ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. খেলাধুলা

রান নয়, নজর ইমপ্যাক্টে: সোবহানার নতুন ব্যাটিং দর্শন

সৌরভ কুমার দাস | প্রকাশিত: ০৭:১৭ পিএম, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

৭ ম্যাচ, ৫২.৪০ গড়, এক ফিফটিতে ২৬২ রান। নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কোয়ালিফায়ারে বাংলাদেশের ব্যাটার সোবহানা মোস্তারির পারফরম্যান্স এটি। বাংলাদেশ যে একদম অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েই ইংল্যান্ডে হতে যাওয়া আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করলো, তার সিংহভাগ অবদানই এই ডানহাতি ব্যাটারের। আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক সোবহানা শীর্ষ রান সংগ্রাহকের চেয়ে পিছিয়ে ছিলেন মাত্র ১৪ রানে।

এরপর তো আইসিসি প্লেয়ার অফ দ্য মান্থও হয়েছেন। সব মিলিয়ে নারী জাতীয় দলে ধীরে ধীরে সোবহানা হয়ে উঠছেন ব্যাটিংয়ে নির্ভরতার প্রতীক। আসন্ন বিপিএলে আইকন খেলোয়াড় হিসেবে একটি দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে তার। নারী বিপিএল, আসন্ন বিশ্বকাপসহ সোবহানা জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে নিজের ক্যারিয়ার ও ক্রিকেট নিয়ে চিন্তাভাবনা নিয়ে বিস্তর আলাপ করেছেন। তারই চুম্বক অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:

জাগো নিউজ: ক্যাম্প তো শুরু হলো। সব মিলিয়ে কেমন যাচ্ছে?

সোবহানা: আসলে রোজার মাসে ক্যাম্প। আমরা নিজেদের শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করছি। সামনে ওয়ার্ল্ড কাপ, সাথে বিপিএল, সাথে হোম সিরিজ আছে। তো সেটার ওপর ডিপেন্ড করে আসলে প্র্যাকটিসটা যেভাবে করার; এখন যেহেতু অফ পিরিয়ড, তো স্পেশালিস্ট কাজগুলো করার ট্রাই করছি যেখানে আসলে আমাদের ঘাটতি আছে।

জাগো নিউজ: অনেক বছর আলোচনার পর অবশেষে বিপিএলটা হতে যাচ্ছে আপনাদের। তো সব মিলিয়ে আপনারা কতটা রোমাঞ্চিত?

সোবহানা: আসলে লাস্ট দুইবারের মতো কথা হয়েছিল, হয়নি। এর আগে টিমও ঠিক করে ফেলেছিলাম কিন্তু মাঠে গড়ায়নি। আশা করা যাচ্ছে এবার আমরা বিপিএলটা খেলতে পারবো। এটা হইতে পারে বাংলাদেশের ইতিহাস...আসলে মেয়েদের ক্রিকেটে পরিবর্তন আসছে, নতুন প্রজন্মের জন্য এটা একটা অন্যরকম বিষয়। আমাদের আশা আছে প্রথম বিপিএলটা আমরা আসলে স্মরণীয় করে রাখতে পারি।

জাগো নিউজ: সব মিলিয়ে আসলে এই বিপিএলটা পুরো নারী ক্রিকেট বা বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের ওপর কতটা ইমপ্যাক্ট রাখতে পারে এবং কীভাবে?

সোবহানা: আমি বলবো যে বাংলাদেশে যেহেতু মেয়েদের ক্রিকেটটা এখন ওপরে উঠছে, আমার কাছে মনে হয় বিপিএলটা আসলে একটা টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়াবে। অনেক প্লেয়ার আছে যারা বাইরে... আসলে ন্যাশনাল টিমের যারা হয়তোবা বছরে একটা করে টুর্নামেন্ট খেলে, তাদের কাছে এখন একটা নতুন টুর্নামেন্ট আসছে, যেখানে খেলা তারা হানড্রেড পারসেন্ট ট্রাই করবে, ভালো ভালো জায়গায় প্র্যাকটিস করবে। আমার মনে হয় যে আরও মেয়ে ক্রিকেটার, আরও ভালো ভালো ক্রিকেটার উঠে আসার অনেক চান্স আছে।

জাগো নিউজ: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগেই তো আসলে বিপিএল। তো অনেক বিদেশি ক্রিকেটারও আসবেন, ড্রেসিংরুমে থাকবেন। সব মিলিয়ে আসলে বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে এটা কীভাবে হেল্প করবে আপনাদের?

