ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. খেলাধুলা

বিপিএল ফাইনাল

তামিমের ঝোড়ো সেঞ্চুরিতে রাজশাহীর চ্যালেঞ্জিং পুঁজি

ক্রীড়া প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৮:০০ পিএম, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

শুরুটা হলো সতর্ক, এরপর যখন খোলস ছেড়ে বের হলেন তখন হয়ে উঠলেন আগ্রাসী। ইনিংসের শেষ পর্যন্ত সেই আগ্রাসী রুপ ধরে রেখে চট্টগ্রাম রয়্যালস বোলারদের উপর রীতিমত তাণ্ডব চালিয়ে গেছেন তানজিদ হাসান তামিম।

শুরুতে সাহিবজাদা ফারহান, এরপর কখনো কেন উইলিয়ামসন, কখনো জিমি নিশামরা সঙ্গ দিয়ে গেছেন। তবে একপ্রান্তে ঠিকই চট্টগ্রাম বোলারদের কচুকাটা করে গেছেন তামিম, মেরেছেন একের পর এক বিশাল ছক্কা। চার-ছক্কার বন্যা বইয়ে তুলে নেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি। আর তাতে ফাইনালের মঞ্চে রাজশাহী পায় বড় সংগ্রহ।

শুক্রবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপিএলের দ্বাদশ আসরের ফাইনালে আগে ব্যাটিং করে ৪ উইকেটে ১৭৪ রান করেছে রাজশাহী। অর্থাৎ জিততে হলে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে করতে হবে ১৭৫ রান।

বিধ্বংসী সেঞ্চুরি করেছেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। ৬২ বলের ইনিংসে ৬টি চার ও ৭টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। চট্টগ্রামের হয়ে ৪ ওভারে ২০ রান খরচায় ২ উইকেট নেন মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা রাজশাহীকে এদিন দুর্দান্ত শুরু এনে দেন দুই ওপেনার তানজিদ তামিম ও সাহিবজাদা ফারহান। তবে প্রথম দুই ওভার কিছুটা সতর্ক হয়েই খেলেছেন তাঁরা। যদিও বড় শট খেলার চেষ্টাও ছিল ফারহানের মধ্যে। শরিফুলের প্রথম ওভারে মাত্র ১ রান এলেও মুকিদুলের করা পরের ওভারে এসেছে ১টি বাউন্ডারিসহ ৮ রান। পাওয়ার প্লেতে রাজশাহীর স্কোরবোর্ডে জমা হয় ৪০ রান।

সপ্তম ওভার থেকে আগ্রাসী রুপ ধারণ করেন তামিম। ওই ওভারেই হাঁকান দুই ছক্কা। পরের ওভারে ছক্কা আসে ফারহানের ব্যাট থেকে। ৯ম ওভারে তামিম হাঁকান আরও এক জোড়া ছক্কা। দশম ওভারে ব্যক্তিগত ২৯ বলে ক্যারিয়ারের ২১তম ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। এর মধ্যেই ৬টি ছক্কা এসেছে এই বাঁহাতি ওপেনারের ব্যাট থেকে।

১০ ওভার শেষে রাজশাহীর রান ছিল ৮২। পরের ওভারে ভাঙে রাজশাহীর ৮৩ রানের উদ্বোধনী জুটি। ৩০ বলে ৩০ রান করা ফারহানকে ফিরিয়ে চট্টগ্রামকে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেনে মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ।

১২তম ওভারে তামিমকে ফেরানো সুযোগ হাতছাড়া করে রাজশাহী। ব্যক্তিগত ৫৪ রানে থাকা তামিমের ক্যাচ ফেলেন মুগ্ধ। আমের জামালের বলে স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়েছিলেন তামিম। তবে হাতে নিয়েও ধরে রাখতে পারেননি মুগ্ধ। এরপর মুগ্ধর উপর রীতিমতো ক্ষেপে যান জামাল। দৌড়ে এসে তাকে শান্ত করেন চট্টগ্রাম অধিনায়ক শেখ মেহেদী। ১৫ ওভার শেষে রাজশাহীর সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেট হারিয়ে ১২১ রান।

তিন নম্বরে নামা কেন উইলিয়ামসনও এদিন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাটিং করছিলেন। ১৬তম ওভারে শরিফুলের শিকার হওয়ার আগে এই কিউই ব্যাটার করেন ১৫ বলে ২৪ রান। যেখানে ছিল এক চার ও এক ছক্কা। তার বিদায়ে ভাঙে তামিমের সঙ্গে ৪৭ রানের জুটি।

সঙ্গী হারালেও আক্রমণ চালিয়ে গেছেন তামিম। ১৭তম ওভারেই তার ব্যাট থেকে আসে ৩ চার। তবে ওই ওভারেই তাকে ফেরানোর দ্বিতীয় সুযোগ হাতছাড়া করে রাজশাহী। পরের ওভারেই শেখ মেহেদীকে কাভারের উপর দিয়ে বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে সেঞ্চুরির আরও কাছে পৌঁছে যান তামিম। ১৯তম ওভারে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন, তবে আউট হয়ে যান পরের বলেই। শেষ দুই ওভারে ১৫ রান হওয়ায় ১৮০ রানের আগেই থামতে হয় রাজশাহীকে। অথচ এক সময়ে মনে হচ্ছিল ২০০ পার হয়ে যাবে দলটির সংগ্রহ।

এসকেডি/এমএমআর