আইন-আদালত

আশুলিয়ায় ৬ মরদেহ পোড়ানো মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সাভারের আশুলিয়ায় ছয় মরদেহ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তা জানে আলম খানের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। এখন আসামি পক্ষের সাফাই সাক্ষীর বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দিন ঠিক করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করেন।

ট্রাইব্যুনালে আজ তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আবুল হাসান, সুজাদ মিয়া ও আসাদুজ্জামান বাবু। জেরা শেষ করার পর মামলায় আসামিপক্ষের সাফাই সাক্ষীর বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য মঙ্গলবার দিন ঠিক করেন ট্রাইব্যুনাল।

এ মামলায় ২৬ জন আসামির মধ্যে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন আটজন। তাদের মধ্যে ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, ঢাকা জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, আবজাল ও কনস্টেবল মুকুল। তবে সাবেক এমপি সাইফুলসহ আটজন এখনো পলাতক রয়েছেন।

গত বছরের ২ জুলাই এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে জমা দেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন টিম। আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সঙ্গে অন্যান্য তথ্যসূত্র হিসেবে ৩১৩ পৃষ্ঠা, সাক্ষী ৬২, দালিলিক প্রমাণাদি ১৬৮ পৃষ্ঠা ও দুটি পেনড্রাইভ যুক্ত করা হয়। পরে এ মামলায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ গত ২ জুলাই আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ছয়জন। এরপর পুলিশ ভ্যানে তাদের মরদেহ তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। নৃশংস এ ঘটনার সময় একজন জীবিত ছিলেন। কিন্তু তাকেও বাঁচতে দেননি তারা। পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত মানুষকেই পুড়িয়ে মারা হয়।

এ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়।

এফএইচ/এমএমকে