ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. তথ্যপ্রযুক্তি

২৪ ঘণ্টায় কে কখন আপনার ডাটা ট্র্যাক করছে জানেন?

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক | প্রকাশিত: ০১:১৯ পিএম, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সকালে ঘুম ভাঙার পর থেকে রাতে ঘুমিয়ে পরার আগ পর্যন্ত স্মার্টফোন ব্যবহার করেন অসংখ্যবার। কখনো সময় দেখছেন, কখনো সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছেন, কখনো আবার নাটক-সিনেমা-সিরিজ দেখায় ব্যস্ত। গভীর রাত পর্যন্ত চ্যাট করছেন প্রিয়জনের সঙ্গে। আপনার এসব তথ্য আর কেউ না জানলেও গোপনে জানছে ডার্ক ওয়েব।

আপনার ফোনের ব্যবহৃত অ্যাপই আপনার সব তথ্য বিক্রি করছে ডার্ক ওয়েবে। আপনার তথ্য চলে যাচ্ছে হ্যাকারদের হাতে। আপনি কখন কি করছেন, কখন কি চ্যাট করছে, কখন কী সার্চ করছেন ডিলিট করলেও ফোন তা গোপনে সেভ করে রাখছে। অর্থাৎ আপনার প্রাইভেসি বলতে আসলে কিছুই বাকি নেই।

আপনি ঘুমিয়ে বিশ্রাম নিলেও আপনার ফোন আপনার ডাটা ট্র্যাক করতে কোনো বিশ্রাম নেয় না। আসুন জেনে নেই ২৪ ঘণ্টায় কখন কে আপনার ডাটা ট্র্যাক করে-

সকাল ৬-৮টা: ফোন আনলক এবং প্রথম ব্যবহার
সকাল শুরু হতেই আমাদের ফোন আমাদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ শুরু করে। ঘুম ভাঙার পরই যে ফোন আনলক করেন, সেই সঙ্গে সঙ্গেই লোকেশন, সময়, নোটিফিকেশন ডাটা ট্র্যাক করা হয়। গুগল বা অ্যাপল আপনার ফোনের অবস্থান ও ডিভাইস ব্যবহার প্যাটার্ন যাচাই করে। যদি ডুয়াল সিম বা ওয়েলনেস অ্যাপ চালু থাকে, সে তথ্যও লগ হয়। চমকপ্রদ তথ্য হচ্ছে শুধু ফোন আনলক করলেই সাধারণত ৩-৫টি অ্যাপের মাধ্যমে ডাটা ট্র্যাক হয়।

সকাল ৮-১০টা: সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল
ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক সব সময়ই আমাদের কর্মকাণ্ড মনিটর করে। কে কোন পোস্টে লাইক দিল, কোন স্টোরি দেখল সব তথ্য রেকর্ড হয়। অ্যাড পার্সোনালাইজেশনের জন্য ব্যবহারকারীর আচরণ বিশ্লেষণ করা হয়। কনভারসেশন, মেসেজের ফ্রিকোয়েন্সি ও টাইমস্ট্যাম্পও লগ করা হয়। মজার ব্যাপার হচ্ছে ১০ মিনিটের স্ক্রলেই প্রায় ২০-৩০ ডাটা পয়েন্ট তৈরি হয়।

সকাল ১১-১টা: কাজ ও ব্রাউজিং
এই সময়টা সাধারণত সবাই নিজের কাজে ব্যস্ত থাকেন। এই সময়টাতে গুগল সার্চ, ইউটিউব বা অন্যান্য ব্রাউজিং অ্যাপগুলো আপনার সার্চ হিস্ট্রি, ভিডিও দেখা, ক্লিক করা লিঙ্ক সংগ্রহ করে। কুকিজ ও থার্ড-পার্টি ট্র্যাকারস ঠিক এই সময়টাতে আপনার আগ্রহের বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করে। ওয়ার্ক ফ্রম হোম বা অফিসে ব্যবহার করা মেসেজিং ও প্রজেক্ট টুলের ডাটা ব্যাকএন্ডে সংরক্ষিত হয়। এই সময় এক ঘণ্টার ব্রাউজিংয়ে সাধারণত ৫০-৬০টি ডাটা ট্র্যাকিং ইভেন্ট হয়।

