ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. খেলাধুলা

আয়ারল্যান্ডকে ৩৩৯ রানের বিশাল লক্ষ্য দিলো বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৫:৫৯ পিএম, ১৮ মার্চ ২০২৩

দু’দুটি সেঞ্চুরি মিস হলো। সাকিব আল হাসান আউট হলেন ৯৩ রানে, অভিষিক্ত তৌহিদ হৃদয় আউট হলেন ৯২ রানে। ঝড়ো ব্যাটিং করলেন মুশফিকুর রহিমও। তিনটি ঝড়ো ইনিংসের ওপর ভর করে প্রথম ওয়ানডেতে সফরকারী আয়ারল্যান্ডকে ৩৩৯ রানের বিশাল লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানায় আয়ারল্যান্ড। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই অধিনায়ক তামিম ইকবালের উইকেট হারিয়ে ঝুঁকিতে পড়ে গিয়েছিলো বাংলাদেশ।

কিন্তু লিটন দাস আর নাজমুল হোসেন শান্ত মিলে বিপর্যয়কর অবস্থাকে বাড়তে দেননি। যদিও তারা দু’জন ইনিংসকে বড় করতে পারেননি। ২৬ রানে লিটন এবং ২৫ রানে নাজমুল হোসেন শান্ত আউট হয়ে যান। ৮১ রানে ৩ উইকেপ পড়ার পরই অভিষিক্ত তৌহিদ হৃদয়কে নিয়ে জুটি বাধেন সাকিব আল হাসান।

১৩৫ রানের বিশাল জুটি গড়ে তোলেন এই দুই ব্যাটার। মাত্র ৭ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেন সাকিব। ৮৯ বলে ৯৩ রান করে আউট হয়ে যান তিনি। তৌহিদ হৃদয় আউট হলেন ৯২ রান করে। ২৬ বলে ৪৪ রান করেন মুশফিকুর রহিম। সব মিলিয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩৩৮ রান করে বাংলাদেশ।

এর আগে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আইরিশ অধিনায়ক অ্যান্ড্রু বালবির্নি। বাংলাদেশকে জানান ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ।

শুরুটা ভালো হয়নি টাইগারদের। তামিম ইকবালের ব্যাট থেকে বড় ইনিংস আসছে না অনেকদিন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচে ফিফটির দেখা পাননি। দ্রুত আউট হয়ে গেলেন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতেও।

ইনিংসের তৃতীয় ওভারে আইরিশ পেসার মার্ক অ্যাডায়ারের বল শরীরের বাইরে খেলতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তামিম। বাংলাদেশ অধিনায়ক করেন মাত্র ৩।

সঙ্গী হারালেও বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগোচ্ছিলেন লিটন। কিন্তু সেট হয়ে ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। কার্টিস ক্যাম্ফারের বলে স্টারলিংকে ক্যাচ দিয়েছেন লিটন। ৩১ বলে ২ চার আর ১ ছক্কায় তিনি করেন ২৬ রান।

নাজমুল হোসেন শান্ত এখন ধারাবাহিকতার প্রতীক বনে গেছেন। নিয়মিতই তার ব্যাট থেকে রান আসছে। কিন্তু সেট হয়ে দৃষ্টিকটুভাবে উইকেট বিলিয়ে দেওয়ার অভ্যাসটা এখনও যেন রয়েই গেছে বাঁ-হাতি এই ব্যাটারের।

আজ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ভালো খেলছিলেন। দুটো ছোট জুটিও গড়েন। কিন্তু ভালো খেলতে খেলতে হঠাৎ দৃষ্টিকটুভাবে আউট হয়ে গেলেন। অফস্পিনার ম্যাকব্রাইনের বলটি ব্যাট প্যাডের মাঝে অনেকটা জায়গা পেয়ে ভেঙে দিলো স্টাম্প। ৩৪ বলে ১ বাউন্ডারিতে ২৫ করে ফিরেন শান্ত। তখন দলীয় রান ৮১।

এরপরই জুটি বাধেন সাকিব আল হাসান এবং তৌহিদ হৃদয়। এই জুটিতেই বড় স্কোরের স্বপ্ন গড়ে ওঠে। ১৩৫ রানের জুটি গড়েন এ দু‘জন।

মাঠের বাইরে অনেক বিতর্ক হতে পারে। অনেক আলোচনা-সমালোচনা হতে পারে তাকে নিয়ে; কিন্তু মাঠের সাকিব আল হাসান একেবারেই ভিন্ন। এখানে পারফরম্যান্সের বাইরে ভিন্ন কোনো কথা নেই সাকিবের কাছে। দুবাইতে জুয়েলারি শপ কেলেঙ্কারিতে না চাইলেও জড়িয়ে পড়েছে সাকিবের নাম। সেই কেলেঙ্কারির রেশ কাটেনি। এর মধ্যেই মাঠে নেমে পারফর্ম করলেন সাকিব।

