ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. খেলাধুলা

‘খেলার চেয়ে আম্পায়ারিংয়ে চ্যালেঞ্জটা বেশি’

রফিকুল ইসলাম | প্রকাশিত: ০৯:০০ পিএম, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬

দেশে নারী হকির প্রসার বাড়ছে। বাংলাদেশের মেয়েরা এখন বয়সভিত্তিক এশিয়ান পর্যায়ে খেলেন। নতুন বছরে প্রথমবারের মতো জাতীয় দল গঠনের প্রক্রিয়াও চলছে। এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা হিসেবে নারী খেলোয়াড়দের বাছাইয়ে খেলাতে চায় হকি ফেডারেশন। কিছুদিন আগে হয়ে গেলো ব্র্যাক ব্যাংক অপরাজেয় আলো নারী হকি। তার আগে হয়েছিল ডেভেলপমেন্ট কাপ। এই তো বিদায়ী বছরেই বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৮ নারী দল চীন থেকে জিতে এসেছে এশিয়ান কাপের ব্রোঞ্জ পদক।

নারীদের হকি খেলার উন্নতির জন্য খেলোয়াড় সৃষ্টির পাশাপাশি কোচ ও আম্পায়ারও তৈরি কার প্রয়োজন। বাংলাদেশে মেয়েরা আম্পায়ারিংকে পেশা হিসেবে নেওয়ার দিকে ঝুঁকলেও এখনো কোনো পেশাদার কোচ নেই। মেয়েরা হকির আম্পায়ারিংয়ে আসছেন তাও বেশি দিনের নয়।

২০১৮ সালে দেশের প্রথম নারী হিসেবে হকির আম্পায়ারিংয়ে নাম লিখিয়েছিলেন আয়েশা পারভীন মহুয়া। তার পরের বছর কোর্সে অংশ নিয়ে দ্বিতীয় নারী আম্পায়ার হিসেবে এ পেশায় যোগ দিয়েছেন আয়শা সিদ্দিকা মালা। তারপর আরো ৫ জন নারী হকির আম্পায়ারিং কোর্সে অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। সংখ্যাটা এখন ৭।

হকিতে দেশের দ্বিতীয় নারী আম্পায়ার আয়শা সিদ্দিকা মালা খেলোয়াড় থেকেই বেছে নিয়েছেন এই পেশা। অন্যসব খেলা রেখে কেন হকি খেললেন এবং খেলা ছেড়ে কেনই বা আম্পায়ারিংকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন তা নিয়ে একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন জাগো নিউজকে।

জাগো নিউজ: বছর সাতেক হলো আম্পায়ারিং শুরু করেছেন। হকিতে আম্পায়ারিংটা কেমন চ্যালেঞ্জিং মনে করছেন?

আয়শা সিদ্দিকা মালা: আমি তো হকি খেলেছি। এখন আম্পায়ারিং করছি। আমি বলবো খেলার চেয়ে হকিতে আম্পায়ারিংটাই বেশি চ্যালেঞ্জিং। কারণ, আম্পায়ারিংয়ে সিদ্ধান্ত ভেবেচিন্তে নিতে হয়। আবার দ্রুতও দিতে হয় সিদ্ধান্তটা। ফিটনেসের বিষয়টি তো আছেই।

জাগো নিউজ: আপনি তো খেলোয়াড় থেকে আম্পায়ার হয়েছেন। দেশে নারী হকি খেলাই তো কম। তাহলে কি ভেবে আম্পায়ারিংয়ে এলেন?

আয়শা সিদ্দিকা: আমি ২০১২ সালে হকি খেলা শুরু করে ৮ বছর খেলেছি। যে দলটি ফাইভ-এ সাইড খেলতে সিঙ্গাপুরে গিয়েছিল ওই দলের ক্যাম্পেও ছিলাম। আসলে আমাদের নারী হকি তো পিছিয়ে আছে। ঠিকঠাক খেলা হয় না। এখন তো কিছু খেলা হয়। ওই সময় তাও হতো না। তাই খেলার বেশি সুযোগও পেতাম না। তবে আমার খেলার প্রতি আগ্রহ থাকার কারণে দীর্ঘদিন লেগে ছিলাম। একদিকে খেলার সুযোগ কম এবং অন্যদিকে নারী আম্পয়ারও ছিল না। প্রথম নারী আম্পায়ার হিসেবে মহুয়া আপা আসেন। সেই অনুপ্রেরণা থেকে এবং ফেডারেশনের সিনিয়রদের আগ্রহে আমি আম্পায়ারিংয়ে আসি।

জাগো নিউজ: এখন তো বেশ কয়েকজন ইয়ং মেয়ে আম্পায়ারিংয়ে এসেছেন। এটাকে কিভাবে দেখছেন?

