ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. খেলাধুলা

সপ্তাহের ব্যবধানে হাসানের আক্ষেপ এখন সেঞ্চুরিতে পূর্ণ

সৌরভ কুমার দাস | প্রকাশিত: ০৪:৫৩ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬

ইনিংসের শেষ ওভার। আকিফ জাভেদের বলটা সীমানার বাইরে পাঠিয়েই দু’হাত মুঠো করে বাতাসে ঘুষি ছুঁড়লেন হাসান ইশাখিল। হেলমেট খুলে উদযাপন শুরু করবেন— ঠিক সেই মুহূর্তে দৌড়ে এসে হায়দার আলী থামিয়ে দিলেন, ‘দাঁড়াও, দাঁড়াও… এখনো এক রান বাকি!’

৯৯ রানেই ভেবে বসেছিলেন সেঞ্চুরি হয়ে গেছে। একটু থমকে যাওয়া, তারপর নিজের ভুলটা বুঝে লাজুক হাসি। তবে অপেক্ষা করতে হলো মাত্র এক বল। পরের ডেলিভারিতেই সিঙ্গেল নিয়ে ছুটে গেলেন ক্যারিয়ারের প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরির উচ্ছ্বাসে। ধীরস্থিরভাবে শুরু করা ইনিংসটা শেষ পর্যন্ত রূপ নিল এক আবেগী, বিধ্বংসী গল্পে— যেখানে ছিল স্বপ্ন, ভুল, সংশোধন আর মুক্তির আনন্দ।

সিলেটের সেই ১১ জানুয়ারি এখনো চোখে ভাসে। ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে বিপিএল অভিষেকে বাবা মোহাম্মদ নবির সঙ্গে জুটি বেধে ইতিহাস গড়েছিলেন হাসান ইশাখিল। সেদিন দুর্দান্ত খেলেও সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়ে ফিরতে হয়েছিল আক্ষেপ নিয়ে। ঠিক এক সপ্তাহ পর সেই অপূর্ণতার জবাব দিলেন ব্যাটেই।

রোববার মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ওপেনার হিসেবে খেললেন টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। ৭২ বল খেলে ১১ ছক্কা আর ৪ চারে অপরাজিত ১০৭ রান— যে ইনিংসে নোয়াখালীর মোট ১২ ছক্কার মধ্যে ১১টিই এল তার ব্যাট থেকে।

আক্ষেপের জায়গায় এবার শুধুই তৃপ্তি, আর চোখভরা গর্ব। চলতি বিপিএলে এটি দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। এর আগে আসরের উদ্বোধনী দিনেই সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে ১০১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

এবার, এই ম্যাচে অবশ্য হাসানের সঙ্গে বাবা নবি ছিলেন না। জাতীয় দলের সিরিজ থাকায় বিপিএল ছেড়ে গেছেন কয়েক দিন আগেই। তবে নবিরও আক্ষেপ মিটল, দূর থেকে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে গর্বে বুকটা ফুলে উঠল হয়তো তার। সিলেটে ১১ জানুয়ারি ৯২ রানে আউট হয়েছিলেন হাসান।

সেদিন ম্যাচ শেষে আক্ষেপ নিয়ে নবী বলেছিলেন, ‘আমার জন্যই ওর সেঞ্চুরিটা হলো না। আমি থাকলে সাহস পেত। আমি আউট হওয়ার পর খুব নার্ভাস হয়ে গেছে। উচিত ছিল সেঞ্চুরি পর্যন্ত ওর সঙ্গ দেওয়া।’

সেদিন নবি আউট হওয়ার দুই বল পরেই ৯২ রানে ফিরে যান ইশাখিল। আজ সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসে নিশ্চিতভাবেই মুখে হাসি নিয়ে মনে মনে গর্বিত হচ্ছেন মোহাম্মদ নবি।

