ক্যাম্পাস

অপরাধীদের আশ্রয় দিতে দিতে ভারত এশিয়ার ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে

ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি খায়রুল আহসান মারজান বলেছেন, ভারত এমন একটি দেশ যেখানে এশিয়ার সব খুনি, গণহত্যাকারী, চোরাকারবারি, মাদক ব্যবসায়ী ও দুর্নীতিবাজরা আশ্রয় নেয়। শহীদ ফেলানির হত্যাকারী, জুলাই হত্যাকারী কিংবা শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীরা ভারতের পৃষ্ঠপোষকতায় সে দেশে অবস্থান করে। ফলে অপরাধকারীদের আশ্রয় দিতে দিতে ভারত এশিয়ার ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) ফেলানী হত্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। ফেলানী থেকে হাদি- সব হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিতের দাবিতে এবং রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সব প্রকার আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে এ মানববন্ধন করে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন। এতে সংগঠনটির ঢাবি শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ আলী, সাধারণ সম্পাদক সাইফ মোহাম্মদ আলাউদ্দিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

খায়রুল আহসান মারজান বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশকে স্বাধীন স্বার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ভারত কখনোই ট্রিট করেনি। বরং সবসময় আধিপত্য বিস্তারের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থেকেছে। দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিকে প্রভাবিত করে এ দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করে এসেছে। আর সেই ষড়যন্ত্র ও দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের সূত্র ধরেই ফেলানী, আবরার ফাহাদ ও জুলাই ম্যাসাকার হয়ে ওসমান হাদি হত্যার ঘটনা ঘটে। আর এসবের পেছনে ভারতীয় আধিপত্যবাদ সবচেয়ে বড় কারণ। তাই এই আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এই সরকারকেই সবচেয়ে বেশি সরব হতে হবে।

আরও পড়ুনপ্রাথমিকে ১৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ ঘিরে সক্রিয় প্রশ্নফাঁস চক্রপ্রার্থিতা ফিরে পেতে তিন দিনে ইসিতে ২৯৫ প্রার্থীর আপিল

মানববন্ধনে ঢাবি শাখার সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত বলেন, সীমান্ত হত্যা, বিচারবহির্ভূত হত্যা, রাজনৈতিক নিপীড়ন ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। ফেলানী হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ের হাদিসহ অসংখ্য হত্যাকাণ্ড আজও বিচারহীন থেকে গেছে। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি অপরাধকে আরও উৎসাহিত করছে এবং রাষ্ট্রীয় ন্যায়বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট করছে।

ঢাবি শাখা ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, কোনো জাতি তখনই সভ্য ও মানবিক হতে পারে, যখন সে তার নাগরিকের জীবন ও মর্যাদার নিশ্চয়তা দিতে সক্ষম হয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আজ আধিপত্যবাদী রাজনীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার মানুষের ন্যায্য অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে অবিলম্বে ফেলানী ও শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

এতে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির ঢাবি শাখার দাওয়াহ সম্পাদক ইলিয়াস তালুকদার, অর্থ সম্পাদক মো. ইকরামুল কবির, ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক এরফান মোহাম্মদ প্রমুখ।

এফএআর/কেএসআর/জেআইএম