মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোর সঙ্গে বৈঠক করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এ কথা জানান ট্রাম্প।
এই বৈঠকটি হবে ট্রাম্প ও মাচাদোর মধ্যে প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ। গত বছর নরওয়ের অসলোতে নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণ করতে ভেনেজুয়েলা ছেড়ে আত্মগোপন থেকে বের হয়েছিলেন মাচাদো। আর তাদের এই বৈঠকের ঘোষণা এমন এক সময় এলো, যখন মাত্র এক সপ্তাহের একটু বেশি সময় আগে মার্কিন বাহিনী মাচাদোর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ও প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের উপস্থাপক শন হ্যানিটির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আমি বুঝতে পারছি, তিনি আগামী সপ্তাহের কোনো এক সময়ে আসছেন এবং আমি তার সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় আছি।
ট্রাম্প আরও জানান, মাচাদো তাকে তার নোবেল শান্তি পুরস্কার দিতে চান, যেটি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ট্রাম্প বহুদিন ধরে প্রকাশ করে আসছেন।
এর আগে গত সপ্তাহে ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, ভেনেজুয়েলার ভেতরে দেশটির নেতৃত্ব দেওয়ার মতো সম্মান বা সমর্থন মাচাদোর নেই। এরপর তিনি এমন ইঙ্গিতও দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কার্যত বহু বছর ধরে ভেনেজুয়েলাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি (ভেনেজুয়েলা), নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের অবস্থায় নেই। দেশটিকে পুনর্গঠন করতে হবে আমাদের। এখন তারা জানেই না কীভাবে একটি নির্বাচন করতে হয়।
মারিয়া কোরিনা মাচাদো তার নোবেল শান্তি পুরস্কার ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও ইঙ্গিত দিয়েছেন, বৈঠকের সময় মাচাদো হয়তো সেই পুরস্কার তাকে তুলে দিতে পারেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আমি বুঝতে পারছি তিনি সেটা করতে চান। এটা হবে এক বিশাল সম্মান।
তবে অসলোতে নোবেল ইনস্টিটিউট স্পষ্ট করে জানিয়েছে, নোবেল শান্তি পুরস্কার একজনের কাছ থেকে অন্যজনের কাছে হস্তান্তর করা যায় না। নোবেল ইনস্টিটিউটের মুখপাত্র এরিক আসহেইম এএফপিকে বলেন, একটি নোবেল পুরস্কার কখনোই বাতিল করা যায় না এবং অন্যের কাছে হস্তান্তরও করা যায় না।
তিনি বলেন, একবার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হলে সেই সিদ্ধান্ত চিরকালের জন্য বহাল থাকে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, বিজয়ী চাইলে পুরস্কারের অর্থ কীভাবে ব্যবহার করবেন, সে বিষয়ে তার পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়াটা নরওয়ের জন্য একটি ‘বড় লজ্জা’।
এদিকে, নোবেল কমিটির পাঁচ সদস্য নরওয়ের পার্লামেন্টের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত। তবে শান্তি পুরস্কার প্রদানকারী নোবেল কমিটি জোর দিয়ে বলে আসছে যে তাদের সিদ্ধান্ত নরওয়েজিয়ান সরকারের কাছ থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন।
নরওয়ের পররাষ্ট্রবিষয়ক স্টেট সেক্রেটারি এইভিন্ড ভাদ পিটারসন ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তের সঙ্গে নরওয়ের কর্তৃপক্ষের কোনো সম্পর্ক নেই।
সূত্র: এএফপি
এসএএইচ