সোবহানা: যদি বিদেশি ক্রিকেটারদের কথা বলেন, সাধারণত তাদের সাথে ড্রেসিংরুম শেয়ার করার আমাদের খুব বেশি অভিজ্ঞতা নাই। হয়তোবা কিছু কিছু প্লেয়ারের আছে যারা বাইরে খেলছে। এটা আসলে অন্যরকম বিষয় কারণ তাদের অভিজ্ঞতা যেভাবে আমরা নিতে পারবো, তাদের সাথে কথা বলে...ইংল্যান্ডে আমাদের খেলা আগে কখনো হয়নি। ফলে সবকিছু নিয়ে আলোচনা করার একটা সুযোগ থাকবে, সেই ধরনের যদি ক্রিকেটাররা আসে। অবশ্যই এটা আমরা কাজে লাগানোর ট্রাই করবো বিপিএলে।

জাগো নিউজ: (নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ) কোয়ালিফায়ারটা তো খুব ভালো গেছে আপনার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করেছেন, শীর্ষে যে আছে তার থেকে মাত্র ১৪ রান কম। তো সব মিলিয়ে এই পারফরম্যান্সটা আপনি ইভালুয়েট করবেন কীভাবে?

সোবহানা: দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ার থেকে আমার কাছে মনে হইছে যে টিমের প্রতি আমার যে দায়িত্ব ছিল সেটা আসলে পালন করা; যে ইমপ্যাক্ট ফেলতে চেয়েছি আমি ব্যাটসম্যান হিসেবে, যা অনেক বছর ধরেই চাচ্ছিলাম। সেটা হয়তোবা এবার কোয়ালিফায়ারে করতে পেরেছি। আমার কাছে মনে হয় যে সেটাই আসলে—প্রতিটা ম্যাচে ইমপ্যাক্ট ফেলার পরেই কিন্তু দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান হয়েছে। আমার কাছে মনে হয় যে ভবিষ্যতের জন্য এই অভিজ্ঞতাগুলো আমার কাজে লাগবে। ইন্টারন্যাশনাল লেভেলে প্রতি ম্যাচে রান করা বা প্রতি ম্যাচে একটা নির্দিষ্ট সংখ্যক রান করা আসলে ভবিষ্যতের টুর্নামেন্টগুলোতে আমাকে হেল্প করবে।

জাগো নিউজ: এরপর তো আইসিসি প্লেয়ার অফ দ্য মান্থও হলেন, এটা কতটা অনুপ্রেরণামূলক?

সোবহানা: এটা আসলে আমার কাছে নতুন। যখন আমি দেখেছি যে না আমি সিলেক্টেড, যেখানে নমিনেশন আছে আমার। তো আমার কাছে বিষয়টা অন্যরকম ছিল। একটা এক্সাইটমেন্ট কাজ করেছে। শেষ পর্যন্ত জিতেও গেলাম, দারুণ অনুভূতি এটা। খুবই ভালো লাগছে। এই পুরস্কারগুলো কঠোর পরিশ্রমের পর ভালো খেলার স্বীকৃতি আমার কাছে মনে হয়। যদিও আমি রেজাল্ট নিয়ে চিন্তা করি না, কিন্তু এই অর্জনের পর নিজের কাজে আরও ফোকাস করতে চাই যেন ভবিষ্যতের জন্য এরকম পুরস্কার আরও আসে।

জাগো নিউজ: আপনার পাওয়ার হিটিংয়ে উন্নতি হয়েছে এটা অনেক দিন ধরেই দেখা যাচ্ছে। কিন্তু রিসেন্টলি আপনি অনেক গ্যাপে গ্যাপে শট খেলছেন এবং নিয়মিত এগুলো করতেছেন। এই পরিবর্তনটা আসলে কীভাবে আসলো?

