লাইফস্টাইল

বিয়ের আগে ত্বক উজ্জ্বল রাখতে বাড়িতে বানান আফটার শেভ লোশন

বিয়ের আগে অনেকেই শেভ করেন। তবে শেভ করার পর বাজারের রাসায়নিকযুক্ত লোশন ব্যবহার করলে ত্বক ধীরে ধীরে শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। অনেক সময় ত্বক লালচে, খসখসে বা জ্বালাপোড়া ভাব দেখা দিতে পারে, যা বিয়েতে আপনার লুককে প্রভাবিত করতে পারে।

এক্ষেত্রে ভালো সমাধান হলো নিজেই ঘরোয়া উপাদান দিয়ে আফটার শেভ লোশন তৈরি করা। এই লোশন ত্বককে ঠান্ডা রাখে, শেভিংয়ের কারণে হওয়া লালচে দাগ কমায় এবং প্রাকৃতিকভাবে ত্বককে হাইড্রেটেড ও কোমল রাখে। নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বক নরম, সতেজ এবং উজ্জ্বল দেখায়, যা বিয়ের দিনে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

আসুন জেনে নেওয়া যাক বাড়িতে কীভাবে আফটার শেভ লোশন তৈরি করবেন যেভাবে-

১.ফিটকিরি, অ্যালোভেরা ও গোলাপ জলে একটি পাত্রে দুই চা চামচ অ্যালোভেরা জেল এবং দুই চা চামচ গোলাপ জল মিশিয়ে তাতে এক চিমটি ফিটকিরি গুঁড়া দিন। ভালোভাবে মিশিয়ে শেভ করার পর হালকা হাতে ত্বকে লাগিয়ে নিন। এই লোশন ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে এবং লালচে ভাব কমায়। অ্যালোভেরা ত্বককে ঠান্ডা রাখে ও জ্বালা কমাতে সাহায্য করে, গোলাপ জল ত্বককে সতেজ রাখে, আর ফিটকিরি অ্যান্টিসেপটিক এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণের কারণে ত্বকের কাটাছেঁড়া সারিয়ে উজ্জ্বল করে।

২. শসা ও অ্যালোভেরা দিয়ে শেভ করার পর ত্বক অনেক সময় লালচে বা খসখসে হয়ে যায়। শসা ত্বককে ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি ট্যানিং কমাতেও সাহায্য করে। প্রথমে শসা কুচিয়ে তার রস বের করুন এবং তাতে ১-২ চামচ অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি শেভ করার পর মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বককে নরম এবং সতেজ রাখবে। । নিয়মিত ব্যবহার করলে শেভ করার পর ত্বক থাকে কোমল, শান্ত এবং প্রাকৃতিকভাবে হাইড্রেটেড।

৩. ফিটকিরি ব্যবহার করেশেভ করার পর কাটা, জ্বালা বা সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে প্রাচীনকাল থেকেই ফিটকিরি ব্যবহার হয়ে আসছে। এতে অ্যান্টিসেপটিক এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ থাকায় ত্বককে পরিষ্কার, সতেজ এবং স্বাভাবিকভাবে সুস্থ রাখে। ফিটকিরি ব্যবহার করতে চাইলে পানি দিয়ে তা ভিজিয়ে নিন এবং শেভ করার পর হালকাভাবে ত্বকে ঘষে নিন। এই প্রক্রিয়ায় ত্বকের ক্ষুদ্র কাটা বা জ্বালা দ্রুত কমে। তবে মনে রাখবেন, ফিটকিরি বেশি সময় ধরে ঘষা উচিত নয়, কারণ ত্বক সংবেদনশীল হয়ে যেতে পারে।

ঘরে তৈরি শেভ লোশনের উপকারিতাবাড়িতে তৈরি শেভ লোশন সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক হওয়ায় এটি ত্বকের কোনো ক্ষতি করে না। প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে তৈরি হওয়ায় সংবেদনশীল ত্বকেও এটি নিরাপদ। এছাড়া, ঘরে তৈরি লোশন সস্তা এবং সহজে তৈরি করা যায়। বাজারে যেখানে আফটার শেভ লোশন বেশি দামে পাওয়া যায়, সেখানে আপনি একই লোশন কম খরচে নিজে বানিয়ে নিতে পারেন।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, ন্যাচারাল লিভিং ফ্যামিলি ও অন্যান্য

আরও পড়ুন:পিঠ চুলকে ঘণ্টায় আয় ১২ হাজার টাকা জোহরান মামদানির রূপার আংটি কি শুধুই ফ্যাশন 

এসএকেওয়াই/