ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. খেলাধুলা

‘আমি তাসকিনকে ফলো করি, পরামর্শ নিই’

সৌরভ কুমার দাস | প্রকাশিত: ১০:০৯ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬

জিয়াউর রহমান শরিফি, আফগানিস্তানের ২৭ বছর বয়সী পেস বোলার। এবার বিপিএল খেললেন ঢাকা ক্যাপিটালসের জার্সিতে। আফগানিস্তানের উঠতি পেসারদের মধ্যে দারুণ সম্ভাবনাময়ী এই তরুণ বিপিএল খেলতে এসে তাসকিন আহমেদের ভক্ত বনে গেছেন। রীতিমতো তাকে ফলো করেন, পরামর্শ নেন এই ডানহাতি পেসার।

এবারের বিপিএলে ৬ ম্যাচে ৭ উইকেট নিয়েছেন ঢাকার এই পেসার। সম্প্রতি নিজের ক্যারিয়ার, বিপিএল, আর তাসকিনের প্রতি মুগ্ধতাসহ নানা বিষয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে লম্বা আলাপ হয়েছে জিয়ার। তারই চুম্বক অংশ এখানে দেওয়া হলো-

প্রশ্ন: এবারে বিপিএল কেমন, কিভাবে উপভোগ করলেন?

জিয়া: প্রথমেই বলতে চাই, বিপিএল-২০২৬ খেলতে পেরে আমি ভীষণ রোমাঞ্চিত। আমাদের ম্যানেজমেন্ট, সতীর্থরা, অফিসিয়াল— সবার প্রতি আমি খুব খুশি। আলহামদুলিল্লাহ, এ টুর্নামেন্টটা আমার জন্য খুব ভালো গেছে। কারণ আমি এখানে ভালো বোলিং করতে পেরেছি। এখন আমার নাম জাতীয় দলেও এসেছে। ইনশাআল্লাহ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জাতীয় দলে যোগ দিতে যাচ্ছি। এটা আমার জন্য সত্যিই খুব ভালো খবর।

প্রশ্ন: আপনি কি মনে করেন বিপিএল জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার জন্য একটা আদর্শ প্ল্যাটফর্ম?

জিয়া: বিপিএলের আগেই আমি বিশ্বকাপের রিজার্ভ স্কোয়াডে ছিলাম। তবে এই টুর্নামেন্টটা আমার জন্য অনেক সাহায্য করেছে। এখানে আমি অনেক কিছু শিখেছি। বিশেষ করে আমাদের সিনিয়র বোলারদের কাছ থেকে। যেমন তাসকিন আহমেদ, সাইফউদ্দিন। তারা আমার সঙ্গে কাজ করেছে। ম্যাচ পরিস্থিতি নিয়ে, ব্যাটারদের বিপক্ষে কিভাবে বোলিং করতে হবে— এ বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছে। যেহেতু তারা সিনিয়র, তাই তাদের কাছ থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। আমি তাদের প্রতি খুব কৃতজ্ঞ।

প্রশ্ন: তাসকিনের কাছ থেকে নির্দিষ্টভাবে কী শিখেছেন?

জিয়া: ম্যাচের সময় তিনি আমার সঙ্গে অনেক কথা বলেছে। যেমন, কোনো উইকেট পেস বোলিংয়ের জন্য ভালো নয়, তখন কিভাবে ভ্যারিয়েশন ব্যবহার করতে হবে। ইয়র্কার করতে হবে, গতি পরিবর্তন করতে হবে। আবার কোনো উইকেট পেসারদের জন্য ভালো হলে সেখানে হার্ড লেন্থে বল করতে হবে। তিনি বলেছিলেন, এমন উইকেটে ঠিকঠাক জায়গায় বল করলে ফল ভালোই আসবে, ইনশাআল্লাহ। আমি ওদের কাছ থেকে অনেক অনুপ্রাণিত।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের উইকেটগুলো পেস বোলারদের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং?

জিয়া: আমি সিলেটে ম্যাচ খেলেছি। কিছু উইকেট কখনো ফাস্ট বোলিংয়ের জন্য ভালো ছিল, কখনো ব্যাটিংয়ের জন্য, আবার কখনো স্পিনারদের জন্য। তবে আমরা সবসময় চেষ্টা করেছি টুর্নামেন্টে ভালো বোলিং করার। আলহামদুলিল্লাহ, নিজের পারফরম্যান্সে আমি সন্তুষ্ট।

প্রশ্ন: আপনি আফগানিস্তানের খেলোয়াড়। আপনার দেশে তো অনেক লেগ স্পিনার আছে। এমন দেশে পেস বোলার হিসেবে বড় হওয়াটা কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল?