সোবহানা: নরমালি আপনি একটা ব্যাটসম্যানকে দেখবেন যে শটস খেলছে হয়তোবা হাতে যাচ্ছে বা গ্যাপ খুঁজে পাচ্ছে না। এ কারণেই হয়তোবা আমাদের ব্যাটসম্যানদের রান তুলনামূলকভাবে কম হয়। নরমালি যে প্র্যাকটিসগুলো লাস্টে করেছি তো গ্যাপে খেলার ট্রাই করেছি যাতে হানড্রেড পারসেন্ট পাওয়ার হিটিং না করেও যদি আমি জাস্ট গ্যাপ ইউজ করে খেলতে পারি, সেখানেও আমার জন্য আসলে এটা সাকসেসের বড় বিষয়। সেটা নিয়ে আসলে প্র্যাকটিস করা হয়েছে অনেক।

জাগো নিউজ: আপনার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের কথা যদি বলি, অনেক সময় দেখা গেছে দলের জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আবার আপনি পারফর্মও করতে পারেননি। সেখান থেকে এখন ওয়ান অফ দ্য বেস্ট ব্যাটার দলের। তো এই পুরো জার্নিটা একটু যদি সামআপ করতেন?

সোবহানা: আমার কাছে মনে হয় যে জিনিসটা আমি এখন সেটেল করতে পেরেছি সেটা হয়তোবা আরও দুই-তিন বছর আগেই করা উচিত ছিল। হয়তোবা পারি নাই, হয়তোবা সময় খারাপ গেছে। কিন্তু এখন যেটা শুরু করছি, সেটার জন্য কন্টিনিউ করতে পারি। কারণ আমার কাছে মনে হয় ব্যাটসম্যানের ফর্ম সবসময় থাকে না। ফর্ম না থাকলে আসলে খারাপ সময়টাকে কাটিয়ে ওঠার ট্রাই করবো আর যে ভালো সময়গুলো আছে সেগুলো নিয়েই থাকবো।

জাগো নিউজ: এখন যেভাবে আসলে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করে যাচ্ছেন, এই সময় আপনার মেন্টালিটি বা কনফিডেন্স এগুলো আসলে কেমন থাকে বা কী চিন্তা করেন?

সোবহানা: চিন্তা করি নতুন ম্যাচ নতুনভাবে। নতুন ম্যাচে আমি আসলে এক-দুই রানেও আউট হইতে পারি, আবার সেটা ৩০-৫০ তেও রান আউট হইতে পারি। আমার কাছে মনে হয় প্রতিটা ম্যাচেই একটা নতুন করে কনফিডেন্ট নিয়ে নামতে হয় আমাকে। আজকে ভালো খেলছি তাই পরের ম্যাচে আমি কনফিডেন্ট থাকি এমন না। প্রতিটা ম্যাচেই প্রথম দিকে যাই আসলে চিন্তা করি কীভাবে খেলতে হবে। আবার উইকেটের ব্যাপার থাকে, ওয়েদারের ব্যাপার থাকে, অপোনেন্ট থাকে। তো প্রতিটা ম্যাচেই নতুনভাবে কনফিডেন্ট থাকার চেষ্টা করি। তখন আসলে কনফিডেন্ট যখন এত ভালো থাকে তখন নেটে ভালো বল লাগে বা নেটে ভালো খেলার ট্রাই করি।

জাগো নিউজ: কোয়ালিফায়ারটা তো দুর্দান্ত গেছে। আপনারা চ্যাম্পিয়ন হয়ে ওয়ার্ল্ডকাপে কোয়ালিফাই করেছেন। ইংল্যান্ডে তো খেলার এক্সপেরিয়েন্সটা নাই আপনাদের। সে ক্ষেত্রে ইংল্যান্ডে খেলার আগে স্কটল্যান্ডে যে টি-টোয়েন্টি সিরিজটা হবে, এই সিরিজটা আপনাদের কীভাবে হেল্প করতে পারে?

