ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. খেলাধুলা

নাজমুল নিজে পদত্যাগ না করলে অব্যাহতি দিতে পারবে না বিসিবি

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশিত: ০৫:৩৬ পিএম, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

 

বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম তামিম ইকবালকে যে ভাষায় ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে পোস্ট দিয়েছেন, কিছুতেই সেটা ভদ্রতার পর্যায়ে পড়ে না। একজন দেশবরেণ্য ক্রিকেটারকে সেই দেশের কোনো বোর্ড পরিচালক অন্য আরেক দেশের ‘দালাল’ বলতে পারেন না। এটা ভদ্রতা, শিষ্টাচারের বাইরে।

স্বাভাবিকভাবেই আশা করা হয়েছিল যে, তামিমকে অমন খারাপ কথা বলার পর আপনাআপনি পোস্ট দিয়ে ‘সরি’ বলবেন এম নাজমুল ইসলাম। কিংবা ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করবেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি তার ধার-কাছ দিয়েও যাননি। উল্টো নিজেকেই ‘ডিফেন্ড’ করেছেন।

তাতেই থেমে থাকেনি তার মুখ। বুধবার বিকেলে সাংবাদিকদের সাথে আলাপে নাজমুল ইসলাম বোঝানোর চেষ্টা করেন ক্রিকেটাররা নয়, আগে বোর্ড। এবং তাদের বেতন-ভাতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

এতসব নেতিবাচক কথা বলে নাজমুল ইসলাম এখন রীতিমত ক্রিকেটারদের চক্ষুশূল হয়ে পড়েছেন। ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (কোয়াব) প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মিঠুন, নুরুল হাসান সোহান, সামসুর রহমান শুভ, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাসরা আজ বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়ে দেন, আগে নাজমুলের পদত্যাগ। তারপর আমরা মাঠে ফিরবো।

তাদের অনমনীয়তার কারণেই আজ দুপুর একটার বিপিএল ম্যাচ মাঠে গড়ায়নি। প্রথম ম্যাচটি হয়নি। দ্বিতীয় ম্যাচ, এমনকি বিপিএলই বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

এদিকে বিসিবি ক্রিকেটারদের বিস্ফোরণমুখর অবস্থা দেখে এম নাজমুল ইসলামকে অর্থ কমিটি চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, এতে করে কি কোয়াব ও ক্রিকেটারদের মন গলবে? তারা কি আলটিমেটাম তুলে মাঠে ফিরবেন?

এ প্রশ্ন যখন চারদিকে, তখন আরও একটি প্রশ্ন উঠেছে। তাহলো, নাজমুল ইসলাম যেহেতু নিজে পদত্যাগ করেননি, তাই বিসিবি কেন তাকে শুধু শোকজ করেই ক্ষান্ত আছে? পদচ্যুত করছে না কেন?

খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, বিসিবি কোনো পরিচালককে পদচ্যুত করতে পারবে না। কারণ বিসিবির গঠনতন্ত্রেই সরাসরি কোনো পরিচালককে অব্যাহতি দেওয়ার নজির নেই।

তাহলে কী আছে? বিসিবির গঠনতন্ত্রে বলা আছে, কিছু বিশেষ কারণে বা সময়েই কোনো পরিচালককে অব্যাহতি দেওয়া যাবে। সেই বিশেষ কারণগুলো কী কী?

কারো মৃত্যু ঘটলে অনিবার্যভাবে তার পরিচালক পদের ইতি ঘটবে। এছাড়া যদি কেউ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন কিংবা দেশের ফৌজদারি আইনে দোষী সাব্যস্ত হলে; অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়লে এবং পরপর তিনটি বোর্ড সভায় যৌক্তিক কারণ ছাড়া অনুপস্থিত থাকলেই কেবল পরিচালক থাকবেন না। নাজমুল ইসলাম ওপরেউল্লিখিত কোনো ক্রাইটেরিয়ার মধ্যেই পড়েন না। তাই তাকে সরাসরি পদচ্যুত করার উপায় নেই বিসিবির।

কেউ কেউ হয়তো প্রশ্ন করবেন, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নিলে যখন নাজমুল হোসেন পাপনের বোর্ড ভেঙে ফারুক আহমেদের নেতৃত্বে নতুন বোর্ড গঠিত হয়, তখন কিন্তু পাপনের বোর্ড সভার দুই পরিচালক আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি ও জালাল ইউনুস ছিলেন।

কারণ হলো, জালাল ও ববি ছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মনোনীত পরিচালক। কিন্তু এম নাজমুল ইসলাম এসেছেন ক্লাব কোটায়। তাই এনএসসিও তার বোর্ড কাউন্সিলরশিপ তথা পরিচালক পদ থেকে চ্যুত করতে পারবে না।

এআরবি/এমএমআর