বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপে খেলতে যাবেনা, এটা ধরে নিয়েই বলা। বাংলাদেশ আদৌ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবে কিনা তা নিয়েই রাজ্যের সংশয়। আইসিসিতে দু-দফা চিঠি দিয়ে ভারতের মাটিতে না খেলার কথা জানিয়েছে বিসিবি। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও বিশ্বকাপে ভারতে সফর না করতে বলে দেওয়া হয়েছে। ক্রীড়া উপদেষ্টার পর গতকাল বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র উপদেষ্টাও করেছেন একই মন্তব্য।
ওদিকে আইসিসিও বাংলাদেশের কাছে ভারতে নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশ যে কনসার্ন, তার পুঙ্খানুপুঙ্খু ব্যাখ্যা চেয়েছে। আইসিসির প্রেসক্রিপশন মেনে বিসিবিও নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে দ্বিতীয় বার চিঠি দিয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে দুয়েকদিনের মধ্যেই হয়তো জানা যাবে আইসিসির সিদ্ধান্ত। আর সেটি জানতেই উৎসুক গোটা জাতি।
ঠিক এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ ‘গুবলেট’করলেন বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম। নিজের ফেসবুক পেইজে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে ‘ভারতের দালাল’ বলে অভিহিত করে পোষ্ট দিয়ে ফেললেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার মিরপুরের সিটি ক্লাব মাঠে জিয়া স্মৃতি আন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করতে গিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে টি টোয়েন্টির বিশ্ব আসরে বাংলাদেশের খেলা না খেলা প্রসঙ্গে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম বলেন, ‘আমি যদি বোর্ডে থাকতাম, তাহলে আমার সিদ্ধান্ত হতো দেশের ভবিষ্যৎ ও সবকিছু চিন্তা করে। হুট করে একটা মন্তব্য করে দেওয়া জটিল। তবে একটা কথা মাথায় রাখতে হবে, অনেক সময় আলোচনা করে অনেক কিছু সমাধান করা যায়। বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থান কী, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কী হতে পারে, সবকিছু চিন্তা করে আমার সিদ্ধান্ত আমি নিতাম।’
ঐ মন্তব্যর পর বিসিবি পরিচালক ও পারচেজ কমিটি চেয়ারমান নাজমুল ইসলাম ফেসবুকে পোস্টে তামিমকে ভারতের দালাল অভিহিত করে লিখেন, ‘এইবার আরো একজন পরিক্ষিত (পরীক্ষিত) ভারতীয় দালাল এর আত্মপ্রকাশ বাংলার জনগণ দুচোখ ভরে দেখলো।’
জাতীয় দলের ক্রিকেটার মাত্রই দেশের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। তাদের প্রতি সংগঠক, কর্মকর্তা, বোর্ড পরিচালক সবারই একটা সন্মানবোধ থাকা বাঞ্ছনীয়। আর সেই ক্রিকেটারটিও অন্য কেউ নন। তামিম ইকবাল। ক্রিকেট বিশ্ব যাকে এক নামে চেনে। দেশে যার কোটি ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ী।
দেশের হয়ে ৭০ টেস্ট ২৪৩ ওয়ানডে আর ৭৮ টি টোয়েন্টি ম্যাচ মিলে তামিমের মোট রান ১৫ হাজার ২৪৯। তাকে গণ্য করা হয় বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ওপেনার ও অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান। তার সম্পর্কে ফেসবুকে এমন মন্তব্য একেবারেই অনাকাঙ্খিত, অনভিপ্রেত ও অসন্মানজনক। একজন বোর্ড পরিচালক হয়ে দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অমন পোষ্ট ভদ্রতা ও শিষ্টাচারের বাইরে। বরং মিলেছে কুরুচির পরিচয়।
দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের একজন অন্যতম সেরা ক্রিকেটারকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কতটা নেতিবাচক লেখা যায়, এবং একজন বোর্ড পরিচালক স্ব-পদে থেকে তার সম্পর্কে কি ভাষা ব্যবহার করতে পারেন, ওই পোষ্টই বলে দিয়েছে নাজমুল ইসলামের তা জানা নেই। কিংবা জানা থাকলেও তিনি ভদ্রতা, সভ্যতা, সৌজন্যতা ও শিষ্টাচারের মাথা খেয়ে অমন তির্যক ভাষা ব্যবহার করে প্রকারন্তরে নিজেকে ছোট করে ফেলেছেন। হয়েছেন বিতর্কিতও।
পাশাপাশি তার অমন পোষ্ট বিসিবির বর্তমান পরিচালক পর্ষদকেও করেছে হেয় প্রতিপন্ন। সবাই জানলো, দেখলো বিসিবির বর্তমান পরিচালক পর্ষদের একজন পরিচালক সে দেশের একজন জনপ্রিয় ও শীর্ষ তারকাকে কতটা খারাপ ভাষায় ব্যক্তিগতভাবে আক্রমন করতে পারেন।
বিসিবির একজন পরিচালক এমন পোষ্ট দিতে পারেন, সেটা ভেবেও অনেক ক্রিকেট অনুরাগী লজ্জা পাচ্ছেন। সবার একটাই কথা, তামিম ইকবাল নিজের মতো করে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এম নাজমুল ইসলাম হয়তো, তার সঙ্গে একমত হতে পারেননি। তাতে সমস্যা কোথায়? তামিম কিন্তু বলেননি, কেন আমরা ভারত যাচ্ছিনা? আমাদের অবশ্যই ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া উচিত। না হয় সর্বনাশ হয়ে যাবে।
তামিম বলেছেন, ‘আমি যদি বোর্ডে থাকতাম, তাহলে আমার সিদ্ধান্ত হতো দেশের ভবিষ্যৎ ও সবকিছু চিন্তা করে। হুট করে একটা মন্তব্য করে দেওয়া জটিল। তবে এটা কথা মাথায় রাখতে হবে, অনেক সময় আলোচনা করে অনেক কিছু সমাধান করা যায়। বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থান কী, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কী হতে পারে, সবকিছু চিন্তা করে আমার সিদ্ধান্ত আমি নিতাম।’
তার জবাবে অমন ভাষা ব্যবহার এবং সরাসরি দালাল শব্দটা উচ্চারণ করা রীতিমতো সামাজিক অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। খুব স্বাভাবিকভাবেই তির্যক সমালোচনার বিষমাখা তীর নাজমুলের দিকে।
ক্রিকেটাররা সরব হয়েছেন তামিম ইকবালের পক্ষে। কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন, মুমিনুল হক, মেহেদি হাসান মিরাজসহ অনেক জাতীয় ক্রিকেটারই তামিম ইকবালের পক্ষে কথা বলেছেন।
এআরবি/আইএন