পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোর অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ট্রাওরেকে হত্যার একটি ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক জান্তা সরকার।
রোববার গভীর রাতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে বুরকিনা ফাসোর নিরাপত্তামন্ত্রী মাহামাদু সানা বলেন, এই ‘জটিল ও সুপরিকল্পিত’ ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল পল অঁরি দামিবা। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন দামিবা।
নিরাপত্তামন্ত্রীর দাবি, ষড়যন্ত্রকারীরা প্রথমে রাষ্ট্রপ্রধান ট্রাওরেকে হত্যা করতে এবং পরে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বেসামরিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের ওপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো শেষ মুহূর্তে এই পরিকল্পনা শনাক্ত করতে সক্ষম হয় বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন>>ইব্রাহিম ট্রাওরে কেন আলাদা: বুরকিনা ফাসোর তরুণ নেতার গল্পবিভিন্ন দেশে মানুষের হৃদয় জয় করেছেন বুরকিনা ফাসোর সেনাশাসকআফ্রিকায় হঠাৎ সেনা অভ্যুত্থানের ঢেউ, গণতন্ত্র হারালো কোন কোন দেশ
মাহামাদু সানা আরও অভিযোগ করেন, এই ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী দেশ আইভরি কোস্ট থেকে অর্থায়ন করা হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় সাত কোটি সিএফএ ফ্রাঁ (প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার) সরবরাহ করা হয়। তবে এ বিষয়ে কর্নেল দামিবা কিংবা আইভরি কোস্টের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
নিরাপত্তামন্ত্রী জানান, একটি ফাঁস হওয়া ভিডিও ফুটেজে ষড়যন্ত্রকারীদের আলোচনা ধরা পড়েছে। সেখানে তারা শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাত ১১টার পর রাষ্ট্রপ্রধানকে খুব কাছ থেকে গুলি করে অথবা তার বাসভবনে বিস্ফোরক পুঁতে হত্যার পরিকল্পনার কথা বলছিলেন বলে দাবি করা হয়। এর পর অন্যান্য শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিদের লক্ষ্য করার পরিকল্পনাও ছিল।
তার আরও অভিযোগ, দামিবা সেনাসদস্য ও বেসামরিক সমর্থকদের সংগঠিত করেছিলেন এবং বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ ঠেকাতে দেশের ড্রোন উৎক্ষেপণ ঘাঁটি অচল করে দেওয়ারও পরিকল্পনা ছিল।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে মাহামাদু সানা বলেন, ‘তদন্ত চলছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে।’ একই সঙ্গে তিনি জনগণকে ‘ভুল পথে প্রলুব্ধ না হওয়ার’ আহ্বান জানান।
তবে কতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা জানানো হয়নি।
আরও পড়ুন>>বুরকিনা ফাসোর জনগণ কেন প্রেসিডেন্টের প্রতি অসন্তুষ্ট?বুরকিনা ফাসোয় সামরিক শাসককে ক্ষমতাচ্যুত করলেন সেনারাপশ্চিম আফ্রিকায় একের পর এক অভ্যুত্থান, দায় কি পশ্চিমাদের?
২০২২ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ট্রাওরে অন্তত দুইবার অভ্যুত্থানচেষ্টার মুখে পড়েছেন। পাশাপাশি দেশটিতে সন্ত্রাসী সহিংসতা বেড়েই চলেছে, যার ফলে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সমালোচকেরা তাকে কর্তৃত্ববাদী শাসক হিসেবে আখ্যা দিয়ে বিরোধী দমন, নির্বিচার গ্রেফতার ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ তুললেও, দেশটির ভেতরে এবং আফ্রিকার বিভিন্ন প্রান্তে তার প্যান-আফ্রিকান দৃষ্টিভঙ্গি ও পশ্চিমা প্রভাবের সমালোচনার কারণে উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন রয়েছে।
উল্লেখ্য, পল অঁরি দামিবা ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বুরকিনা ফাসোর ক্ষমতায় ছিলেন। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি প্রতিবেশী টোগোতে নির্বাসনে যান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তার উত্তরসূরির সাফল্য কামনা করেছিলেন।
সূত্র: বিবিসিকেএএ/