প্রবাস

মালয়েশিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি: জোর প্রস্তুতি বাংলাদেশের

মালয়েশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের আলোচিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) দ্রুত চূড়ান্ত করতে জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এ তথ্য জানান কুয়ালালামপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী। মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বারনামাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান তিনি।

হাইকমিশনার বলেন, কয়েক বছর আগে এফটিএ নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও ২০২৪ সালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের ঢাকা সফরের পর আলোচনায় নতুন গতি আসে। চুক্তির বিভিন্ন শর্তাবলী নিয়ে দুই দেশ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। বিষয়টি জটিল হওয়ায় সময় লাগছে, তবে লক্ষ্য হচ্ছে দ্রুততম সময়ে আলোচনা সম্পন্ন করে চুক্তি কার্যকর করা।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৩ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন রিঙ্গিত, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যবসায়িক অংশীদার বাংলাদেশ। বাণিজ্যের প্রধান খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে- মালয়েশিয়া থেকে পেট্রোলিয়াম পণ্য, পাম অয়েল ও রাসায়নিক দ্রব্য বাংলাদেশে আমদানি এবং বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, জুতা, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্য মালয়েশিয়ায় রপ্তানি।

আরও পড়ুনটেকসই নগর উন্নয়নে ‘আই লাইট ইউ’ প্রকল্পের উদ্বোধনমালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ১৭১ অবৈধ অভিবাসী আটক

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ককে কেবল শ্রমিক রপ্তানির দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার প্রবণতা পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করে হাইকমিশনার বলেন, মানবসম্পদ খাতে সম্পর্ক সন্তোষজনক হলেও বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল প্রযুক্তি, শিক্ষা ও জ্ঞানভিত্তিক খাতে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী।

তিনি জানান, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন, যা দেশটিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদেশি শিক্ষার্থী গোষ্ঠী। পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষকরাও মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের ঢাকা সফর এবং ২০২৫ সালের আগস্টে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালয়েশিয়া সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন প্রসঙ্গে হাইকমিশনার বলেন, নির্বাচনের পর যে সরকারই গঠিত হোক না কেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার থাকবে। ৫৪ বছরের সুদৃঢ় বন্ধুত্ব আগামী দিনে আরও বহুমুখী ও অর্থবহ রূপ নেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কেএসআর/এএসএম