দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লো নামিবিয়া
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এর আগেও নিজেদের উঠে আসার প্রমাণ দিয়েছিল আফ্রিকার দেশ নামিবিয়া। তবে, এবার তারা যেটা ঘটালো, তা রীতিমত বিস্ময়কর। দক্ষিণ আফ্রিকার মত শক্তিশালী দলকে হারিয়ে ক্রিকেট বিশ্বকেই চমকে দিয়েছে নামিবিয়ানরা।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ছিল নামিবিয়ার। নতুন প্রতিষ্ঠি নামিবিয়া ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এনসিজি) প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে নেমেই ইতিহাস গড়ল স্বাগতিকরা। রোমাঞ্চকর শেষ বলের থ্রিলারে ৪ উইকেটে হারিয়ে দিয়েছে শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকাকে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ ছিল নামিবিয়ার এবং প্রথম সাক্ষাতেই ঐতিহাসিক এক জয় তুলে নিলো নামিবিয়ারা।
এটি ছিল একাধিক দিক থেকে ঐতিহাসিক এক জয়—নতুন স্টেডিয়ামের উদ্বোধনী ম্যাচ, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম সাক্ষাৎ এবং তার সঙ্গে প্রথম জয়ে মাতোয়ারা ৪ হাজার দর্শক! এ জয়ে নামিবিয়া চতুর্থ পূর্ণ সদস্য দলকে হারাল। এর আগে তারা জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছিল।
দক্ষিণ আফ্রিকার মূল দল পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে খেলতে এখন লাহোরে অবস্থান করছে। এ কারণে নামিবিয়ায় তাদেরকে একটি দুর্বল দল পাঠাতে হয়েছে। এটাকেই দারুণ একটা সুযোগ হিসেবে নিয়েছে নামিবিয়া। ধীরগতির উইকেট ও মন্থর আউটফিল্ডে ব্যাটিং ছিল দুই দলের জন্যই কঠিন।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ওপেনার হিসেবে কুইন্টন ডি ককের প্রত্যাবর্তনের মঞ্চ তৈরি হলেও তিনি মাত্র ১ রান করে বিদায় নেন। নামিবিয়ার অধিনায়ক গেরহার্ড এরাসমাস বোলিং ওপেন করেন এবং ডি কক দ্বিতীয় বলেই পুল করতে গিয়ে ট্রাম্পেলম্যানের হাতে সহজ ক্যাচ তুলে দেন।
একসময়, ১৩তম ওভারে ৮২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় প্রোটিয়ারা। জেসন স্মিথ (৩১) এবং জর্ন ফরচুইন (৩৭ বলে ২৭) সপ্তম উইকেটে ৩৭ রানের জুটি গড়ে দলকে কিছুটা সম্মানজনক স্কোর এনে দেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিংয়ে প্রতিচ্ছবি দেখা যায় নামিবিয়ার ব্যাটিংয়েও। তারাও ১৩তম ওভারে ৮৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে। তবে সপ্তম উইকেটে তাদের জেন গ্রিন এবং রুবেন ট্রাম্পেলম্যানের জুটিটি ছিল অনেক দ্রুতগতির। মাত্র ২১ বলে এই জুটি ৩৭ রান যোগ করে।
জন্মদিনের উপহার হিসেবে, উইকেটরক্ষক-ব্যাটার জেন গ্রিন ২৩ বলে অপরাজিত ৩০ রান করে নামিবিয়াকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। শেষ ৩ ওভারে নামিবিয়ার প্রয়োজন ছিল ৩২ রান। ১৮ ও ১৯তম ওভারে যথাক্রমে ৯ ও ১২ রান তুলে সমীকরণটি শেষ ওভারে ১১ রানে নামিয়ে আনেন গ্রিন ও ট্রাম্পেলম্যান।
শেষ ওভারে সিমেলানের প্রথম শর্ট বলে ফাইন লেগের উপর দিয়ে ছক্কা হাঁকান গ্রিন, এরপর একরান নিয়ে প্রান্ত বদল করেন। ট্রাম্পেলম্যান ২ রান করে স্কোর সমান করেন। সিমেলানের শেষ বলটি ছিল লো ফুল টস, যা গ্রিন মিডউইকেটের উপর দিয়ে বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়ে দলকে অবিস্মরণীয় জয় এনে দেন।
এই জয়ের নামিবিয়া অসাধারণ ফিল্ডিংয়ের ভূমিকা ছিল অসাধারণ। একের পর এক ক্যাচ ধরে তারা দক্ষিণ আফ্রিকাকে চাপে রাখে। মালান ক্রুগার দুর্দান্ত ডাইভে রিজা হেন্ডরিকসকে আউট করেন। বেন শিকোঙ্গোর হাতে ধরা পড়ে রুবেন হারমান। এরাসমাস নিজেও দারুণ ক্যাচ নেন ফেরেইরার শট থেকে।
বোলিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার জেরাল্ড কোয়েৎজি শুরুতে ভালো বল করলেও পরের ওভারে ছন্দ হারান। টানা কয়েকটি ওয়াইড ও বাউন্ডারি দেওয়ার পর অতিরিক্ত প্রচেষ্টায় পেক্টোরাল পেশিতে চোট পান এবং মাঠ ছাড়েন। সেই ওভার শেষ করেন ফেরেইরা, যা থেকে ১২ রান ওঠে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
দক্ষিণ আফ্রিকা: ১৩৪/৮, ২০ ওভার (স্মিথ ৩১, রুবিন হারম্যান ২৩, লুয়ান ডি প্রিটোরিয়াস ২২; ট্রাম্পেলম্যান ৩/২৮, হেইঙ্গো ২/৩২)
নামিবিয়া ১৩৮/৬, ২০ ওভার (গ্রিন ৩০*, ট্রাম্পেলম্যান ১১, গেরহার্ড এরাসমাস ২১; বার্গার ২/২১, সিমেলানে ২/২৮)
ফল: নামিবিয়া ৪ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা: রুবেন ট্রাম্পেলম্যান (নামিবিয়া) ১১* ও ৩/২৮
আইএইচএস/এমএস