ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. খেলাধুলা

টিম স্পিরিটই ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাফল্যের মূলমন্ত্র

প্রকাশিত: ০৭:২৪ পিএম, ০১ এপ্রিল ২০১৬

এ বছরটা যেন ওয়েস্ট ইন্ডিজেরই। অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতলো দেশটির ক্রিকেটাররা। যে দলটি বিশ্বকাপের একমাস আগে বাংলাদেশে এসে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ হারলো, তারাই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনালে উঠলো এবং ভারতকে হারিয়ে জিতলো বিশ্বকাপ শিরোপা।

দলটির মাঝে বেশ কয়েকজন ভালোমানের পেসার দেখেছিলাম। ১৩৫, ১৩৮-এর মত গতি তুলতে পেরেছিল তারা। অধিনায়কটাও ছিল চমৎকার। অসাধারণ অধিনায়কত্ব করেছে সে। ছোটদের ধারাবাহিকতায় বড়রাও উঠে গেলো বিশ্বকাপের ফাইনালে। শুধু কী পুরুষরা? নারীরাও যে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে চলেছে পুরুষদের সঙ্গে। তারাও উঠলো এই বিশ্বকাপের ফাইনালে। রোববার পুরুষদের সঙ্গে তারাও নামবে বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে।

অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিরোপা জয়ের পর ড্যারেন স্যামির কিছু মন্তব্য শুনেছিলাম, সম্ভবত পাকিস্তানের পিএসএলে। তিনি বলেছিলেন, ‘ছোটদের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে এবার আমরাও কিছু করতে চাই।’ আমার মনে হচ্ছে, সেই প্রতিশ্রুতি থেকেই এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটাররা একতাবদ্ধ হয়ে কিছু একটা করে দেখানোর জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

তাদের ড্যান্সটা দেখলেই বোঝা যায়, দলটি কতটা একতাবদ্ধ। বিজয় বলেন, আর কেউ উইকেট পাওয়া কিংবা কারও হাফ সেঞ্চুরি হওয়া, অসাধারণ একটা ড্যান্স আবিষ্কার করেছে ক্যারিবীয় দলটি। একজনের সাফল্যে পুরো দল একসঙ্গে নেচে-গেয়ে ওঠে। এটা তাদের একতাবদ্ধ হওয়ার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। একজন যদি অন্যজনের সঙ্গে ভালবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে, এভাবে যদি পুরো দল এক হয়ে যায়, তাহলে তো সাফল্য আসতে বাধ্যই।

অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সময় দেখেছি, ছোটরাও একের সাফল্যে অন্যরাও একসঙ্গে ড্যান্স শুরু করে দিত। এটা যেন পুুরো ওয়েস্ট ইন্ডিজকেই এক করে দিয়েছে। দলটির সাফল্যের মূল স্পিরিটও সম্ভবত এটা। এভাবে একতাবদ্ধ হলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলটি সত্যিই ভয়ঙ্কর। তাদের হারানো অন্য কারও পক্ষে অসম্ভব।

এই দলটি এমনিতেই দুর্দান্ত। পুরো দলটিই টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্টে ভরা। চার-পাঁচজন রয়েছেন অলরাউন্ডার। আবার এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আছেন, ক্রিস গেইল থেকে শুরু করে- যাদের এবারই শেষ বিশ্বকাপ। সুতরাং, শেষ বেলায় ভালো কিছু করার একটা তাগিদও তাদের মধ্যে রয়েছে।

আবার আরেকটা বিষয় লক্ষ্যনীয়। বিশ্বকাপে খেলতে আসার আগে বোর্ডের সঙ্গে ক্রিকেটারদের কম ঝামেলা হয়নি। এমনকি সেটা এখনও বিদ্যমান। সেই ঝামেলা সত্ত্বেও এভাবে অসাধারণরূপে খেলে যাওয়া সত্যিই কঠিন ব্যাপার। কিন্তু এই দলটি খুবই ইউনাইটেড। তারা হয়তো চিন্তা করেছে, বোর্ডের সঙ্গে ঝামেলা হয়েছে তো কী হয়েছে। আমরা পেশাদার। নিজেদের আসল খেলাটা খেলে সাফল্য আনতে পারলে বিশ্ব ক্রিকেটে আমাদের দাম আরও বেড়ে যাবে এবং আগামী আরও চার-পাঁচ বছর ফ্রাঞ্চাইজি লিগগুলোতে নিজেদের মূল্য বাড়িয়ে নিতে পারবো।

সত্যি সত্যি তারা অনেক পেশাদার। এ কারণে বোর্ডের সঙ্গে ঝামেলা এতটা গায়ে মাখেনি তারা। গেইল থেকে শুরু করে আন্দ্রে রাসেল- প্রায় সবাই টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট। সুতরাং, নিজেদের খেলাটা খেলতে পারলেই সাফল্য পাবে তারা, এটা প্রায় নিশ্চিত। অনেকেই বলছিল, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সোনালি দিন কী তবে ফিরতে শুরু করেছে? আমি বলবো, না। কারণ, টি-টোয়েন্টিতে হয়তো তারা সেরা। কিন্তু টেস্টে নয়। ওয়ানডেতেও না। এজন্য আরও কাজ করতে হবে। যে দলটি অনুর্ধ্ব-১৯ জিতেছিল, তাদের নিয়ে যদি বোর্ড কাজ করে এবং অর্থ ব্যয় করে, তাহলে হয়তো ভবিষ্যৎ তৈরি হবে।

২০১২ সালে আয়ারল্যান্ড সফর থেকে দেশে ফেরার পথে কোনো একটি ট্রানজিটে (জায়গাটার নাম মনে পড়ছে না) ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সঙ্গে দেখা। তো ড্যারেন সামিকে বললাম, দেখো তোমাদের দল এবার এতটা শক্তিশালী যে, তোমরা যদি এবার শিরোপা জিততে না পারো, তাহলে আর কখনোই পারবা না। স্যামি আমার কথা শুনে হাসলো। বললো, তুমি ঠিকই বলেছো। আমরা চেষ্টা করবো। দেখি কী হয়। ওই বছরই তারা সত্যি সত্যি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপটা জিতেছিল। আসলে যোগ্য দল বলেই পেরেছিল।

সেই ক্রিকেটাররা এবারও রয়েছে দলে এবং এবারও দেখছি তাদের মধ্যে অসাধারণ ঐক্যবদ্ধতা। এই ঐক্যবদ্ধতাই তাদেরকে নিয়ে এসেছে এতটা দূর পর্যন্ত। ফাইনালেও তাদের এই ইউনিটি সাফল্য পেতে দারুণ সহায়তা করতে পারে বলে আমার বিশ্বাস।

লেখক: বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক


আইএইচএস/একে