ফোল্ডেবল আইফোন-স্মার্ট গ্লাস, এ বছর কঠিন পরীক্ষায় নামছে অ্যাপল
মাত্রই শেষ হয়েছে ২০২৫ সাল। বছরের শেষ প্রান্তিকে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল শক্ত অবস্থানেই ছিল। নতুন আইফোন ১৭ সিরিজ প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সাড়া ফেলায় প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিম কুক আইফোনের চাহিদাকে ‘অব দ্য চার্ট’ বলে উল্লেখ করেন। এর ধারাবাহিকতায় অ্যাপল তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ডিসেম্বর প্রান্তিক আয়ের পূর্বাভাসও দিয়েছে।
আইফোন বিক্রির পাশাপাশি অ্যাপল সিলিকনের এম৫ চিপ, নতুন এয়ারপডস প্রো ৩ এবং সার্ভিস খাত থেকে সর্বোচ্চ রাজস্ব অর্জন কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। তবে এসব সাফল্যের মাঝেও ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্ক সংকেত দিচ্ছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়া, শীর্ষ কর্মকর্তাদের পদত্যাগ এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্রুত এগিয়ে যাওয়াকে অ্যাপলের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সাল অ্যাপলের জন্য ‘মেক-অর-ব্রেক’ বছর না হলেও এটি ২০২৫ সালের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন হতে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে আগামী বছর অ্যাপল যে কয়েকটি নতুন পণ্য বাজারে আনতে পারে, সেগুলো কোম্পানির ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।
আইফোন ফোল্ড
২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোন ‘আইফোন ফোল্ড’ উন্মোচন করতে পারে অ্যাপল। বিশ্লেষকদের ধারণা, বাজারে দেরিতে এলেও আইফোন ফোল্ড অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া ফোল্ডেবল ফোনে পরিণত হতে পারে। ডিভাইসটিতে ৫.৫ ইঞ্চির আউটার স্ক্রিন ও ৭.৮ ইঞ্চির ভেতরের ডিসপ্লে থাকতে পারে। শক্তিশালী ব্যাটারির পাশাপাশি এর সম্ভাব্য মূল্য ধরা হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৪০০ ডলার।
সাশ্রয়ী ম্যাকবুক
দীর্ঘদিনের গুঞ্জনের পর কম দামের নতুন ম্যাকবুক আনতে পারে অ্যাপল। সম্ভাব্য মূল্য ৫৯৯ থেকে ৬৯৯ ডলারের মধ্যে হতে পারে। মূলত ওয়েব ব্রাউজিং, ভিডিও দেখা ও হালকা কাজের জন্য তৈরি এই ডিভাইসটিতে আইফোনে ব্যবহৃত এ-সিরিজের চিপ ব্যবহার করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হোমপড টাচ বা হোমপ্যাড
স্মার্ট হোম খাতে নতুনভাবে অবস্থান শক্ত করতে পারে অ্যাপল। ৭ ইঞ্চি টাচস্ক্রিনযুক্ত ‘হোমপড টাচ’ বা ‘হোমপ্যাড’ নামের একটি ডিভাইস আনার গুঞ্জন রয়েছে। এটি নতুন হোমওএসে চলবে এবং সিরির নতুন সংস্করণের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।
অ্যাপল স্মার্ট গ্লাস
ভিশন প্রো প্রত্যাশা অনুযায়ী সাড়া না পেলেও ২০২৬ সালের শেষ দিকে স্মার্ট গ্লাস বাজারে আনতে পারে অ্যাপল। এতে আলাদা ডিসপ্লে না থাকলেও ক্যামেরা, স্পিকার ও এআই-ভিত্তিক ফিচার যুক্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ডিভাইসের মাধ্যমে মেটা ও গুগলের স্মার্ট গ্লাসের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামতে পারে অ্যাপল। তবে চ্যালেঞ্জ হলো, মেটা ও গুগল এরই মধ্যে ডিসপ্লেসহ স্মার্ট গ্লাস নিয়ে অনেক এগিয়ে গেছে।
নতুন প্রজন্মের সিরি
সব নতুন পণ্যের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হিসেবে দেখা হচ্ছে নতুন প্রজন্মের সিরিকে। ২০২৬ সালের সামারে উন্মোচনের কথা থাকা এই সিরি হবে আরও বুদ্ধিমান, প্রাসঙ্গিক এবং অ্যাপ নিয়ন্ত্রণে সক্ষম। বিশ্লেষকদের মতে, সিরিতে বড় ধরনের উন্নয়ন আনতে ব্যর্থ হলে এআই প্রতিযোগিতায় অ্যাপল আরও পিছিয়ে পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ২০২৬ সালে অ্যাপলের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে শুধু নতুন পণ্য নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় নিজেদের সক্ষমতা বাস্তবে প্রমাণ করা।
আরও পড়ুন
আইফোনে শক্তিশালী পাসকোড তৈরি করবেন যেভাবে
আইফোনের ব্যাটারির আয়ু বাড়ানোর উপায়
সূত্র: ম্যাশেবল
শাহজালাল/কেএসকে