দুপুর ২-৪টা: লোকেশন এবং লাইফস্টাইল অ্যাপ
ভাতঘুমের এই সময়টায় ম্যাপস, ডেলিভারি বা রাইড-হাইলিং অ্যাপ আপনার রুট, সময়, দূরত্ব ট্র্যাক করে। হেলথ/ফিটনেস অ্যাপের মাধ্যমে আপনার হাঁটা, ক্যালরি, হার্ট রেট সব কিছু লগ হয়। কিছু অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে, তাই ব্যবহার না করলেও ডাটা আপডেট হয়। প্রতিটি লোকেশন চেক বা রাউট আপডেট একটি আলাদা ডাটা পয়েন্ট হিসেবে গণ্য হয়।

বিকেল ৫-৭টা: শপিং এবং স্ট্রিমিং
এই সময় অনলাইন শপিং অ্যাপস যেমন-অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট আপনার ব্রাউজ করা প্রোডাক্ট, কার্টে রাখা আইটেম, সার্চ হিস্ট্রি ধরে রাখে। নেটফ্লিক্স, স্পোটিফাই, ইউটিউব-কতক্ষণ দেখলেন বা শুনলেন, কোন জনরা বেশি পছন্দ হলো, সব তথ্য লগ হয়। মজার ব্যাপার হচ্ছে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে এক ঘণ্টা কনটেন্ট দেখলেই ২০-৩০টি ডাটা পয়েন্ট তৈরি হয়।

রাত ৮ ১০টা: চ্যাট এবং ভয়েস সার্চ
হোয়াটসঅ্যাপ ভয়েস নোটস, গুগল ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট, সিরি বা অ্যালেক্স আপনার কথোপকথন বা কমান্ড ট্র্যাক করা হয়। এআই ফিচারের জন্য কথোপকথনের কিছু ডাটা সংরক্ষিত হতে পারে। প্রাইভেসি সেটিং না থাকলে, ডাটা ব্যবহৃত হতে পারে বিজ্ঞাপন বা পার্সোনালাইজেশনের জন্য। শুধু ভয়েস কমান্ড নয়, প্রতিটি ট্যাপ বা স্বয়ংক্রিয় সাজেশনও লগ হয়।

রাত ১১-১টা: ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ ও স্লিপ মোড
ওয়েদার, হেলথ, লোকেশন সার্ভিসেস রাতেও ডাটা আপডেট হয়। অনেক অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে চলার কারণে তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত থাকে। পুশ নোটিফিকেশনস ও অ্যাপ অ্যানালিটিকস এই সময়েও চলতে থাকে। রাতের ব্যাকগ্রাউন্ড ডাটা সাধারণত সকালের তুলনায় কম, কিন্তু সম্পূর্ণ বন্ধ নয়।

সংক্ষেপে বলা যায়, একজন ব্যবহারকারীর ডিভাইস প্রতিদিন শতাধিক, সম্ভবত কয়েকশোবার তার তথ্য ট্র্যাক করছে। লোকেশন চেক: ৩০-৫০ বার, সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল: ২০-৩০ বার প্রতি ১০ মিনিট, ব্রাউজিং/শপিং: ৫০-৬০ বার, ভয়েস/এআই কমান্ডস: ১০-২০ বার। মোটামুটি সাধারণ দিনে শতাধিক ডাটা পয়েন্ট সংগ্রহ হচ্ছে আপনার ব্যবহার অনুসারে।

আরও পড়ুন
সোশ্যাল মিডিয়া নজর রাখছে আপনার ব্যক্তিগত জীবনেও
সত্যিই কি ভবিষ্যতে ফোন-কম্পিউটার থাকবে না?

কেএসকে

আরও পড়ুন