হৃদয়কে নিয়ে ভয় মাশরাফির
ফ্যান্টাস্টিক প্লেয়ার, তবে একটু তাড়াতাড়িই জাতীয় দলে
‘তৌহিদ হৃদয় ফ্যান্টাস্টিক প্লেয়ার। দুর্দান্ত ফর্মে আছে।’ ভাবছেন, এ আবার নতুন কী? এ ২২ বছরের যুবা তো এবারের বিপিএলে দারুণ খেলেছেন। আড়ষ্টতার খোলস ছেড়ে বেরিয়ে মিডল অর্ডার থেকে টপ অর্ডারে কখনওবা ওপেন করতে নেমে স্বচ্ছন্দে খেলেছেন।
যে কোনো বোলারকে ইচ্ছেমতো আক্রমণাত্মক শটস খেলে স্কোরবোর্ড সচল রেখে দল জিতিয়ে হয়েছেন ম্যাচসেরা। হৃদয়ের এমন সাবলীল ব্যাটিং সবাই উপভোগ করেছেন। না কোনো ভক্ত, সমর্থক, সুহৃদ কিংবা আম জনতার কথা নয়।
এবারের বিপিএলে যে দলের হয়ে তৌহিদ হৃদয় নিজেকে মেলে ধরেছেন, ৫টি ফিফটিসহ ৪০৪ রান করেছেন; সেই সিলেট স্ট্রাইকার্স অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার মূল্যায়ন।
বৃহস্পতিবার রাতে বিপিএল ফাইনাল শেষে তরুণ তৌহিদ হৃদয়ের ব্যাটিং সামর্থ্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে দেশের ক্রিকেটের সফলতম অধিনায়ক বড়সড় মন্তব্য করেন। এমনকি হৃদয়ের জাতীয় দলে দ্রুতই ডাক পাওয়া নিয়ে উচ্ছ্বাসের বদলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মাশরাফি।
ইংল্যান্ডের সাথে ওয়ানডে স্কোয়াড ঘোষণা হয়েছে যখন, তখনও বিপিএল ফাইনাল চলছিল। মাশরাফি ও তার দল তখন মাঠে ফিল্ডিংয়ে। তাই জানা ছিল না যে, তৌহিদ হৃদয় জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন। এক সাংবাদিকের মুখে মাশরাফি শোনেন এই খবর।
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেন মাশরাফি। তিনি বলেন, ‘তৌহিদ হৃদয়কে একটু বেশি তাড়াতাড়িই জাতীয় দলে নেওয়া হলো।’
কেন এমন মনে হলো? তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন মাশরাফি। নড়াইল এক্সপ্রেস বলেন, ‘তৌহিদ হৃদয় ভেরি আর্লি স্টেজ। যদি আমাকে বলেন, আমি হয়তো আরও একটু সময় নিতাম তার ক্ষেত্রে।’
মাশরাফি যোগ করেন, ‘ইটস ভেরি আর্লি স্টেজ। ন্যাশনাল টিম মানেই একটা দেশের টপ বোলারকে খেলতে হবে। সব দলে সেই দেশের সেরা ৫ বোলার থাকে। তাদের খেলতে হবে। কাজটা কিন্তু সহজ না। ভাল খেললে আলহামদুল্লিল্লাহ। কিন্তু আমার মনে হয় প্রত্যাশার লাগামটা সবার ধরে রাখা উচিত।’
মাশরাফির শঙ্কা, খুব জলদি জাতীয় দলে ডাক পাওয়া হৃদয় তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুতে সফল নাও হতে পারেন। একথা মুখ ফুটে বলেও ফেলেছেন সিলেট অধিনায়ক, ‘আমি বলব হৃদয় যদি তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম তিন-চার-পাঁচটা ম্যাচে রান নাও করে, আমি অবাক হবো না। কারণ ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট ডিফারেন্ট জায়গা।’
একটা টুর্নামেন্ট দেখেই জাতীয় দলে নেওয়া কিংবা জাতীয় দলে একটু খারাপ করলেই বাদ দেওয়া, এই বিষয়টা ভালো সংস্কৃতি বলে মনে করেন না মাশরাফি।
তিনি বলেন, ‘আমরা কেউ এমন প্রশ্ন করি না যে, কেন এক টুর্নামেন্ট দেখে একজনকে নিচ্ছেন। আবার জাতীয় দলে খারাপ খেলার পর কেনইবা তাকে ছুড়ে ফেলি? কাউকে নেয়ার সময় যেমন খেয়াল রাখতে হবে। আবার বাদ দেওয়ার সময়ও লক্ষ্য রাখতে হবে।’
লিটন-শান্তর উদাহরণ টেনে মাশরাফি বলেন, ‘লিটন-শান্ত জাতীয় দলে সেটেল্ড করতে প্রচুর চাপ নিয়েছে। অন্য কারো যেমন অত কষ্ট করতে না হয়। কোনো নতুন মেধাবি ও প্রতিভাবান প্লেয়ারকে জাতীয় দলে নেওয়ার আগে তাকে বিভিন্ন জায়গায় খেলিয়ে খেলিয়ে তৈরি করতে হবে। টিমে গিয়ে প্লেয়ার সেট করা কঠিন।’
শেষ পর্যন্ত হৃদয়ের জন্য শুভকামনা জানিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘আই উইশ হিম অল দ্য বেস্ট। হৃদয় ফ্যান্টাস্টিক প্লেয়ার। দারুণ ফর্মে আছে। কিন্তু জাতীয় দলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অনেক রকম চাপ থাকবে। সে চাপ সামলে খেলতে হবে।’
এআরবি/এমএমআর/এএসএম