সিলেটকে কাঁদিয়ে বিপিএলের ফাইনালে রাজশাহী
দুই ওপেনার ভালো শুরু পরও ব্যাটিং বিপর্যয়ে চাপে পড়লো। এরপর দুই কিউই কেন উইলিয়ামসন ও জিমি নিশামের লড়াকু ইনিংসে ১৬৫ রানের মাঝারি পুঁজি পায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। এরপর বিনুরা ফার্নান্দো শুরুতেই ধাক্কা দেন সিলেটকে। এরপর তারা ঘুরে দাঁড়ালেও সময়মতো আবার ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় রাজশাহী।
শেষের দিকে ডেথ ওভারে তানজিম সাকিব-বিনুরা-সাকলাইনদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে আর পেরে ওঠেনি সিলেট টাইটান্স। প্রথম কোয়ালিফায়ারে হেরে গেলেও টেবিল টপার হিসেবে ফাইনালে ওঠার আরেকটি সুযোগ পেয়েছিল রাজশাহী। সেটা দুর্দান্তভাবে কাজে লাগিয়ে সিলেটকে কাঁদিয়ে ফাইনালে উঠে গেলো নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
বুধবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে সিলেট টাইটান্সকে ১২ রানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। টস হেরে আগে ব্যাট করে কেন উইলিয়ামসন ও জিমি নিশামের চল্লিশোর্ধ ইনিংসে ১৬৫ রান করে রাজশাহী। জবাবে ১৫৩ রানে শেষ হয় সিলেটের ইনিংস। আগামী শুক্রবার ফাইনালে রাজশাহীর প্রতিপক্ষ চট্টগ্রাম রয়্যালস।
রান তাড়ায় শুরুতেই চাপে পড়ে সিলেট। প্রথম ৪ ওভারের মধ্যে জাকির ও আরিফুলের উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৮ রান তুলতে পারে দলটি। দুটি উইকেটই নিয়েছেন বিনুরা। দুটো ক্যাচই নিয়েছেন শাহিবজাদা ফারহান।
তবে এরপর পারভেজ হোসেন ইমন অন্যপ্রান্তে পালটা আক্রমণ শুরু করেন। তৃতীয় ওভারে দুই চারের পর চতুর্থ ওভারে ২ চার ও ১ ছক্কা হাঁকান এই বাঁ-হাতি ওপেনার। এতে ৬ ওভারের পাওয়ার প্লেতে সিলেটের স্কোরবোর্ডে জমা হয় ৩৭ রান। পরের ওভারে ইমন ও স্যাম বিলিংস হাঁকান একটি করে ছক্কা। ১০ ওভার শেষে সিলেটের রান ছিল ২উইকেট হারিয়ে ৭০ রান।
১১তম ওভারে রান আউট হয়ে ফেরেন ইমন। নিজের বলে নিজেই ফিল্ডিং করে সরাসরি থ্রোতে স্ট্যাম্প ভাঙেন তানজিম সাকিব। ১২তম ওভারে লং অনে স্যাম বিলিংসের ক্যাচ ফেলেন কেন উইলিয়ামসন। ২৮ রানে জীবন পাওয়া বিলিংস পরে করেন আরও ৯ রান। ৩৭ রান করে সাকলায়েনের বলে আউট হয়েছেন বিলিংস। মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা মারতে ক্যাচ দিয়েছেন ফারহানের হাতে। এর আগের ওভারে মঈন আলিকেও হারায় সিলেট, দুর্দান্ত ডেলিভারিতে উইকেট তুলে নেন অফ স্পিনার মোহাম্মদ রুবেল।
শেষ ৫ ওভারে সিলেটের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৪৭ রান। ১৬তম ওভারে আসে ৬ রান। ১৭তম ওভারে ১১ বলে ২১ রান করা আফিফ হোসেনের উইকেট তুলে নেন তানজিম সাকিব। শেষ তিন ওভারে সমীকরণ দাঁড়ায় ৩৪ রানের। ১৮তম ওভারের প্রথম বলেই সিলেট অধিনায়ক মিরাজকে বিদায় করেন রাজশাহীর শ্রীলঙ্কান পেসার বিনুরা ফার্নান্দো।
প্রথম স্পেলে ২ উইকেট নেওয়া এই পেসার দ্বিতীয় স্পেলে ফিরেই পান উইকেটের দেখা। এরপর উইকেটে এসেই প্রথম বলে চার রান এনে দেন খালেদ আহমেদ। তবে পরের বলেই তার বিশাল এক শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ছক্কা বাঁচিয়ে পরে সেটাকে ক্যাচে পরিণত করেন রাজশাহী পাকিস্তানি ফিল্ডার সাহিবজাদা ফারহান।
