দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন বরেণ্য চিত্রগ্রাহক ও চলচ্চিত্র পরিচালক আব্দুল লতিফ বাচ্চু। গত রোববার তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে।
আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে আব্দুল লতিফ বাচ্চুর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় চলচ্চিত্র শিল্পী, পরিচালক, চিত্রগ্রাহকসহ চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট অনেকে অংশ নেন এবং মরহুমের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। জানাজা শেষে আব্দুল লতিফ বাচ্চুর মরদেহ গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।আরও পড়ুনযে ভয়ে শাকিবের নায়িকা হওয়ার সুযোগ পেয়েও অডিশন দেননি তিশাঈদে আসছে সুমন ধরের থ্রিলার ওয়েব ফিল্ম, অভিনয়ে ইরফান-ভাবনা-দীঘি
জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন আব্দুল লতিফ বাচ্চু। উন্নত চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের জুলাই মাসে তাকে দেশের বাইরেও নেওয়া হয়। পরে দেশে ফেরার পর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
দেশ স্বাধীনের আগে থেকে আব্দুল লতিফ বাচ্চু চিত্রগ্রহণের কাজে নিজেকে জড়ান। শুরুটা সহকারী হয়ে, এরপর পূর্ণাঙ্গ চিত্রগ্রাহক হিসেবে তার পথচলা শুরু। ১৯৪২ সালের ৯ জানুয়ারি তিনি সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। সর্বশেষ তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র গ্রাহক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘদিনের কর্মস্থল এফডিসিতে ফুলেল শ্রদ্ধায় সিক্ত হন আব্দুল লতিফ বাচ্চু‘আলোর পিপাসা’, ‘আগন্তুক’, ‘দর্পচূর্ণ’ সিনেমায় বিখ্যাত চিত্রগ্রাহক সাধন রায়ের সহকারী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন। ১৯৬৮ সালে ‘রূপকুমারী’ সিনেমায় একক ক্যারিয়ার শুরু করেন।
স্বাধীনতার পর চিত্রা জহিরের প্রযোজনা ও কাজী জহিরের পরিচালনায় কাজ করেন ‘অবুঝ মন’ সিনেমায়। এরপর ‘বলবান’ সিনেমার মাধ্যমে পরিচালনায় নাম লেখান। ‘যাদুর বাঁশি’, ‘দ্বীপকন্যা’, ‘নতুন বউ’, ‘মি. মাওলা’, ‘প্রতারক’ তার পরিচালিত উল্লেখযোগ্য সিনেমা। দীর্ঘ জীবনে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস) ছাড়াও অর্জন করেছেন চ্যানেল আই কর্তৃক প্রবর্তিত ‘ফজলুল হক স্মৃতি’ পুরস্কার।
এমআই/এলআইএ