বিপিএলে আম্পায়ারিং নিয়ে খুশি টফেল, ঘরোয়া ক্রিকেট নিয়েও আশাবাদী
বাংলাদেশের আম্পায়ারিং মান নিয়ে আশাবাদী আইসিসির সাবেক এলিট আম্পায়ার সাইমন টফেল। বিপিএলে আন্তর্জাতিক প্যানেলের বাংলাদেশি আম্পায়ারদের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে তিনি বলেছেন, আম্পায়ারিংয়ের মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে, যদিও উন্নতির কোনো শেষ নেই।
বিপিএল শেষে ম্যাচ রেফারিদের জন্য দুইদিনের কর্মশালার আয়োজন করে বিসিবি। সোমবার কর্মশালা শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসেন টফেল। সেখানে বাংলাদেশি আম্পায়ারদের মান নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি বাংলাদেশি আম্পায়ারদের রেটিং দিয়ে কোনো হেডলাইন বানাতে চাই না। তবে তারা বেশ ভালো। বিপিএলে আন্তর্জাতিক প্যানেলের আম্পায়ারদের মান অনেক উন্নত ছিল। ফাইনালে বাংলাদেশের তিনজন আম্পায়ারকে দেখা ছিল দারুণ ব্যাপার।’
বিপিএলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে আম্পায়ারিং নিয়ে কোনো বিতর্ক না থাকাকেও বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন টফেল। তিনি বলেন, ‘প্লে-অফ বা ফাইনালে কেউ আম্পায়ারিং নিয়ে কথা বলেনি—এটা একটি বড় অর্জন। আমরা বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটেও এমন পরিবেশ দেখতে চাই।’
তবে উন্নতির জায়গা এখনো রয়েছে বলে মনে করেন টফেল। তার ভাষায়, ‘উন্নতির কোনো শেষ নেই। আমরা প্যানেলের আকার কিছুটা কমিয়ে পারফরম্যান্সের মান ও ধারাবাহিকতা বাড়ানোর চেষ্টা করছি। খেলোয়াড়রাও সেটাই চায়।’
আম্পায়ারদের বড় ভুল প্রসঙ্গে টফেলের মত, ভুল করা মানবিক। ‘সব আম্পায়ারই ভুল করেন। আমিও সবসময় ভুল করি,’ বলেন তিনি।
ম্যাচ অফিসিয়ালদের ম্যানেজমেন্ট কাঠামো আরও শক্তিশালী করা, প্রযুক্তিগত সম্পদ বাড়ানো এবং ক্যামেরা কাভারেজ উন্নত করা জরুরি বলে মনে করেন টফেল। তিনি বলেন, ‘ঘরোয়া পর্যায়ে যত ভালো মূল্যায়ন করা যাবে, বিপিএলে ওঠার আগেই আম্পায়ারদের সমস্যাগুলো তত ভালোভাবে সমাধান করা সম্ভব হবে।’
একজন নির্দিষ্ট আম্পায়ারকে ঘিরে প্রশ্নের উত্তরে টফেল ব্যক্তিগত মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বা ঘরোয়া-সবার জন্যই নিয়ম এক। তাকে তার পরের ম্যাচটিকে জীবনের সেরা ম্যাচ বানানোর চেষ্টা করতে হবে। রাজনীতির মতো বাইরের বিষয় বাদ দিয়ে শুধু খেলা ও খেলোয়াড়দের দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি।’
বড় ম্যাচে অনেক সময় চাপের মুখে আম্পায়াররা ভুল সিদ্ধান্ত দিয়ে ফেলেন। এটা কাটিয়ে ওঠার উপায় নিয়ে টফেল বলেন, ‘চাপ যদি নিজের ওপর চেপে বসতে দেওয়া হয়, তাহলেই সমস্যা। ভুল করার ভয়টাই সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চাপ। বাইরের চাপ—মিডিয়া বা খেলোয়াড়রা কী বলবে—এসব আমার নিয়ন্ত্রণে নেই, তাই আমি কখনো সেগুলো নিয়ে ভাবিনি।’
এসকেডি/এমএমআর