ওই ওভারে আসে মাত্র ৫ রান। শেষ ২ ওভারে তখন সমীকরণ দাঁড়ায় ২৯ রানের। ১৯ তম ওভারেও মাত্র ৫ রান খরচ করেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন। শেষ ওভারে ২৪ রানের সমীকরণ আর মেলাতে পারেননি আগের ম্যাচে সিলেটকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দেওয়া ক্রিস ওকস।।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে এদিন দুর্দান্ত শুরু পায় রাজশাহী, প্রথম ২ ওভারেই স্কোরবোর্ডে জমা হয় ২৬ রান। এর ২৩ রানই আসে শাহিবজাদা ফারহানের ব্যাট থেকে। তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনি। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে তাকে ফিরিয়ে দেন সিলেটের পাকিস্তানি বোলার সালমান ইরশাদ। এতে ভাঙে ৪১ রানের জুটি। ফারহান করেন ২১ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ২৬ রান। এরপর পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে মঈন আলীকে ৩ ছক্কা হাঁকান রাজশাহীর ওপেনার তানজীদ হাসান তামিম। এতে দলটির স্কোরবোর্ডে জমা হয় ৬১ রান।
পাওয়ার প্লের পরের ৪ ওভারে রাজশাহীকে বড় ধাক্কা দেয় সিলেট। ১০ম ওভারে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিমকে টানা দুই বলে ফেরত পাঠান সিলেট অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ১০ ওভার শেষে রাজশাহীর স্কোরবোর্ডে জমা হয় ৭৯ রান। অর্থাৎ পাওয়ার প্লের পরের ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান তুলতে পেরেছে শান্তর দল।
এরপর মেহরাব হোসেন জুনিয়রও ফিরে যান আগেভাগে। ৬১ রানে ১ উইকেট থেকে ৫ উইকেটে ৮০ রানে পরিণত হয় রাজশাহী। মাত্র ১৯ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর কেন উইলিয়ামসনের সঙ্গে যোগ দেন তার স্বদেশী জিমি নিশাম। আগে থেকে একপাশ আগলে ইনিংস টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন উইলিয়ামসন, নিশাম এসে স্কোরবোর্ডের চাকাতেও গতি বাড়ান। ১২ আর ১৫, দুই ওভারেই দুটি করে চার হাঁকান এই বাঁহাতি ব্যাটার। ১৫ ওভারে রাজশাহীর রান ছিল ৫ উইকেটে ১১৬ রান।
১৬তম ওভার করতে আসা খালেদ আহমেদকে দ্বিতীয় বলে ছক্কা হাঁকান জিমি। ঠিক পরের বলে কাভারে তার সহজ ক্যাচ ফেলেন সিলেট অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। তখন ১৮ বলে ৩১ রানে ব্যাটিং করছিলেন নিশাম।
১৭তম ওভারে দুর্দান্ত বোলিং করেন সিলেটের ইরশাদ। ওই ওভার থেকে মাত্র ৬ রান নিতে পারেন উইলিয়ামসন ও নিশাম। পরের ওভারে ৪ মেরে শুরু করেন উইলিয়ামসন। ওভারের শেষ বলে মিড উইকেট দিয়ে নিশাম হাঁকান বিশাল এক ছক্কা। ওই ওভার থেকে আসে ১৪ রান।
পরের ওভারের দ্বিতীয় বলে ক্রিস ওকসকে ছক্কা হাঁকান কেন উইলিয়ামসন। এক বল পর ছক্কা হাকাতে গিয়ে আউট হন নিশাম। ওকেসের শিকার হয়ে ফের আগে খেলেন ৪৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। ২৬ বলের ইনিংসে তার ব্যাট থেকে আসে ৪ চার ও ২ ছক্কা। শেষ ওভারে মাত্র ৭ রান এসে দেড়শ ছাড়ানো পুঁজি পায় রাজশাহী। ৪৫ রানে অপরাজিত থেকে যান উইলিয়ামসন।
এসকেডি/আইএইচএস/