সে সঙ্গে ক্যারিয়ারে ১০ম সেঞ্চুরির পথেও এগিয়ে যাচ্ছিলেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। তবে মাত্র ৭ রানের জন্য ১০ম সেঞ্চুরিটা হলো না সাকিবের। ৯৩ রান করেই আউট হয়ে যেতে হলো তাকে। গ্রাহাম হিউমের বলে শট খেলতে চেয়েছিলেন সাকিব। কিন্তু বল নিচের কানায় লেগে চলে যায় উইকেটক্ষকের হাতে। জোরালো কটবিহাইন্ডের আবেদন। সে আবেদনে সাড়া দিলেন আম্পায়ার।

৮৯ বলে ৯ বাউন্ডারিতে ৯৩ রান করে ফিরে গেলেন সাকিব। তার আগেই অবশ্য দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে সাত হাজার রানের মাইলফলক পূরণ করেন তিনি।

সাকিবের পর তৌহিদ হৃদয়ের সঙ্গে জুটি বাধেন আরেক সিনিয়র মুশফিকুর রহিম। উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো। বাংলাদেশের ইনিংসও সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। এ কারণে ঝড়ো ব্যাটিং করেন মুশফিক। তার ব্যাটের ঝড়ে গড়ে ওঠে ৮০ রানের জুটি। ২৬ বলে ৪৪ রান করেন মুশফিক। ৩টি করে বাউন্ডারি এবং ছক্কার মার ছিল তার ব্যাটে। তবে ৪৬তম ওভারেই বাংলাদেশের ইনিংসে জোড়া আঘাত হানেন গ্রাহাম হিউম।

ওভারের তৃতীয় বলে মুশফিকুর রহিমকে অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইনের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন তিনি। ২৬ বলে ৪৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে আউট হন মুশফিক। এক বল বিরতি দিয়েই আউট হলেন তৌহিদ হৃদয়।

ভয়-ডরহীন ক্রিকেট কিভাবে খেলতে হয়, তার সবই জানা সম্ভবত তৌহিদ হৃদয়ের। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের এই সদস্য জাতীয় দলের হয়ে ব্যাট হাতেও নিজেকে চেনাচ্ছেন শুরু থেকেই। সেই বিপিএল থেকে তার ব্যাটের নান্দনিকতা শুরু। টি-টোয়েন্টির অভিষেকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও দেখিয়েছেন সাহসের পরাকাষ্ট্রা।

ওয়ানডে অভিষেক হলো আজ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে, সিলেটে। এই ম্যাচেও ৫ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে নিজেকে রাখলেন অন্য উচ্চতায়। হাফ সেঞ্চুরি করে এগিয়ে যাচ্ছিলেন সেঞ্চুরির দিকে। শেষ ধাপে প্রবেশও করে ফেলেছিলেন তৌহিদ হৃদয়। কিন্তু এই ধাপে এসেই ভুগলেন নার্ভাস নাইনটিজে।

গ্রাহাম হিউমের নিচু হয়ে আসা একটি ইয়র্কার বুঝতেই পারেননি। মিডউইকেটে হুইপ করতে চেয়েছিলেন হৃদয়। কিন্তু নিচু হয়ে আসা বলটি ব্যাটেই লাগাতে পারেননি। সোজা গিয়ে সেটি ভেঙ্গে দিলো স্ট্যাম্প। ৯২ রান করে আউট হয়ে গেলেন হৃদয়।

বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডে অভিষেকে সর্বোচ্চ রান করলেন তৌহিদ। এর আগে নাসির হোসেন অভিষেকে করেছিলেন ৬৩ রান। এবার সেটা ছাড়িয়ে একেবারে সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মাত্র ৮ রানের আক্ষেপে পুড়ে বিদায় নিতে হলো হৃদয়কে। মুশফিকের আউট হওয়ার এক বল পরই বোল্ড হয়ে গেলেন তিনি।

এরপর তাসকিন ৭ বলে ১১ রান করে আউট হন। ইয়াসির আলী রাব্বি ১০ বলে করেন ১৭ রান। হয়ে যান রানআউট। ৭ বলে ১১ রানে নাসুম আহমেদ এবং ২ বলে ১ রান করে অপরাজিত থাকেন মোস্তাফিজ।

আয়ারল্যান্ডের হয়ে গ্রাহাম হিউম নেন ৪ উইকেট। ১টি করে উইকেট নেন মার্ক অ্যাডেয়ার, অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন, কার্টিস ক্যাম্ফার।

আইএইচএস/