বিশ্বকাপে রিয়াদ, আফিফ না ইয়াসির রাব্বি- কাকে চান কোচ সালাউদ্দীন?
তিনি বিপিএলের সবচেয়ে সফল কোচ। সর্বাধিক চারবারের চ্যাম্পিয়ন দলের কোচ তিনি। তার কোচিংয়ে সর্বশেষ ২০২৩ সালের বিপিএল শিরোপাও জয় করেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও মোহাম্মদ সালাউদ্দীনের সাফল্য কম নয়। দেশের ক্লাব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ও জমজমাট আসরে ভিক্টোরিয়া তার কোচিংয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। মাঝে বেশ কয়েক বছর গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে কোচিং করিয়েছেন। লিগ শিরোপাও জিতেছেন।
গাজী গ্রুপ ছেড়ে এবারই প্রাইম ব্যাংকের হেড কোচ হিসেবে যোগ দিয়েছেন দেশের অন্যতম দক্ষ ও কুশলী এই কোচ। কিন্তু প্রাইম ব্যাংকে তার শুরু ভাল হলো না। কাগজে-কলমে অন্যতম সেরা দল নিয়েও প্রাইম ব্যাংক কিছুই করতে পারেনি এবার।
রাউন্ড রবিন লিগেই মূল লড়াই থেকে ছিটকে পড়েছিল প্রাইম ব্যাংক। সুপার লিগের দ্বিতীয় ম্যাচেও আবাহনীর কাছে হেরে সব সম্ভাবনা শেষ। দলের বাজে পারফরমেন্স ও খারাপ ফলে কতটা হতাশ কোচ সালাউদ্দীন? লিগে নিজ দলের পারফরমেন্স ও পরিণতির মূল্যায়ন কি তার? এবারের লিগে কোন ক্রিকেটারের পারফরমেন্সে কী আকৃষ্ট হয়েছেন তিনি?
জাতীয় দলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে এখনও মিডল অর্ডারে একটি জায়গা খালি আছে। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, আফিফ হোসেন ধ্রুব না ইয়াসির আলী রাব্বি? তিনজনার কে বেশি দাবিদার?
জাগো নিউজের সাথে একান্ত সাক্ষাতকারে এসব নিয়ে নিজের ভাবনার কথা প্রকাশ করেছেন সাকিবের মেন্টর সালাউদ্দীন। আসুন শোনা যাক সে কথোপকোথন-
জাগো নিউজ: কাগজে কলমে প্রাইম ব্যাংক অনেক সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী দল ছিল; কিন্তু সে অনুযায়ী ফল আসেনি। আপনি কতটা সন্তুষ্ট?
সালাউদ্দীন: আমি একটুও সন্তুষ্ট না। দল হিসেবে আমরা খুবই বাজে রেজাল্ট করেছি। দল হিসেবে এটা মেনে নেয়া খুব কঠিন। আমার জন্য মানা খুব কঠিন।
জাগো নিউজ: ঠিক কোন জায়গায় সমস্যা বেশি ছিল?
সালাউদ্দীন: বিশেষ করে আমাদের মিডল অর্ডার ব্যাটিংটা একদম ক্লিক করেনি। হয়তো আমরা অনেক প্লেয়ার নিয়েছি; কিন্তু তাদের অনেকে খেলতে পারেনি। কেউবা মাঝে-মধ্যে খেলেছে। এভাবে কম্বিনেশন করাটা খুব দুষ্কর ছিল। কে জাতীয় দলে যাবে, কে যাবে না- তার জন্য কাকে ব্যাকআপ হিসেবে রাখা হবে, এগুলো স্থির করা সহজ ছিল না। সব মিলিয়ে খুবই হতাশাজনক একটা সময় পার করেছি।
জাগো নিউজ: আর কোন জায়গায় কি সমস্যা বা ঘাটতি ছিল?
সালাউদ্দীন: লেফট আর্ম স্পিনার সংকট ছিল। এক অর্থে বাঁ-হাতি স্পিনার ছিলই না। পেস বোলারেও ছিল ঘাটতি। শরিফুল রাজা জাতীয় দলের সঙ্গে ছিল। সব মিলিয়ে খুব বাজে অবস্থায় ছিল। ছেলেরা চোঠ ম্যাচগুলো জিতেছে। কিন্তু আমরা বড় ম্যাচ জিততে পারিনি। সেটা আমার জন্য দুঃখজনক।
তারপর বলবো আগের রেজাল্ট নিয়ে খুব হতাশ ছিলাম না। কিন্তু আবাহনীর সঙ্গে ম্যাচের ফলটা আমাকে খুব হতাশ করেছে। আমার মনে হয় এই ম্যাচটা আমাদের জেতা উচিৎ ছিল। ছেলেদের পারফরমেন্স খুব একটা ভাল হয়নি। ব্যাটিং ইউনিট বলেন কিংবা বোলিং ইউনিট আমরা ফেইল করেছি।
জাগো নিউজ: শেষ পর্যন্ত নিজ দলকে কোথায় দেখতে চান? কি হলে মোটমুটি সন্তুষ্ট হবেন আপনি?