আয়শা সিদ্দিকা: দেখুন নারী আম্পায়ার এখন আমরা মাত্র ৭ জন। বেশিরভাগই তরুণ। আমরা মনে করছি, এখানে কাজ করার সুযোগ আসবে। আমরা ইয়ংরা যদি আসি তাহলে ভালো কাজ করতে পারবো। সেই পরিকল্পনা নিয়েই সবাই এসেছেন। এটা অবশ্যই ভালো দিক।

জাগো নিউজ: সবার আগে মহুয়া আসলেন। তারপর আপনি। বাকি ৫ জন কি আপনার দেখাদেখি এই পেশায় আসলেন?

আয়শা সিদ্দিকা: সেটা বলা যায়। আমি যে আম্পায়ারিংয়ে এসেছি সেখানে মহুয়া আপা অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছেন। আর আমি আসার পর একটা লম্বা সময় বিরতি দিয়ে নতুন ৫ জন এসেছেন। ওরা আমাকে দেখেই এসেছেন।

জাগো নিউজ: এখন কি ৭ জনই আম্পায়ারিং করেন?

আয়শা সিদ্দিকা: এখন আমরা ৬ জন ধারাবাহিকভাবে আম্পায়ারিং করছি। মহুয়া আপা ব্যক্তিগত কারণে আপাতত করছেন না। এই যে নারী হকি হলো সেখানে আমরা ৬ জন জোনে জোনে দায়িত্ব পালন করেছি। আমি রাজশাহী জোনে দায়িত্ব পালন করেছি।

জাগো নিউজ: আপনি তো ঢাকার মেয়ে। কোন এলাকায়? সেখানে কি হকির চর্চা হয়?

আয়শা সিদ্দিকা: আমি ঢাকার মিরপুরে থাকি। আমি যখন খেলেছি তখন ঢাকা জেলার জার্সিতে খেলতাম। প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগসহ আরো প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছি। ওখানে নাহার একাডেমি স্কুল আছে। হকি সম্পর্কে কিছু জানতাম না। ওখান থেকেই আমাদের হাতেখড়ি। মিরপুরের ওই এলাকায় বর্ণ ক্লাব নামের একটা প্রতিষ্ঠান আছে। ওখানে বিভিন্ন খেলাধুলার চর্চা হয়। ওখানেই হকি অনুশীলন করতাম।

জাগো নিউজ: সেখান থেকেই কি প্রথম হকি খেলেছিলেন?

আয়শা সিদ্দিকা: ওই ক্লাবের বড় ভাইয়েরা আমাদের স্কুলের সেরাদের নিয়ে একটা টিম করেছিল। সেটাই ছিল আমাদের প্রথম টিম। নাহার একাডেমির ওই টিম দিয়েই হকি খেলা শুরু করেছিলাম।

জাগো নিউজ: হকি স্টিক প্রথম কিভাবে ধরলেন?

আয়শা সিদ্দিকা: আমাদের স্কুলে আসতেন নান্নু স্যার (তারিকুজ্জামান নান্নু)। তিনি এসে আমাদের ট্রেনিং করাতেন। তিনিই আমাদের স্টিক ধরা শেখানো থেকে শুরু করে নানাভাবে সাহায্য করেছেন। তিনি অনেক সহযোগিতা করেছেন আমাদের। তিনি ফেডারেশন থেকেও আমাদের জন্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন।

জাগো নিউজ: আপনার পরিবারে আর কে কে আছেন? কেউ কি খেলাধুলার সাথে জড়িত?

আয়শা সিদ্দিকা: আমরা দুই বোন এক ভাই। আমি মিরপুর সরকারী কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে মিরপুর আইডিয়াল গার্লস কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছি। আমার পরিবারের অন্য কেউ খেলাধুলার সাথে জড়িত নেই।

জাগো নিউজ: আম্পায়ার হওয়ার পেছনে কারো অবদান ছিল?

আয়শা সিদ্দিকা: এক্ষেত্রে আমি কিসমত (কামরুল ইসলাম কিসমত) স্যারের কথা বলবো। তিনিই আমাদের উদ্বুদ্ধ করেছেন আম্পায়ারিং পেশায় আসার জন্য। তার অনেক অবদান।

জাগো নিউজ: ধন্যবাদ আপনাকে।
আয়শা সিদ্দিকা: আপনাকেও ধন্যবাদ।

আরআই/আইএইচএস/