তামিম ইকবালকে প্রধান করে বিসিবি আহ্বায়ক কমিটি গঠন
তিন মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচনের আয়োজন করবে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন আহ্বায়ক কমিটি। ফাইল ছবি।
একদিন আগেই জাগো নিউজে রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে, দ্রুতই বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ খুব বেশি সময় নেয়নি।
আজ (মঙ্গলবার) বিকেলেই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আমিনুল ইসলাম বুলবুল নেতৃত্বাধীন বিসিবি পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে। সে সঙ্গে সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে প্রধান করে বিসিবি পরিচালনার জন্য একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছে।
আজ বিকেলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এনএসসি পরিচালক (ক্রীড়া) আমিনুল এহসান ১১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির ঘোষণা দেন। কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন- রাশনা ইমাম, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু, মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, আতাহার আলী খান, তানজীম চৌধুরী, সালমান ইস্পাহানী, রফিকুল ইসলাম বাবু ও ফাহিম সিনহা।
গত বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেছিলেন ঢাকার ৫০টি ক্লাবের কর্মকর্তারা। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামানকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।
রোববার এই কমিটি তাদের তদন্ত রিপোর্ট পেশ করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে। এরপরই সরকারের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছিলেন, তারা এই তদন্ত প্রতিবেদন আইসিসির কাছে পাঠিয়ে তাদের কাছ থেকে মতামত নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবেন।
এরই মধ্যে সোমবার জাগো নিউজে প্রকাশ হয়েছিল, বোর্ড ভেঙে গঠন হচ্ছে আহ্বায়ক কমিটি, কে থাকছেন নেতৃত্বে? শিরোনামে। সেখানেই বলা হয়েছিল, আইসিসির কাছ থেকে সবুজ সংকেত পেলেই আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ড ভেঙে দেবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। এরপর ২৪ ঘণ্টা না যেতেই সত্যি সত্যি ক্রীড়া পরিষদ বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে।
আজ বিকেলে এনএসসিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিচালক (ক্রীড়া) আমিনুল এহসান জানিয়েছেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বিসিবির গত নির্বাচনটি স্বাধীন ও স্বচ্ছ ছিল না। ফারুক আহমেদ মনোনয়ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে বেআইনি সুবিধা পেয়েছেন।’
এ সময় এনএসসির গঠনতন্ত্রের ২১ নম্বর ধারা উল্লেখ করে আমিনুল এহসান বলেন, ‘২০১৮ সালের ২১ ধারা অনুযায়ী কোনো ফেডারেশন যথাযথ দায়িত্ব পালন না করলে এনএসসি বোর্ড ভেঙে দিত পারে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচলনা করে দেখা গেছে, বিসিবির গত নির্বাচনে অনিয়ম ছিল। আইসিসিকে এর মধ্যে মেইলে বিসিবির বর্তমান কমিটি ভেঙে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে৷ এছাড়া ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করার কথাও বলা হয়েছে। এই কমিটি আগামী তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করবে।’
এনএসসির এ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আহ্বায়ক কমিটির তালিকা আইসিসিতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে এখন থেকেই এই কমিটিকেই বাস্তবায়িত বা চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
প্রসঙ্গত এনএসসির ২০১৮ সালের গঠনতন্ত্রের ২১ ধারায় পরিষ্কার বলা আছে, ‘কোনো ফেডারেশনের কার্যক্রম যদি নিয়ম অনুযায়ী সন্তোষজনক না হয় এবং সংশ্লিষ্ট খেলাটির মঙ্গলের পরিবর্তে অমঙ্গলের আশঙ্কা তৈরি হয়, তাহলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সেই কমিটি ভেঙে দিয়ে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করতে পারে।’
এসকেডি/আইএইচএস/