লাইফস্টাইল

দাঁত ব্রাশের ছোট অভ্যাসে কমতে পারে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি

দাঁত ব্রাশ করা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একেবারে সাধারণ একটি কাজ। সকালে ঘুম থেকে উঠে কিংবা রাতে শোবার আগে-এই অভ্যাসটি এতটাই স্বাভাবিক যে, বেশিরভাগ সময় আমরা তা করি না ভেবেই। কিন্তু জানেন কি, এই ছোট অভ্যাসের মধ্যেই লুকিয়ে থাকতে পারে মস্তিষ্ক সুস্থ রাখার একটি কার্যকর কৌশল।

বিজ্ঞান বলছে, আমাদের মস্তিষ্ক অনেক দৈনন্দিন কাজই করে ‘অটো-পাইলট’ মোডে। অর্থাৎ নতুন করে চিন্তা বা মনোযোগের খুব একটা প্রয়োজন হয় না। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি মস্তিষ্ককে নিয়মিত চ্যালেঞ্জ না দেওয়া হয়, তাহলে স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তি ধীরে ধীরে দুর্বল হতে শুরু করে। ঠিক এই জায়গাতেই সাধারণ কাজের মধ্যে সামান্য পরিবর্তন এনে মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখা সম্ভব।

সম্প্রতি একটি ইনস্টাগ্রাম রিলে স্নায়ুবিজ্ঞানী জুলস ডিমেনশিয়া প্রতিরোধে কিছু সহজ অভ্যাসের কথা বলেছেন। তার মতে, দাঁত ব্রাশ করার সময়ই এমন কিছু অভ্যাস রপ্ত করা যায়, যা মস্তিষ্কের কগনিটিভ স্ট্রেন্থ, ব্যালান্স এবং কন্ট্রোল-এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিককে সক্রিয় রাখে। নিয়মিত এই অভ্যাসগুলো করলে প্রাথমিক পর্যায়ের স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

১. উল্টা হাত দিয়ে দাঁত মাজাআমরা সাধারণত যে হাত দিয়ে দৈনন্দিন কাজ করি, দাঁত ব্রাশ করার সময়ও সেই হাতই ব্যবহার করি। কিন্তু মাঝে মাঝে অন্য হাত দিয়ে দাঁত মাজলে মস্তিষ্ককে নতুনভাবে কাজ করতে হয়।

শুরুর দিকে কিছুটা অস্বস্তি হলেও সেটাই আসলে উপকারি। কারণ এতে মস্তিষ্কের কম ব্যবহৃত অংশগুলো সক্রিয় হয়, নিউরাল সংযোগ জোরদার হয় এবং নতুনভাবে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা বাড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস স্মৃতিশক্তি ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে।

২. এক পায়ে দাঁড়িয়ে ব্রাশ করার অভ্যাস করাদাঁত ব্রাশ করার সময় যদি এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকেন, তাহলে শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে মস্তিষ্ককে বাড়তি কাজ করতে হয়। এতে শরীর ও মস্তিষ্কের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি পায়।গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিতভাবে ব্যালেন্স ও কো-অর্ডিনেশন চর্চা করলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে।

৩. মনে মনে উল্টা করে ভাবা দাঁত মাজার সময় মনে মনে ইংরেজি বর্ণমালা জেড থেকে এ পর্যন্ত বলার চেষ্টা করুন। চাইলে সংখ্যাও উল্টো করে গুনতে পারেন। এ ধরনের মানসিক ব্যায়াম মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে, মনোযোগ বাড়ায় এবং স্মৃতি ধরে রাখতে সাহায্য করে। আরও এক ধাপ এগোতে চাইলে বর্ণমালা ও সংখ্যা একসঙ্গে বলুন। যেমন:জেড ২৬, ওয়াই ২৫, এভাবে এ ১ পর্যন্ত করতে পারেন। এতে মস্তিষ্কের মাল্টিটাস্কিং ক্ষমতা ও কগনিটিভ স্ট্রেন্থ বাড়বে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

আরও পড়ুন:শোকের সময় মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষার উপায় চিনি কমালে শরীরে যে ৭টি ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে 

এসএকেওয়াই /