ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. খেলাধুলা

বার্সাকে হারিয়ে ক্ল্যাসিকো জয় রিয়ালের

প্রকাশিত: ০৮:৩৪ পিএম, ০২ এপ্রিল ২০১৬
৮৩ মিনিটে দশ জনের দলে পরিণত হলো রিয়াল মাদ্রিদ। দুটি হলুদ কার্ড পেয়ে রিয়াল অধিনায়ক সার্জিও রামোস মাঠের বাইরে। কোথায় লজ ব্লাঙ্কোজরা কোণঠাসা হবে, উল্টো বেল-রোনালদোর দুর্দান্ত এক বোঝাপড়ায় ন্যু ক্যাম্পের প্রায় ৯৮ হাজার দর্শককে স্তব্ধ করে দিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ৮৫ মিনিটে রোনালদোর করা দুর্দান্ত গোলটিই জয় রচনা করে দিল লজ ব্লাঙ্কোজদের। ন্যু ক্যাম্পেই বার্সেলোনাকে হারিয়ে ফিরলো জিনেদিন জিদানের দল। মওসুমের প্রথম ম্যাচে মাদ্রিদের মাঠ থেকে ৪-০ ব্যবধানে জিতে এসেছিল বার্সা। সেই হারেরই প্রতিশোধ নিল রিয়াল ন্যু ক্যাম্পে মেসিদের হারিয়ে দিয়ে।
 
ন্যু ক্যাম্প। বার্সেলোনার গর্বের জায়গা। এই মাঠে তাদের হারানো যে কারও জন্য রীতিমত অসাধ্য ব্যাপার। সেটা হোক রিয়াল মাদ্রিদ, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ কিংবা ভ্যালেন্সিয়া। তারওপর যদি প্রতিপক্ষের কেউ লালকার্ড দেখে ফেলে, তবে তাহলে তো মেসি-নেইমারদের হারানোর চিন্তা করাটাও দুঃসাধ্য। অথচ, বিশ্বকাঁপানো এল ক্ল্যাসিকোয় ঘরের মাঠেই বার্সেলোনাকে ২-১ গোলে হারিয়ে দিল রিয়াল মাদ্রিদ। রিয়ালের হয়ে অপর গোলটি করলেন করিম বেনজেমা। বার্সার হয়ে একমাত্র গোলটি করেন জেরার্ড পিকে।
 
এল ক্ল্যাসিকো লড়াইয়ে মাঠে নামার আগে বার্সেলোনা এগিয়ে ১০ পয়েন্ট। ফলে এই ম্যাচটা যে লিগ টেবিলের জন্য খুবই গুরুত্বহীন সেটা জানা ছিল সবারই। তবুও এল ক্ল্যাসিকো বলে কথা। ফুটবল বিশ্বেও সবচেয়ে আকাংখিত ম্যাচ। প্রায় ৬০০ মিলিয়ন মানুষ অবলোকন করেছে এই খেলাটি। 
 
ন্যু ক্যাম্পে ৯৮ হাজার দর্শকের গ্যালারি পরিপূর্ণ। তিল ধারনের ঠাঁই ছিল না। লা লিগা মওসুমের শেষ ক্ল্যাসিকো ম্যাচটি দেখার জন্য। এই ম্যাচে অবশ্য মেসিকে তার চেনা রূপে দেখাই গেলো না। ক্যারিয়ারে ৫০০তম গোলের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। প্রত্যাশা ছিল এই ম্যাচে গোল করে ৫০০তম গোলটি উদযাপন করবেন; কিন্তু হতাশ হতে হলো মেসিকে। হতাশ হতে হলো মেসির ভক্তদের।
 
উত্তেজনার পারদ ছড়ানো ম্যাচটি আরও একমাত্রা বেশি আরও স্নায়ুচাপ তৈরী করে কিকঅফের বাঁশি বাজার পরই। যদিও এল ক্ল্যাসিকোর মত ম্যাচে রেফারিং ছিল খুবই বাজে। বার্সেলোনা একটা পেনাল্টির আবেদন করতেই পারে। মেসিকে যেভাবে রামোস ফেলে দিয়েছিল তাতে নিশ্চিত পেনাল্টি বঞ্চিত হয়েছে বার্সা। আবার গ্যারেথ বেলের একটি গোল বাতিল করে দিয়েছে ঠুনকো অজুহাতে। আলবার মাথায় হালকা টাচ সত্তে¡ও এমন ম্যাচে এভাবে গোল বাতিল করাটায় নিশ্চয় মেনে নেয়ার মত নয়।
 
বল পজেশনের পরিসংখ্যানের হিসেবে আসলে বার্সেলোনাই এগিয়ে। ৬৮ ভাগ আর ৩২ ভাগ। অথচ গোলের খেলায় শেষ পর্যন্ত জয়ী রিয়াল মাদ্রিদই। যদিও খেলায় প্রথমে এগিয়ে গিয়েছিল বার্সেলোনাই। প্রথমার্ধ ছিল গোলশূন্য ড্র। ইভান র‌্যাকিটিকের কর্নার কিক থেকে ভেসে আসা বলে দুর্দান্ত এক হেডে গোল করে কাতালানদের এগিয়ে দেন জেরার্ড পিকে।
 
১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর রিয়াল মরিয়া হয়ে আক্রমণ শুরু করে। যার ফল চলে আসে ৬২তম মিনিটেই। মার্সেলোর পাস থেকে পাওয়া বলটিতে দুর্দান্ত এক ভলি নেন বেনজেমা। ক্লদিও ব্রাভোকে ফাঁকি দিয়ে বুলেটের গতিতে বলটি আশ্রয় নিল বার্সার জালে। ৮০তম মিনিটেই দারুন এক হেডে বার্সার জালে বল জড়িয়ে দেন গ্যারেথ বেল। কিন্তু রেফারি ফাউলের বাঁশি বাজিয়ে সেটা বাতিল করে দেন। এরপর ৮২তম মিনিটে রোনালদোর দুর্দান্ত এক শট বারে লেগে ফিরে যায়। ৮৩ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ থেকে বহিস্কার সার্জিও রামোস।
 
৮৫ মিনিটে বক্সের ডান প্রান্ত থেকে পিকের মাথার ওপর দিয়ে ক্রস করেন গ্যারেথ বেল। বাম প্রান্তে বলটা কোনমতে থামিয়েই ডান পায়ের অসাধারণ এক শট নেন রোনালদো। মুহূর্তেই জড়িয়ে গেলো বার্সার জালে।
 
এই ম্যাচে মূলতঃ জিদানের ট্যাকটিসের কাছেই হেরেছে বার্সেলোনো। তাদের আক্রমণভাগের বিখ্যাত এমএসএন ত্রিফলাকে পুরোপুরি অকার্যকর করে দিতে পেরেছেন তিনি। মেসি বল নিয়ে দু’একবার উঠে আসলেও নেইমার-সুয়ারেজদের পাস দিতে পারেনি। রিয়ালের ম্যান মার্কিংও ছিল চমৎকার। ফলে উল্টো গোল হজম করে পরাজয় বরণ করতে হয়েছে বার্সাকে।


আইএইচএস/এসএইচএস