশা নেই। এবারের মতো টাইগারদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন ভেঙে গেলো! ভক্তদের অনেকেই আশা ছেড়ে দিয়েছেন।

বিসিবির কী অবস্থা? আমিনুল ইসলাম বুলবুল আর বিসিবিও কি হাল ছেড়ে দিয়েছে? তাহলে আর শ্রীলঙ্কার মাটিতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলার কোনো সম্ভাবনাই নেই টাইগারদের?

এমন হতাশাজনক কথাবার্তা যখন ভক্তদের মনকে ভীষণভাবে আপ্লুত করছে, ঠিক তখন বিসিবি থেকে জানানো হলো-না, টাইগারদের ওয়ার্ল্ডকাপ প্রদীপ এখনো নেভেনি। সলতে হলেও জ্বলছে। কীভাবে?

আইসিসির সাথে ভিডিও কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন বিসিবি সহ-সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন। তার কণ্ঠে আশার বাণী, ‘না, আশা-ভরসা শেষ হয়ে যায়নি। আইসিসি তো আর সব শেষ বলেনি।’

দুই পক্ষের আলোচনার দরজাও বন্ধ হয়নি। খোলা আছে। বিসিবি সহ-সভাপতি আরও বলেন, ‘আমরা (বিসিবি) নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছি। আইসিসিও বিকল্প অনুসন্ধানে আছে। আলোচনা কিন্তু শেষ হয়নি।’

তাহলে কি এখনো মনে হয় বাংলাদেশের পক্ষে ইতিবাচক সম্ভাবনা আছে? এমন প্রশ্নের জবাবে শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমরা পজিটিভ পজিশনেই আছি। হাতে সময় খুব কম। কিছু কাজ খুব অচিরেই হবে। সংলাপ যখন শেষ হয়নি, শুরুর পর তা চলমান। কাজেই আমরা ধরে নিতে পারি, আমরা পজিটিভ অবস্থানেই আছি।’

কারও কারও ধারণা, আইসিসি ভারতের কাছ থেকে সর্বাধিক রাজস্ব পায়। ভারতের ক্রিকেটের প্রচার, প্রসার, বাজার, বাণিজ্য অনেক বড় এবং ক্রিকেট দল হিসেবে ভারত অনেক শক্তিশালী। তাই আইসিসি ভারতের কথায় ওঠে-বসে। আর সর্বোপরি ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পুত্র জয় শাহ এখন আইসিসির প্রেসিডেন্ট। তাই বুঝি বাংলাদেশের অনুরোধ ও নিরাপত্তা ঝুঁকির দাবিটা ধোপে টিকছে না।

আসলে তেমন নয়। এখানে ভারতের প্রভাবের বাইরে আরও অনেক ব্যাপার আছে। আইসিসি চাইলেই হুট করে কোনো ম্যাচ এক দেশ থেকে আরেক দেশে সরিয়ে দিতে পারে না।

বাংলাদেশের ৪ ম্যাচ ভারতের কলকাতা, মুম্বাই থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় দিতে হলে আইসিসিকে অনেক কাজ করতে হবে। শুধু ভারত নয়, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশের সব কটি প্রতিপক্ষ দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সাথে কথা বলতে হবে। তাদের সাথে কথা বলে মতামত নিতে হবে। সেই দলগুলো ভারত বাদ দিয়ে শ্রীলঙ্কায় গিয়ে বাংলাদেশের সাথে খেলতে রাজি হবে কি না, সেটাও বড় ব্যাপার।

নেপাল, ইতালি, ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড শ্রীলঙ্কায় গিয়ে খেলতে রাজি না হলে বিরাট সমস্যা দেখা দেবে। মোদ্দা কথা, গ্রুপের চার প্রতিযোগী দেশের বোর্ডের মতামতের ওপর ভিত্তি করে তারপর বাংলাদেশের খেলাগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের উদ্যোগ নিতে হবে।

এখন দেখার বিষয়-নেপাল, ইতালি, ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর ইংল্যান্ড শ্রীলঙ্কার মাটিতে গিয়ে বাংলাদেশের সাথে খেলতে রাজি হয় কি না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ আবার গ্রুপ পরিবর্তনের কথাও বলছেন। বাংলাদেশকে অন্য গ্রুপে নিলে ‘ল্যাঠা চুকে যায়’-এমন কথাও শোনা যাচ্ছে। তারা কেউ মাথায়ই আনছেন না যে, একটি গ্রুপ পরিবর্তন করলে পুরো ফিকশ্চার নতুন করে তৈরির প্রশ্ন দেখা দেবে। একটি টুর্নামেন্টের ফরম্যাট, ফিকশ্চার ও ভেন্যু নির্ধারিত হওয়ার পর রদবদল করা অনেক কঠিন।

তারপরও কি বাংলাদেশের আশা থাকবে? আইসিসি কি শেষ পর্যন্ত টিম বাংলাদেশের নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি আমলে এনে শ্রীলঙ্কায় সব কটি ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে?

এই প্রশ্ন করা হলে বিসিবির সিনিয়র সহ-সভাপতি, সাবেক বোর্ড প্রধান ফারুক আহমেদ জাগো নিউজকে মঙ্গলবার রাতে বলেন, ‘আসলে আমরা, মানে বিসিবি এবং বাংলাদেশ সরকার, ভারতের মাটিতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলবো না। সেটা শুধু বলাই হয়নি, বারবার বোঝানো হয়েছে।’

‘আইসিসি থেকেও তাদের অবস্থান আগের জায়গায়ই আছে। কিন্তু যেহেতু আইসিসি সরাসরি না করে দেয়নি; এমন বলেনি যে ভারতে গিয়ে না খেললে এবার আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা হবে না। বরং বলেছে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।’

‘তার মানে আলোচনার দরজা বন্ধ হয়নি, খোলা আছে। এরকম অবস্থায় আশা করাই যায় যে, আরও কিছু কথাবার্তা নিশ্চয়ই হবে। আমার মনে হয়, পরের আলোচনাগুলোয় বাংলাদেশের অবস্থানের দরজা আরও বেশি করে খুলতে পারে।’

ফারুক যোগ করেন, ‘এসব আলাপ-আলোচনায় এমনই হয়। প্রথম আলাপে দুই পক্ষই অনড় থাকে। তারপর যত সময় গড়ায় এবং আলোচনা দীর্ঘায়িত ও বিস্তৃত হয়, সম্ভাবনার দরজাও তত উন্মুক্ত হয়।’

ফারুকের ধারণা, বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ খেলার দরজাও পরের আলোচনা পর্বে আরও বেশি করে খুলতে পারে।

এআরবি/এমএমআর