‘ব্লু টিক অ্যাংজাইটি’ ডিজিটাল যুগের মানসিক চাপ
ডেটিং বিষয়টা নতুন কিছু নয়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই বিষয়কে ঘিরে উদ্বেগ বা অ্যাংজাইটির ধরন বদলে গেছে। আগে সঙ্গীর সঙ্গে লুকিয়ে বা গোপনে দেখা করতে কিংবা কথা বলার আগে মনের মধ্যে দুশ্চিন্তা কাজ করত। এখন সেই উদ্বেগ আরেক রকম হয়ে উঠেছে।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঙ্গে এতটাই অভ্যস্ত যে, তার প্রভাব সরাসরি আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যে পড়ছে। মেসেজ পাঠানো, অনলাইন স্ট্যাটাস দেখা কিংবা উত্তর পাওয়ার অপেক্ষা-সব মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন ধরনের মানসিক চাপ।
ব্লু টিক অ্যাংজাইটি কী?
অনলাইনে মেসেজ পাঠানো এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু এই সহজ যোগাযোগ থেকেই অনেকের মনে তৈরি হচ্ছে এক ধরনের অজানা উদ্বেগ, যাকে বলা হচ্ছে ‘ব্লু টিক অ্যাংজাইটি’। হোয়াটসঅ্যাপ, ম্যাসেঞ্জার বা অন্য চ্যাট অ্যাপে মেসেজ পাঠানোর পর যখন দেখা যায় বার্তাটি পৌঁছেছে (ডেলিভারড) বা পড়া হয়েছে (রিড), তখনই এই উদ্বেগ শুরু হয়। কালো টিক নীল হতে দেরি হলে মনে প্রশ্ন আসে-অনলাইন তো দেখাচ্ছে, তাহলে কি আমার মেসেজ দেখল না?
আবার মেসেজ পড়া হলেও যদি সঙ্গে সঙ্গে উত্তর না আসে, তখন দুশ্চিন্তা আরও বাড়ে। নামের নিচে ‘টাইপিং’ দেখা গেলেও উত্তর না পেলে মনে হয়, ইচ্ছে করে কি আমাকে এড়িয়ে যাচ্ছে? অনেক সময় অপেক্ষার পরও কোনো উত্তর না এলে নিজের মধ্যেই দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। কখনো কখনো মানুষ নিজেকেই দোষ দিতে শুরু করে বা অস্বস্তি অনুভব করে।
প্রযুক্তি কীভাবে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে
ডিজিটাল যুগে বার্তা পাঠানো ও পাওয়া প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই সম্ভব। চ্যাট অ্যাপে ‘সিন’ বা ‘রিড’ চিহ্ন থাকায় অনেকেই মনে করেন, মেসেজ পাঠানোর সঙ্গে সঙ্গেই উত্তর আসা উচিত। বন্ধুরা বা সহকর্মীরা দ্রুত রিপ্লাই দিলে এই প্রত্যাশা আরও বেড়ে যায়। ফলে কেউ দেরিতে উত্তর দিলে নিজের অজান্তেই মনে হয়, হয়তো আমি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নই-এমন এক ধরনের অপূর্ণতার অনুভূতি জন্ম নেয়।
ধীরে ধীরে এটি অভ্যাসে পরিণত হয়। বারবার ফোন খুলে দেখা হয়, মেসেজটি পড়েছে কি না। এই লাগাতার নজরদারি মানসিক চাপ বাড়ায় এবং উদ্বেগকে আরও গভীর করে তোলে।
মনোবিদদের মতে, এভাবেই ‘ব্লু টিক অ্যাংজাইটি’ আমাদের চিন্তা ও অনুভূতির ওপর প্রভাব বিস্তার করে। অনেক সময় নেতিবাচক ধারণা তৈরি করেএবং উল্টা দিকের মানুষটির অবস্থান বা যুক্তি বুঝতে চায় না। অথচ বাস্তবে তার ব্যস্ততা, মানসিক অবস্থা কিংবা অন্য কোনো যৌক্তিক কারণ থাকতে পারে। প্রযুক্তি আমাদের সংযোগ সহজ করেছে, কিন্তু একই সঙ্গে দৈনন্দিন জীবনে অকারণ দুশ্চিন্তা আর মানসিক চাপও বাড়িয়ে দিয়েছে।
উদ্বেগ কমানোর উপায়
প্রযুক্তি শুধু উদ্বেগ বাড়ায় না, তা কমানোর পথও দেখায়। ব্লু টিকের অপশন বন্ধ করে দিলে পাঠানো বার্তা প্রাপক পড়েছে কি না, তা আর জানা যায় না। একইভাবে, যারা আমাদের বার্তা পাঠান, তারাও জানতে পারেন না আমরা বার্তাটি পড়েছি কি না।
ফলে দেখল কি না, কেন উত্তর দিচ্ছে না-এ ধরনের ভাবনা ধীরে ধীরে কমে আসে। মেসেজের সময় বা উত্তর দেওয়ার দেরি নিয়ে অযথা চাপ তৈরি হয় না। ছোট এই পরিবর্তনই অনেক সময় মানসিক স্বস্তি এনে দেয় এবং ডিজিটাল যোগাযোগকে আরও সহজ ও স্বাভাবিক করে তোলে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও অন্যান্য
আরও পড়ুন:
হোয়াটসঅ্যাপে নতুন এআই ফিচার, স্ট্যাটাস হবে আরও ক্রিয়েটিভ
হোয়াটসঅ্যাপে কল সুরক্ষিত রাখতে এই ফিচার চালু রাখুন
এসএকেওয়াই/