সোবহানা: যেহেতু স্কটল্যান্ড আর ইংল্যান্ড পাশাপাশি। এর আগে আমরা একবার স্কটল্যান্ডে কোয়ালিফায়ার খেলেছি। আমার কাছে মনে হয় সিমিলার থাকবে হয়তোবা স্কটল্যান্ড ও ইংল্যান্ডে। ওখানে হয়তোবা যে ধরনের বা ইংল্যান্ডে যে ধরনের উইকেট থাকবে, বিশেষ করে উইকেট আর ওয়েদারটা অনেক ইম্পর্টেন্ট আমাদের কাছে। যে ম্যাচগুলো আছে স্কটল্যান্ডে সেগুলোই আসলে আমরা ওয়েদার বা উইকেটের সাথে অ্যাডজাস্ট করতে ট্রাই করবো। ১৫-২০ দিনের যদি একটা আমাদের ওখানে খেলার এক্সপেরিয়েন্স থাকে তো ডেফিনেটলি এটা পরে গিয়ে ইংল্যান্ডে কাজে লাগবে।

জাগো নিউজ: বিশ্বকাপ বাংলাদেশের সম্ভাবনা কেমন দেখছেন আপনি?

সোবহানা: আমাদের গ্রুপে নেদারল্যান্ডস আছে, পাকিস্তান আছে। এছাড়া ভারত, সাউথ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া আছে। আসলে পার্টিসিপেট করাটা মূল ব্যাপার না। প্রতিবারই আসলে আমরা একটা লক্ষ্য নিয়ে যাই। টি-টোয়েন্টিতে আপনি বলতে পারবেন না আসলে কে জিতবে। যে ১৯-২০ কমতি আছে বড় বড় টিমের সাথে আমাদের, ওগুলো যত তাড়াতাড়ি আমরা আসলে নিজেদেরকে শুধরে নিতে পারি। তো আশা করবো যে আমরা একটা ভালো অবস্থান ক্রিয়েট করবো এবার।

জাগো নিউজ: লাস্ট ইন্ডিয়া ওয়ার্ল্ডকাপে অন্তত তিনটা ম্যাচ জেতার কথা ছিল। কিছু কিছু ছোট ছোট ভুল যেগুলোর কারণে হয়নি। এই ছোট ছোট ভুলগুলো আসলে ধারাবাহিকভাবে হয়েই যাচ্ছে। এগুলো নিয়ে কি আলাদা কাজ করতেছেন আপনারা?

সোবহানা: কিছু কিছু ভুল দেখবেন স্পেসিফিক একটা জায়গায় গিয়েই হচ্ছে। হতে পারে যে ব্যাটিংয়ের দিক থেকে আমরা আসলে পিছায় আছি। সেটা হয়তোবা কোয়ালিফায়ারে আমরা খেলেছি বাট কোয়ালিফায়ারে ওয়ার্ল্ডকাপের মতো দলের সাথে আমরা কমপিট করি নাই। আমার কাছে মনে হয় আমরা যত বেশি লিমিটেশনের বাইরে যেতে পারবো, ব্যাটসম্যানরা যে আমাদের লিমিটেশন আছে সেটার বাইরে যেতে পারবো—সেটা নিয়ে আসলে আমরা সবাই যারা ব্যাটসম্যান আছে কথা বলছি। বিভিন্ন রকমের প্র্যাকটিস করার ট্রাই করছি যে আমরা যেন আগে যে ভুলগুলো করেছি সেগুলো যেন না হয়। এছাড়াও ফিল্ডিং একটা বড় পয়েন্ট যে সাউথ আফ্রিকার ম্যাচটা দেখবেন ফিল্ডিংয়ের জন্য আসলে আমরা হেরে গিয়েছি। ফিল্ডিং অনেক সময় ভাগ্যের ওপরেও থাকে। যখন আমাদের ভালো ভালো ফিল্ডারদের কাছে মিস হবে তখন আমি বলবো যে এটা একটা ভাগ্য যে ফিল্ডিংয়ে ভাগ্য লাগে।

এসকেডি/আইএন