ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. খেলাধুলা

শুরুর আগেই জৌলুস হারিয়ে বিবর্ণ এবারের বিপিএল

আরিফুর রহমান বাবু | প্রকাশিত: ১০:০০ পিএম, ০৫ জানুয়ারি ২০২৩

হোক তা টাইটেল স্পন্সরের নাম ঘোষণার, তবু আসর শুরুর ২৪ ঘণ্টা আগের সংবাদ সম্মেলন। কোথায় আয়োজনের বিশালতা, আকার, পরিধি, বিস্তৃতি, প্রাইজমানি, প্রস্তুতির নানা দিক এবং সর্বোপরি আয়োজক বিসিবির লক্ষ্য, পরিকল্পনা এসব নিয়ে প্রশ্ন থাকবে। তা না, পুরো প্রেস মিটের ৮০ ভাগ প্রশ্নই ছিল বিপিএলের আয়োজনগত ত্রুটি, বিচ্যুতি, অনিয়ম, অসঙ্গতি আর অব্যবস্থাপনা নিয়ে।

কেমন ছিল সে সব প্রশ্নের ধরন? বেশী না, একটি প্রশ্নের উদাহরণই যথেষ্ঠ। ওই প্রশ্ন শুনলেই পুরো প্রেস মিটের প্রশ্নমালার ধরন ও গতি প্রকৃতি পরিষ্কার হয়ে যাবে।

এক সাংবাদিকের প্রশ্ন, ‘আচ্ছা! বিপিএলের মান, অনিয়ম, অসঙ্গতি আর অব্যবস্থাপনা নিয়েতো হাজারো কথা প্রচলিত। নানা তীর্য্যক সমালোচনা। রাজ্যের অভিযোগ শোনা যায়। আপনি বিপিএলের একটি সাফল্যের কথা বলুন তো?’

আসর শুরুর ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নর মুখোমুখি হলেন বিসিবি প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দীন চৌধুরী সুজন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে শেরে বাংলার মিডিয়া প্লাজায় বিপিএলের নবম আসরের টাইটেল স্পন্সর ঘোষণার সে সংবাদ সম্মেলনে ওই সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বিসিবি সিইও তেমন কোনো সাফল্য ও আশার গল্প শোনাতে পারলেন না।

টেনেটুনে দুটি সাফল্যের কথাই বললেন শুধু। যার একটি হলো, ‘হ্যাঁ, আমরা ধারাবাহিকভাবে বিপিএল আয়োজন করে যাচ্ছি। আর পাশাপাশি বিপিএল থেকে আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা থাকে, তাও পূর্ণ হচ্ছে।’

এরপর যোগ হতে থাকলো রাউন্ড রবিন লিগে ডিআরএস ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে না পারার ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন। বুধবার দুপুরে বিপিএল নিয়ে বিম্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের বিস্ফোরক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিসিবির ব্যাখ্যা কি? তাও জানতে চাওয়া হলো।

বিসিবি সিইওর সে সব প্রশ্নর উত্তর দিতে গিয়ে গলদঘর্ম অবস্থা। কোন বড় আসর শুরুর আগের দিন প্রেস কনফারেন্সে আয়োজনের সাফল্য এবং আয়োজক ও ব্যবস্থাপকদের লক্ষ্য ও পরিকল্পনা বাদ দিয়ে শুধু ব্যর্থতা, অনিয়ম, অসঙ্গতি আর অব্যবস্থাপনা নিয়ে এত প্রশ্ন সম্বলিত প্রেস মিটই বলে দিচ্ছে বিপিএলের এবারের আয়োজন নিয়ে মিডিয়ার মনোভাব কি?

শুধু মিডিয়ার কথা বলা কেন, দিনকে দিন বিপিএল আকর্ষণ, জৌলুস ও ঔজ্জ্বল্য হারিয়েছে। প্রতিবার আসর শুরুর আগের দিন বিকেল থেকে সন্ধ্যার পরে শেরে বাংলার বিভিন্ন প্রবেশ দ্বারের বাইরে বিশেষ করে ১, ২ ও ৪ নম্বর গেটের বাইরে আগ্রহী ক্রিকেট অনুরাগির ছোট ছোট জটলা চোখে পড়ে। এবার তার কিছুই নেই।

এমনকি শেরে বাংলায় সারাদিনের পরিচর্য্যার পরে রাতে ফ্লাডলাইট জ্বেলে মাঠ, আউটফিল্ড এর শেষ মুহূর্তের পরিচর্য্যার কাজ চলে। মাঠের চারদিকে বিজ্ঞাপনী বোর্ড স্থাপনের কাজ চলে, এবার তার কিছুই হলো না। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে পুরো হোম অফ ক্রিকেটে ভুতুড়ে পরিবেশ। দেখে বোঝার উপায়ই নেই, এখানেই কাল শুক্রবার দুপুরে শুরু হচ্ছে বিপিএলের নবম আসর।

বিপিএলে আয়োজনগত ত্রুটি সেই শুরু থেকে। অনিয়ম, অসঙ্গতি আর অব্যবস্থাপনা যার নিত্য সঙ্গী। এ আসর সব সময় তাই নানা প্রশ্নের খোরাক। সেই শুরুর প্রথম ২ বছর সেমিফাইনালিস্ট নির্ধারণ, ভিনদেশি খেলোয়াড় নিবন্ধন আর ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক নিয়ে নানা অনিয়মের গল্প এখনো অনেকের স্মৃতিতে জাগরুক। এর বাইরে টি-টোয়েন্টির অনুপযোগী উইকেট, স্লথ গতি ও লো বাউন্সি পিচে লো স্কোরিং গেমও বিপিএলের বরাবরের পরিচিত দৃশ্য।

সঙ্গে যোগ হয়েছে ডিআরএস রাখতে না পারার ব্যর্থতা। সেটাই শেষ নয়। যারা হবেন বিপিএলের শুভেচ্ছাদূত, যাদের মুখে থাকবে বিপিএল বন্দনা, যারা বলবেন- বিপিএল আমাদের আইপিএল। সেই মাশরাফি আর সাকিব যখন বিপিএলের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, আয়োজনের নানা ত্রুটি-বিচ্যুতি, অসঙ্গতি ও অবব্যস্থাপনায় রাজ্যের হতাশা ব্যক্ত করেন, তখন আর বুঝতে বাকি থাকে না এবারের বিপিএলের অবস্থা আসলে কি?

আয়োজনের মান এবং নানা বিষয় নিয়ে দেশের ক্রিকেটের দুই শীর্ষ তারকা সাকিব-মাশরাফির রাজ্যের অসন্তোষে শুরুর আগেই এবার প্রশ্নবিদ্ধ, বিবর্ণ বিপিএল।

এখন দেখা যাক, এত প্রতিকুলতার পর মাঠের ক্রিকেটটা কেমন হয়?

এআরবি/আইএইচএস