ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. খেলাধুলা

ব্যক্তিগত ইভেন্টে স্বর্ণ জয়ের আনন্দই অন্যরকম

রফিকুল ইসলাম | প্রকাশিত: ০৯:১৩ পিএম, ২১ জানুয়ারি ২০২৩

সুস্মিতা ঘোষের বড় পরিচয় স্প্রিন্টার। ১০ বছর ধরে জাতীয় ও সামার অ্যাথলেটিকসে পরিচিত মুখ ময়মনসিংহের গৌরিপুরের এই যুবতী। এবার তিনি পরিচিত হলেন নতুনভাবে।

১০ বছর ট্র্যাকে দৌড়িয়ে একক ইভেন্টে স্বর্ণ জিততে না পারলেও ম্যারাথনে সফল হয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই অ্যাথলেট। শুক্রবার অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু ঢাকা ম্যারাথনের হাফ ম্যারাথন (২১ কিলোমিটার) বিভাগে স্বর্ণ জিতেছেন ২৮ বছরের সুস্মিতা।

স্প্রিন্টার হয়ে ম্যারাথনে সফল হওয়ার পেছনে উদ্যোম আর সাহসিকতা কাজ করেছে সুস্মিতার মধ্যে। কিভাবে নতুন এই বিভাগে সফল হলেন এই স্প্রিন্টার? জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপচারিতায় জানিয়েছেন জানা অজানা নানান কিছু...

জাগো নিউজ: আপনি তো একজন স্প্রিন্টার। হঠাৎ করে ম্যারাথনে অংশ নিয়ে সফল হলেন। এর পেছনে রহস্য কী?
সুস্মিতা ঘোষ: আমি এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বঙ্গবন্ধু ঢাকা ম্যারাথনে অংশ নিলাম। প্রথমবার অংশ নিয়ে চতুর্থ হয়েছিলাম। কোনো প্রস্তুতি ছাড়া চতুর্থ হওয়ার পর আমার আত্মবিশ্বাস বেড়ে গিয়েছিল। তাই দ্বিতীয়বার অংশ নিয়ে সফল হয়েছি।

জাগো নিউজ: ২০১৩ সাল থেকে জাতীয় ও সামার অ্যাথলেটিকসে অংশ নিয়ে আসছেন। কখনও ব্যক্তিগত ইভেন্টে স্বর্ণ জেতেননি। এই প্রথম সেই অর্জনটা হলো আপনার। কেমন লাগছে?
সুস্মিতা ঘোষ: আমি দীর্ঘ ১০ বছরে জাতীয় ও সামার মিটে অংশ নিয়ে ১০০ মিটারে একবার ও ২০০ মিটারে তিনবার রৌপ্য জিতেছি। রিলেতে আমার ৭টি স্বর্ণ ও ১০টি রৌপ্য জয়ের অভিজ্ঞতা আছে। তবে ব্যক্তিগত ইভেন্টে স্বর্ণ জয়ের যে অন্যরকম আনন্দ, সেটা এবার উপভোগ করলাম।

জাগো নিউজ: প্রথমবার চতুর্থ হওয়ার পর আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাওয়াই কি এই সাফল্যের প্রধান কারণ? নাকি এর পেছেনে অন্য কোনো অনুপ্রেরণা আছে?
সুস্মিতা ঘোষ: এখানে একটা বিষয় আছে। ২০১৯-২০ এ আমি শান্তিরক্ষা মিশনে কঙ্গো গিয়েছিলাম। সেখানে আমি দেখেছি মানুষ কিভাবে কষ্ট করে। জীবন-সংগ্রাম তাদের কতটা কঠিন ও কষ্টের। তাদের তুলনায় আমরা অনেক অনেক ভালো আছি। কঙ্গোর মানুষের সংগ্রামী জীবন দেখে আমার সাহস বেড়ে গিয়েছে। সেটাও আমার কাজে লেগেছে ম্যারাথনে।

জাগো নিউজ: ইনজুরির কারণে সর্বশেষ জাতীয় ও সামার মিটে অংশ নিতে পারেননি। এখন ম্যারাথনে অংশ নিলেন। ইনজুরির অবস্থা কি?
সুস্মিতা ঘোষ: এখন আমি ইনজুরিমুক্ত। এই ম্যারাথনের আগে ১৫ দিন অনুশীলন করতে পেরেছিলাম। অনুশীলন না করেও প্রথমবার চতুর্থ হয়েছিলাম।

জাগো নিউজ: দুইবার অংশ নিয়ে টাইমিংয়ের কি উন্নতি হয়েছে আপনার?
সুস্মিতা ঘোষ: আমি প্রথমবার চতুর্থ হয়েছিলাম ১.৫৭ ঘণ্টা সময় নিয়ে। আর দ্বিতীয়বার স্বর্ণ জিতলাম ১.৪২ ঘণ্টা সময় নিয়ে।

জাগো নিউজ: অ্যাথলেটিকসে আপনাকে আর কতদিন দেখা যাবে?
সুস্মিতা ঘোষ: আমি এখন পুরোপুরি ফিট। যতদিন ফিট থাকবো এবং খেলতে পারবো ততদিনই আমাকে ট্র্যাকে দেখতে পাবেন। কারণ অ্যাথলেটিকসই আমার জীবন।

জাগো নিউজ: আপনাকে ধন্যবাদ।
সুস্মিতা ঘোষ: আপনাকেও ধন্যবাদ।

আরআই/এমএমআর/জেআইএম