রোববার অবশ্য হাসানের শুরুটা এমন ছিল না। শুরুতে রংপুরের বোলারদের বিপক্ষে বেশ ভুগতে দেখা গেছে তাকে। পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেট হারিয়ে ৩৩ রান ছিল নোয়াখালীর। তখন ২৫ বলে ২০ রান জমা হয়েছিল হাসানের নামের পাশে। পরের ১৮ বলে আরও ভুগলেন, করতে পারলেন মাত্র ৫ রান। এভাবে খোঁড়াতে খোঁড়াতে ৫০ বলে পূর্ণ করেন ফিফটি। অবশ্য ফিফটি করতেই ৪টি ছক্কা আর ৩টি চার মেরেছেন এই ডানহাতি ব্যাটার। এরপরই ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন হাসান। পরের ২০ বলে করেন আরও ৫০ রান। ৭০ বলে পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। এই ২০ বলে ছক্কা মেরেছেন আরও ৭টি।

৭২ বলের ইনিংসে হাসানের নিয়ন্ত্রণ ছিল ৭৫ শতাংশ বলে। সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যে ছিলেন পুল শটে, যেখান থেকে করেছেন ৬ ছক্কা ও ১ চারে ৪০ রান। এদিন হাসানের আগ্রাসনের সবচেয়ে বেশি শিকার হয়েছেন রংপুরের পাকিস্তানি বোলার আকিফ জাভেদ। এই পেসারের ১২ বলে মুখোমুখি হয়ে ৪ ছক্কায় ২৯ রান নিয়েছেন হাসান।

এরপর বাংলাদেশি নাহিদ রানার ১৭ বল খেলে ৩ ছক্কা আর ১ চারে নিয়েছেন ২৮ রান। হাসানের মুখোমুখি হয়ে ১৫ বলে ১৯ রান দিয়েছেন আরেক পাকিস্তানি ফাহিম আশরাফ। খুশদিল শাহর ১৪ বলে ১৫ রান নিয়েছেন হাসান। সবচেয়ে কম রান দিয়েছেন বাংলাদেশি স্পিনার আলিস আল ইসলাম। ১৪ বল করে হাসানের বিপক্ষে ১৬ রান দিয়েছেন এই স্পিনার।

১০৭ রানের ইনিংসে হাসান ৬৬ রান করেছেন ছক্কা থেকে। চার মেরেছেন ৪টি। ৪ ডাবলে এসেছে ৮ রান আর সিঙ্গেল নিয়েছেন ১৭টি। সবচেয়ে বেশি ৩৫ রান করেছেন মিড উইকেট অঞ্চল দিয়ে। এ ছাড়া এক্সট্রা কাভার থেকে হাসানের ব্যাট থেকে এসেছে ২৬ রান। ফাইন লেগ থেকে করেছেন তৃতীয় সর্বোচ্চ ২১ রান। লং অন অঞ্চল থেকে এসেছে আরও ১৭ রান।

হাসান এদিন পুরো ২০ ওভার ব্যাটিং করে জুটি গড়েছেন ভিন্ন ৩ জনের সঙ্গে। প্রথম উইকেটে রহমত আলীকে নিয়ে হাসানের জুটি হয়েছে ৩৪ বলে ৩২ রানের। দ্বিতীয় উইকেটের জুটি অবশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি—জাকের আলীর সঙ্গে জুটি হয় মাত্র ৪ রানের, সেটাও ১৩ বল খেলে। এরপর নোয়াখালী এক্সপ্রেস অধিনায়ক হায়দার আলীকে নিয়ে গড়েছেন নিরবচ্ছিন্ন ১৩৭ রানের জুটি, মাত্র ৭৪ বলে। হাসানের শুরু আর শেষ যেমন, নোয়াখালীর দলীয় ইনিংসও ঠিক তেমন। পাওয়ার প্লেতে ৩৩ রান তোলা দলটি মাঝের ওভারগুলোতে তুলেছে ৭৬ রান। সেই একই দল শেষ ৪ ওভারে তুলেছে ৬৪ রান— যেখানে হাসানের অবদানই বেশি।

এসকেডি/আইএইচএস/