৪০০ রানের চাপেই ব্যাটিংয়ের এমন হতচ্ছিরি অবস্থা
হারানোর কিছুই ছিল না। তবে পাওয়ার ছিল অনেক। সিরিজ জেতা হয়েছে আগেই। শেষ ম্যাচ জিতলে লিখা হতো সাফল্যের নতুন ইতিহাস। ভারতকে প্রথমবার ‘বাংলাওয়াশ’ করার আনন্দে বিভোর হওয়া যেতো।
কিন্তু শনিবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে তা আর হলো না। ভারতকে ‘হোয়াইটওয়াশে’র বদলে উল্টো নিজেরাই শেষ ম্যাচে চরম নাস্তানাবুদ হয়েছে টাইগাররা। ভারতের রান পাহাড়ের নিচে চাপা পড়ে লিটন দাসের বদলে।
কেন এমন হতচ্ছিরি অবস্থা হলো? জবাবে বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস অনেক কথাই বলেছেন। যার সারমর্ম হলো, ৪০০ প্লাস রান তাড়া করতে গিয়েই এমন অবস্থা হয়েছে দলের।
তার কথা, ‘অবশ্যই ৪০০ প্লাস রান তাড়া করতে গেলে তো বিশাল চাপ থাকে। ৩০০-৩৫০ করলে চিত্রটা ভিন্ন হতে পারত।’

ভারতের স্কোর ৪০০ পার হওয়ার পর চিন্তা ভাবনা কী ছিল? অধিনায়ক লিটনের ব্যাখ্যা, ‘টিম টক ছিল এটাকিং ক্রিকেট খেলবো। একইসঙ্গে উইকেটও রাখার চিন্তা ভাবনা ছিল। তবে অ্যাটাক করলে কিছু সময় আপনার উইকেট চলেই যাবে। আমরা যদি ২০ ওভারে ১ উইকেটে ১২০-১৩০ রান করতাম তাহলে ভিন্ন খেলা হতো। সে জিনিসটা আমরা করতে পারিনি। তবে পরবর্তীতে যদি আমরা এমন সুযোগ পাই যে, ৩৭০-৩৮০ চেজ করতে হবে তাহলে এরকম অ্যাটাকিংয়েই যাব। তবে এটি নিশ্চিত করব, যেন তাড়াতাড়ি উইকেটগুলো না হারাই।’
লিটন দাস মনে করেন ভরতের ওপেনার ইশান কিশানই আজকের ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন। ইশান কিশানের প্রশংসায় লিটন বলেন, ‘ইশান যেভাবে ব্যাটিং করেছে, অবিশ্বাস্য ছিল। আজকে পুরোপুরি তার দিন ছিল। তারা ভারতীয় দলে পুরো মোমেন্টাম এনে দিয়েছে। যেভাবে ইশান ও বিরাট ব্যাটিং করেছে। আমরা বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে সর্বোচ্চ দিয়েই চেষ্টা করেছি। তবে আমাদের সঙ্গে ইশানের পার্থক্য ছিল, সে খুব ভাল খেলেছে। সে এটি ডিজার্ভ করে।’
ভারতের মত বিশ্বশক্তির বিপক্ষে প্রথমবার একটি সিরিজে অধিনায়ক হয়েই সিরিজ বিজয়, অনুভুতিটা কেমন? জবাবে লিটন দাসের প্রথম কথা হলো, ‘প্রথমবার অধিনায়ক হয়ে সিরিজ জিতেছি, এর চেয়ে ভাল লাগার আর কি আছে! এর চেয়ে বড় কিছু হয় না। আমি অনেক খুশি। দলের সবাই যেভাবে সহায়তা করেছে। সব সময়ই যেটি করে থাকে সবাই। আমি খুশি যে মাঠে কখনোই সেভাবে চাপ বোধ করিনি। তবে একটা আক্ষেপ আছে। শেষ ম্যাচটি জিতলে হয়তো বেশিই ভালো হতো। তবে সব মিলিয়ে খারাপ না।’
মিরাজের বলে তিনি ক্যাচ ফেলেছেন বিরাট কোহলির। ১ রানে তার হাতে জীবন পাওয়া বিরাট কোহলি শেষ পর্যন্ত সেঞ্চুরি করেছেন। ইশান কিশানের সাথে ২৯০ রানের বিরাট পার্টনারশিপ তুলে ভারতকে হিমালয় সমান স্কোর গড়ে দিযেছেন। সে ক্যাচ ধরতে না পারা কতটা হতাশার?
লিটন বলন, ‘অবশ্যই আমি মনে করি, আমি যে ধরনের খেলোয়াড় আমার কাছে ক্যাচটা নেওয়া সবাই আশা করে। আমার দলের সবাই, আমিও আশা করি। তবে এটাই ক্রিকেট। অনেক সময় সহজ ক্যাচ মিস করবেন, অনেক সময় ভাল ক্যাচ নেবেন। অবশ্যই যদি আমি ক্যাচটা ধরতে পারতাম তাহলে খেলা ভিন্ন হতো।’
এআরবি/আইএইচএস/