লাইফস্টাইল

ইয়ারবাড ব্যবহারে ব্রেন ক্যানসারের ঝুঁকি আছে কি

প্রায় সবাই শুনতে ভালোবাসেন। কাজের ফাঁকে, অবসরে কিংবা ঘরে একান্ত সময় কাটাতে গান শোনা অনেকেরই প্রিয় অভ্যাস। গবেষণা বলছে, সঙ্গীত শুনলে ডিমেনশিয়া, অ্যালঝাইমার্সের মতো মস্তিষ্কের জটিল রোগ প্রতিরোধে সাহায্য হতে পারে। তাই গান এক প্রকার অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে।কিন্তু সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, মস্তিষ্কের ক্যানসারের সঙ্গে ইয়ারবাড বা হেডফোনের সংযোগ রয়েছে। এতে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

তবে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন, মস্তিষ্কের কাছাকাছি এমন কোনো যন্ত্র রাখা উচিত নয় যার সঙ্গে রেডিয়েশনের সম্পর্ক আছে। ব্লু টুথ ইয়ারবাড বা অনুরূপ ডিভাইস থেকে উচ্চমাত্রার ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন (ইএমএফ) নির্গত হয়। অনেক মানুষের আতঙ্কের কারণও এখানেই।

মস্তিষ্কের দিক থেকে ইয়ারবাডকে একটি মিনি মাইক্রোওয়েভ হিসেবে ভাবা যেতে পারে। এটি মোবাইল ফোনের তুলনায় প্রায় ১১ গুণ বেশি রেডিয়েশন সৃষ্টি করে। তবে, ইয়ারবাড বা হেডসেটের ব্যবহার ও মস্তিষ্কের ক্যানসারের সরাসরি সম্পর্ক এখনো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি।

ইএমএফ বা ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড কী-ইএমএফ বা ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড হল সেই শক্তি যা যেকোনো বৈদ্যুতিক ডিভাইজের চারপাশে তৈরি হয়। এর দুটি ধরন আছে-

নন-আয়নাইজিং রেডিয়েশন: কম ফ্রিকোয়েন্সির, সাধারণত ক্ষতিকর নয়। মোবাইল, ব্লুটুথ ডিভাইস, ওয়াই-ফাই রাউটার ইত্যাদি থেকে বের হয়। এটি এতটাই দুর্বল যে শরীরের কোষে থাকা শক্তভাবে বাঁধা ইলেকট্রন আলাদা করতে পারে না, তাই শরীরে আয়নাইজেশন হয় না। ফলে ক্ষতিও হয় না।

আয়নাইজিং রেডিয়েশন: শক্তিশালী, যেমন এক্স-রে, গামা-রে। কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, গত দুই দশকে ব্লু টুথ ডিভাইস ও মোবাইল ফোনের স্বাস্থ্য প্রভাব নিয়ে প্রচুর গবেষণা হয়েছে। তবে এখনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে এগুলো ব্যবহার করলে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যায়।

আমেরিকান জাতীয় ক্যানসার ইনস্টিটিউট-এর কিছু গবেষণায়, ইয়ারবাড বা মোবাইলের সঙ্গে মস্তিষ্কের টিউমারের সম্ভাবনা উল্লেখ করেছে। তবে এই গবেষণাগুলোর অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সামগ্রিকভাবে দেখা গেছে, মোবাইল ফোনের সঙ্গে সরাসরি ক্যানসারের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়নি। যে পরিমাণ রেডিয়েশন এই ডিভাইসগুলো থেকে নির্গত হয়, তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানের অনেক নিচে থাকে। তাই সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এগুলো নিরাপদ বলে ধরে নেওয়া যায়।

যা খেয়াল রাখবেন-১. ইয়ারবাড ডিভাইস বেশি সময় ধরে না ব্যবহার করা

২. মস্তিষ্কের খুব কাছে ডিভাইস রাখা এড়িয়ে চলা

৩. শিশু বা কিশোরদের ব্যবহারে সতর্ক থাকা

গান শোনা উপভোগ করুন, কিন্তু সাবধানতার সঙ্গে। সচেতন ব্যবহার নিশ্চিত করবে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়িয়ে চলা।

সূত্র: হেলথলাইন, টাইমস অব ইন্ডিয়া, আমেরিকান জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউট, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আরও পড়ুন: শীতে খুসখুসে কাশি, ঠান্ডা লাগার সমস্যা নাকি দূষণের প্রভাব শীতকালে ক্ষুধা বেশি লাগে কেন 

এসএকেওয়াই/