বিয়ের কনের সাজ মানেই লাল শাড়ি, ভারী গয়না আর সেই সঙ্গে নাকে থাকা একটি নাকফুল। অনেকের কাছে এটি নিছক সাজের অংশ, তবে কারও কারও কাছে এটি বিয়ের পর নারীর পরিচয়ের প্রতীক। কিন্তু প্রশ্ন হলো বিয়ের সাজে নাকফুল কি শুধুই ফ্যাশন, নাকি সমাজে গেঁথে থাকা এক পুরোনো প্রথা?
ইতিহাসের পাতায় নাকফুলনাকফুলের ইতিহাস নতুন নয়। ভারতীয় উপমহাদেশে নাকফুল পরার প্রচলন বহু শতাব্দী পুরোনো। বিভিন্ন অঞ্চলে এটি কখনো সৌন্দর্যের প্রতীক, কখনো বৈবাহিক অবস্থার চিহ্ন হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। বিশেষ করে বিয়ের সময় নাকফুল পরানো হতো এক ধরনের সামাজিক ঘোষণা হিসেবে, এই নারী এখন বিবাহিত। সময়ের সঙ্গে সেই ধারণা প্রথায় পরিণত হয়েছে।
প্রথা থেকে সামাজিক প্রত্যাশাএকসময় নাকফুল পরা ছিল রীতি, এখন অনেক ক্ষেত্রে তা সামাজিক প্রত্যাশা। অনেক পরিবারেই বিয়ের পর নাকফুল না পরলে নানা প্রশ্ন, এমনকি কটুক্তিও শুনতে হয়। কোথাও এটিকে ‘শুভ লক্ষণ’, কোথাও আবার ‘সংসার টিকিয়ে রাখার প্রতীক’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। অথচ এসব বিশ্বাসের পেছনে বাস্তব বা বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তি নেই, আছে কেবল সামাজিক চাপ ও প্রচলিত ধারণা।
আরও পড়ুন: জামদানির বুননে বিয়ের স্বপ্নশাড়ির ভাঁজে ভাঁজে অনুভূতি, বিয়েতে বেনারসির বাইরে যাবিয়ের জন্য সোনার গহনা কিনছেন? যা জানা জরুরি
আধুনিক নারীর চোখে নাকফুলআজকের প্রজন্মের নারীরা বিষয়টি দেখছেন ভিন্নভাবে। তাদের কাছে নাকফুল মানে বাধ্যবাধকতা নয়, বরং পছন্দ। কেউ বিয়ের দিনে ভারী নাকফুল পরছেন সাজের সৌন্দর্য বাড়াতে, আবার বিয়ের পর তা খুলে রাখছেন স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য। কেউ কেউ আবার নাকফুল একেবারেই পরছেন না, কারণ সেটি তাদের ব্যক্তিগত রুচির সঙ্গে মেলে না। আধুনিক চিন্তায় সাজ মানে নিজের ইচ্ছা, সমাজের চাপ নয়।
ফ্যাশনের বদলে বদলে যাওয়া অর্থসময় বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে নাকফুলের অর্থও বদলেছে। আগে যেখানে এটি ছিল বৈবাহিক পরিচয়ের চিহ্ন, এখন সেখানে এটি একটি ফ্যাশন স্টেটমেন্ট। ডিজাইনার নাকফুল, নোজ পিন, নোজ রিং সবই এখন স্টাইলের অংশ। অবিবাহিত মেয়েরাও নাকফুল পরছেন, আবার অনেক বিবাহিত নারী তা এড়িয়ে চলছেন। এতে স্পষ্ট নাকফুল আর কেবল প্রথার গণ্ডিতে আবদ্ধ নেই।
প্রথা মানা নাকি প্রশ্ন তোলা?প্রথা মানা দোষের নয়, যদি তা ব্যক্তিগত পছন্দ থেকে আসে। সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন কোনো নারীকে জোর করে একটি প্রথা মানতে বাধ্য করা হয়। বিয়ের পর নাকফুল পরা যদি আনন্দের হয়, তাহলে তা ফ্যাশন; আর যদি সামাজিক চাপে পরতে হয়, তাহলে সেটি প্রথার বোঝা। সিদ্ধান্তটা হওয়া উচিত নারীর নিজের।
বিয়ের সাজে নাকফুল এটি ফ্যাশনও হতে পারে, আবার প্রথাও হতে পারে। কিন্তু সেটি কী হবে, তা নির্ধারণ করার অধিকার একমাত্র নারীরই। সমাজ বদলাচ্ছে, দৃষ্টিভঙ্গিও বদলাচ্ছে। হয়তো একদিন নাকফুল আর প্রশ্নের বিষয় হবে না, হবে শুধু একটি অলংকার যা কেউ পরবে নিজের ইচ্ছায়, কেউ পরবে না নিজের স্বাধীনতায়।
জেএস/জেআইএম