থাকছে না অ্যাডহক কমিটি
৩ মাস পর বুলবুল-ফাহিমের জায়গায় নতুন মুখ?
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদে কি আসতে যাচ্ছে বড় ধরনের পরিবর্তন? পরিচালক আমিনুল ইসলাম বুলবুল কি নিজ পদে বহাল থাকতে পারবেন, নাকি বিসিবির নির্বাচন ঘিরে নতুন করে আইনি জটিলতা তৈরি হবে — এমন প্রশ্নই এখন ক্রীড়াঙ্গনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
জাগো নিউজের পাঠকরা প্রায় এক সপ্তাহ আগেই এ সংক্রান্ত ইঙ্গিতপূর্ণ খবর জেনেছিলেন। এবার সেই খবর আরও স্পষ্ট আকার পেল।
আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) দেশের প্রতিটি জেলা ও বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের — যারা পদাধিকারবলে জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি, নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বর্তমান ৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিকে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জেলা ও বিভাগে যে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছিল, বিসিবি নির্বাচনের আগেই তাদের ৯০ দিনের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। পরে তড়িঘড়ি করে প্রতিটি কমিটিতে অন্তত একজন সদস্য পরিবর্তন করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি দেখিয়ে নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যাতে ৯০ দিনের সময়সীমার মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে, এমন অবস্থান তৈরি করা যায়।
পরবর্তীতে সেই পরিবর্তিত আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবেই আমিনুল ইসলাম বুলবুল ঢাকা বিভাগ এবং নাজমুল আবেদিন ফাহিম ঢাকা জেলার কাউন্সিলর হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিসিবির পরিচালক হন। তবে ওই তথাকথিত নতুন কমিটির মেয়াদও ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ফলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বর্তমান আহ্বায়ক কমিটিগুলোর অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ নতুন করে নির্বাচনমুখী হচ্ছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রতিটি জেলা ও বিভাগে নির্বাচন সম্পন্ন করে পূর্ণাঙ্গ নির্বাচিত ক্রীড়া সংস্থা গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন শেষে আহ্বায়ক কমিটির পরিবর্তে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হবে জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা। পরবর্তীতে তারাই বিভিন্ন ফেডারেশনে, বিসিবিসহ, কাউন্সিলর মনোনীত করবেন।
সেক্ষেত্রে বর্তমানে আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে কাউন্সিলর হয়ে বিসিবিতে নির্বাচিত ১০ পরিচালক তাদের কাউন্সিলরশিপ হারাতে পারেন। কারণ গঠনতন্ত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে — আহ্বায়ক কমিটির কোনো সদস্য সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। তাদের দায়িত্ব কেবল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করা।
নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল হক শনিবার দুপুরে জাগো নিউজসহ কয়েকটি গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক এবং ৮ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আহ্বায়ক কমিটিকে ৯০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ নির্বাচিত কমিটি গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বিসিবি নির্বাচনের কাউন্সিলরশিপ নিয়ে আদালতে করা রিটের প্রেক্ষিতে স্থগিতাদেশ যদি প্রত্যাহার করা হয়, তাহলে জেলা ও বিভাগ কোটা থেকে আসা ১০ পরিচালকের কাউন্সিলরশিপ বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর তা না হলেও, তিন মাস পর বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ শেষ হলে নির্বাচিত কমিটি দায়িত্ব নেবে। তখন আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও নাজমুল আবেদিন ফাহিমসহ আহ্বায়ক কমিটির সদস্যরা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।
গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, নির্বাচন চলাকালে তাদের ভূমিকা থাকবে কেবল আয়োজক ও তদারককারী হিসেবে। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ না থাকলে বিসিবির পরিচালক পদেও তাঁদের অবস্থান টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
সব মিলিয়ে, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার আসন্ন নির্বাচন বিসিবি পরিচালনা পর্ষদে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এআরবি/আইএন