ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. তথ্যপ্রযুক্তি

প্রথমবারের মতো ফ্রিল্যান্সারদের নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করলো সরকার

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৭:৩৯ পিএম, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

দেশে প্রথমবারের মতো ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ডিজিটাল ফ্রিল্যান্সার নিবন্ধন ও আইডি কার্ড ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে সরকার। এর ফলে ফ্রিল্যান্সাররা সরকারি স্বীকৃত ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড পাবে, যা ব্যাংকিং সেবা, ঋণ ও ক্রেডিট সুবিধা, আর্থিক প্রণোদনা ও সরকারি-বেসরকারি প্রশিক্ষণে সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে এবং পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধি করবে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি বিভাগের সভাকক্ষে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এই সফটওয়্যার উদ্বোধন করেন। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর এই প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ করে।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ কন্ট্যাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্কো) দীর্ঘদিন ধরে ফ্রিল্যান্সারদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে। জাতীয় এই প্ল্যাটফর্ম চালুর মাধ্যমে সরকারের উদ্যোগের সঙ্গে বাক্কোর ধারাবাহিক প্রচেষ্টার একটি শক্ত সমন্বয় প্রতিফলিত হয়েছে বলে মনে করছে বাক্বো।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা, বিশেষ করে হয়রানি ও আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ফ্রি রাখা হয়েছে।

বিশেষ সহকারী আরও বলেন, এরই মধ্যে সাইটের ভিএপিটি সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। আজ থেকেই সাইন আপ এবং ফ্রিল্যান্সার আইডির জন্য আবেদন করা যাবে।

তিনি বলেন, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফ্রিল্যান্সারের ইউজার এক্সপেরিয়েন্স উন্নয়নে ফ্রিল্যান্সার কমিউনিটি লিডার ও বাংলাদেশ কল সেন্টার অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে কাজ করবেন।

আইসিটি বিভাগ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি ফরমাল চিঠি পাঠানো হবে, যাতে ভবিষ্যতে ম্যানুয়াল আইডির পরিবর্তে এই ডিজিটাল ফ্রিল্যান্সার আইডি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রহণ করে।

এরই মধ্যে জালিয়াতি ও হয়রানির অভিযোগের প্রেক্ষিতে আগের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে এবং ফ্রিল্যান্সার কমিউনিটি লিডাররা স্বীকৃত পেমেন্ট মেথডে বার্ষিক ৫০ ডলারের মার্জিনকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। আইসিটি বিভাগের প্রকৌশলীরা এই সফটওয়্যারটি তৈরি করেছেন তারাই এর রক্ষণাবেক্ষণ করবে।

ফ্রিল্যান্সাররা ওয়েবসাইট ব্যবহার করে নিবন্ধন করতে পারবেন। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে— আবেদন ফি, নবায়ন ফি ও প্রসেসিং ফিসহ সব ধরনের আর্থিক লেনদেন ও সংশ্লিষ্ট হয়রানি সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়েছে।

ডিওআইসিটির ২৯ জন প্রকৌশলী আইডি ভেরিফিকেশনে একটি রিসোর্স পুল হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কারিগরি সহায়তার জন্য ৪ জন সাপোর্ট এক্সপার্ট, শেয়ারড রিসোর্স পুল হিসেবে ফ্রিল্যান্সারদের পাশে থাকবেন। খুব শিগগির এপিআই (এপিআই) ভিত্তিক ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা চালু হবে।

নতুন এই ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ডের মাধ্যমে নিবন্ধিত ফ্রিল্যান্সাররা ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ, ঋণ ও ক্রেডিট কার্ড সুবিধা, আর্থিক প্রণোদনা এবং সরকারি ও বেসরকারি প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সহজে গ্রহণ করতে পারবেন। একই সঙ্গে প্ল্যাটফর্মটি একটি জাতীয় ফ্রিল্যান্সার ডেটাবেজ হিসেবে কাজ করবে, যেখানে ফ্রিল্যান্সারদের সংখ্যা, দক্ষতা ও কাজের ধরন সংরক্ষিত থাকবে, যা ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে সহায়ক হবে।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবু সাঈদ, বাক্বো’র সভাপতি তানভীর ইব্রাহিম উপস্থিত ছিলেন।

ইএইচটি/এমআইএইচএস