জিয়া: হ্যাঁ, আফগানিস্তানে অনেক লেগ স্পিনার, অনেক স্পিন বোলার আছে। তবে আমি ২০১৫ সাল থেকে ক্রিকেট খেলছি। টেনিস ক্রিকেট দিয়ে শুরু করি। তখন আমি ফাস্ট বোলার ছিলাম, ব্যাটারও ছিলাম। শুরু থেকেই আমার ফাস্ট বোলিং ভালো ছিল। তাই এই জায়গাটায় আমি এগিয়ে যাই।

প্রশ্ন: আপনার দেশে ক্রিকেটে বড় হওয়ার পথে কী ধরনের সংগ্রাম করতে হয়?

জিয়া: এখন আর তেমন সংগ্রাম নেই বললেই চলে। আমাদের দলের পারফরম্যান্স ভালো, ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তারাও অনেক কাজ করছেন। তারা ক্রিকেটকে আরও উন্নত করতে চান। এখন সবকিছু অনেক সহজ হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। সুযোগ-সুবিধা, মাঠ, একাডেমি— সবকিছুই এখন ভালো। সব মিলিয়ে খেলোয়াড়রাও খুশি।

প্রশ্ন: বাংলাদেশে তো মোস্তাফিজুর রহমান আছেন, তাকে অনুসরণ করেন বা তার সঙ্গে কথা হয়েছে?

জিয়া: সরাসরি তার সঙ্গে আলোচনা হয়নি। তবে আমি তাকে খুব ফলো করি। সে বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলার। তার ভ্যারিয়েশন, পেস বোলিং, মানসিক শক্তি— সবই অসাধারণ। ম্যাচের পরিস্থিতি সে খুব দ্রুত বুঝতে পারে। সে সত্যিই সেরা বোলারদের একজন।

প্রশ্ন: সাম্প্রতিক সময়ে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান বেশ প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠছে...!

জিয়া: হ্যাঁ, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা দারুণ। দুই দলই একে অপরকে চ্যালেঞ্জ করে। বাংলাদেশ ভালো দল, আফগানিস্তানও ভালো দল। ম্যাচগুলো কখনোই একপেশে হয় না। দর্শক হিসেবে এগুলো দেখতে আমার খুব ভালো লাগে।

প্রশ্ন: আফগানিস্তানে কেন এত স্পিনার, অথচ পাশের দেশ পাকিস্তানে এত পেসার...!

জিয়া: আমাদের দেশে মুজিব-উর রহমান, রশিদ খান, মোহাম্মদ নবি, মোহাম্মদ গজনফর, নূর আহমদের মতো বিখ্যাত স্পিনার আছে। তারা বিশ্ব ক্রিকেটে বড় নাম। আমাদের কিছু ফাস্ট বোলারও আছে। আজমাতুল্লাহ ওমরজাই, নাভিন-উল হক, ফজলহক ফারুকি। তবে আমাদের তরুণ প্রজন্ম মূলত রশিদ, মুজিবদের অনুসরণ করে। তাই নতুন প্রজন্মের অনেকেই স্পিনার হতে চায়।

প্রশ্ন: কয়েকদিন আগে মোহাম্মদ নবি ও তার ছেলে একইসঙ্গে ম্যাচে খেলেছেন...!

জিয়া: হ্যাঁ, এটা তার (হাসান ইশাখিল) বাবার (মোহাম্মদ নবি) জন্য, আমাদের সবার জন্যই গর্বের মুহূর্ত। এটা ছিল ইতিহাসের দিন। বাবা-ছেলে একসঙ্গে বড় লিগে খেলেছে। ছেলেটা দারুণ খেলেছে। হাসান ৯২ রান করেছে— মাশাআল্লাহ। অসাধারণ ইনিংস খেলেছে। (শেষ ম্যাচে, রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে খেলেছে ১০৭ রানের ইনিংস)।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের আপনার প্রিয় ক্রিকেটার কে?

জিয়া: আমার প্রিয় ক্রিকেটার তাসকিন আহমেদ। আমি তাকে নিয়মিত ফলো করি। সে খুব ভালো মানুষ।

প্রশ্ন: এখন তো আপনারা বন্ধু, সতীর্থও!

জিয়া: হ্যাঁ, এখন তিনি আমাদের বন্ধু, আমাদের টিমমেট। তার সঙ্গে খেলতে পেরে আমি খুব খুশি।

প্রশ্ন: ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজে আপনার লক্ষ্য কী?

জিয়া: আমার লক্ষ্য খুব সহজ— আমি আমার সেরাটা দেব। সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। ফলাফল শেষে দেখা যাবে কি হয়! ইনশাআল্লাহ, সব ঠিক হবে।

এসকেডি/আইএইচএস/