সালাউদ্দীন: দেখা যাক, শেষ তিনটি ম্যাচে ভাল কিছু হয় নাকি! নেক্সট তিন ম্যাচ জিতলে তাও একটা সান্তনা খুঁজে পাব। যে একটা মোটামুটি গোছের কিছু হয়েছে। তা না হলে যেটা হবে সেটা খুবই হতাশার।
জগো নিউজ: বিপিএলের সময় আমাদের স্থানীয় ক্রিকেটারদের সম্পর্কে বলেছিলেন, তাদের অ্যাপ্রোচে সমস্যা। ক্রিকেট বোধ, বুদ্ধি সঠিক, তবে প্রয়োগে সমস্যা। এখনও কি তাই বলবেন ?
সালাউদ্দীন: খুব বেশি চেঞ্জ করবো না। আজকের (গত বৃহস্পতিবার) ম্যাচ দেখলেও বুঝবেন, ছেলেরা মাথা খাটালে আমরা জিততে পারতাম। এই ঘাটতি পোষাতে ছেলেবেলা থেকে আরও বেটার নার্সিং করা উচিৎ।
জাগো নিউজ: এবারের প্রিমিয়ার লিগে আপনার দল প্রাইম ব্যাংকসহ আর কোন দলের কারো পারফরমেন্সে আপনি কি ইমপ্রেসড?
সালাউদ্দীন: নাহ! দুঃখিত, সেভাবে আমি কারো পারফরমেন্সে ইমপ্রেসড হইনি। কেউ আমাকে মুগ্ধ করতে পারেনি। আমাদের ছেলেদের মধ্যে যাদের আসলে সময় ভাল যায়, সময় ভাল থাকে তারাই ভাল করে। এ সময়ে ভাল খেলা সহজ। উইকেটে কিছুই থাকে না। বছরের এ সময়টায় খুব বেশি এক্সট্রা অর্ডিনারি ট্যালেন্ট আমার চোখে পড়েনি। আমার কাছে মনে হয়েছে, সবাই ১৯-২০। কারো সিজন ভাল যায়। কারো খারাপ যায়।
জাগো নিউজ: বিশ্বকাপ স্কোয়াডে মিডল অর্ডারে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আর আফিফ হোসেন ধ্রুবকে নিয়ে টানা হেঁচড়ার কথা শোনা যায়। কোচ হাথুরুসিংহেও তাদের সম্ভাবনা নাকচ করে দেননি। আপনি এ দু’জনার কাকে নিতে চান ওয়ার্ল্ড কাপ দলে?
সালাউদ্দীন: এ জায়গাটায় আমার জন্য মন্তব্য করা খুব ইজি না। যারা ট্রেনিং করান, তারাই বেস্ট পারসন টু দিস অ্যানসার। ধরেন একটা কোচ আসে, সে শুধু ট্রেনিং করায় না, অনেক কিছু ফ্যাক্টর থাকে। একটা কোচের নিজস্ব কিছু দর্শন, গতি-প্রকৃতি থাকে। তিনি কিভাবে আগাবেন, কাদের দিয়ে দল সাজাবেন! সেটা একান্তই তার নিজের। আমিও ন্যাশনাল টিমের কোচ হলে সবাইকে নিতে পারতাম না। ১৫ জনকেই নিতে হবে। তাই কোচই ভাল বলতে পারবেন, কার কাছ থেকে তিনি সেরাটা বের করতে পারবেন। এখানে আসলে বলা যাবেনা একে নেয় না কেন ? সবারই নিজস্ব স্ট্র্যাটেজি থাকে। তাই নির্দিষ্ট করে কারো নাম বলা যাবে না। বলা ঠিকও হবে না।
জাগো নিউজ: তারপরও রিয়াদের অভিজ্ঞতা আর আফিফের তারুণ্য, আপনি কোনটাকে বেছে নিতেন?
সালাউদ্দীন: আমি কাউকে এগিয়ে রাখি না। আমি সব সময় মাথায় রাখি টিমের বেস্ট পসেবল কম্বিনেশনের জন্য যাকে দরকার, তাকে নিতে। আপনার যেটা দরকার আপনি সেটাই করবেন। এক্সপেরিয়েন্সের অনেক মূল্য আছে। যখন তাকে প্রয়োগ করতে পারবেন। একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার যদি ২০ হয়, আর একটা কম অভিজ্ঞ প্লেয়ারের সামর্থ্যের অনুপাত যদি হয় ১৯, তাহলে যে কোন কোচই ১৯‘র দিকে ধাবিত হবেন। পুরো দুনিয়াতে এভাবেই দেখা হয়। তবে শুধু যদি গ্যাপটা বেশি হলেই আমি অভিজ্ঞ প্লেয়ারের দিকে যাব।
জাগো নিউজ: রিয়াদ আর আফিফের সাথে দৌড়ে আছে ইয়াসির আলী রাব্বিও। আপনি তার সম্ভাবনা কতটা দেখেন বিশ্বকাপ দলে?
সালাউদ্দীন: সত্যি কথা আমার মনে হয় না কেউ খুব মূল্যবান প্লেয়ার হিসেবে কেউ আছে। কেউ সেভাবে নিজেকে তৈরি করতে পারেনি। আমি বলবো না, যে কেউ খুব এক্সট্রা অর্ডিনারি। তিনজনের সবাই ১৯:২০। এখন তাদের কাকে নেবেন? ডিপেন্ড করে আপনি কিভাবে নিজের স্ট্র্যাটেজি তৈরি করবেন, তার ওপর।
এআরবি/আইএইচএস