কবি ও কথাসাহিত্যিক নুসরাত সুলতানার দ্বিতীয় উপন্যাস ‘অনার্য বৃক্ষযুগল’ উপন্যাসের পাঠ উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১২ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টায় স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন বিকল্প ভাবনার অফিসে মাসিক সাহিত্য আড্ডায় বইটির পাঠ উন্মোচন করা হয়।
শিক্ষাবিদ লুৎফুননাহার খুকুমণির সভাপতিত্বে বইটি নিয়ে আলোচনা করেন কবি, প্রাবন্ধিক ও প্রকাশক লুৎফুল হোসেন, কথাসাহিত্যিক ও কবি রেদওয়ান খান, কবি ও কথাসাহিত্যিক শাবানা ইসলাম বন্যা।
বইটি সম্পর্কে লুৎফুল হোসেন বলেন, ‘অনার্য বৃক্ষযুগল উপন্যাসে লেখক গল্পের ছলে পঁচাত্তর বছরের ইতিহাস বিবৃত করেছেন।’ তবে তিনি বই প্রকাশের ক্ষেত্রে সাহিত্য সম্পাদনার ওপর জোর দেন।
রেদওয়ান খান বলেন, ‘মূল ইতিহাসের সাল, তারিখ, দিন লেখক তুলে এনেছেন। এটি অবশ্যই তার মুন্সিয়ানা। তবে এত ইতিহাস প্রয়োজন আছে কি না; সেটা আলোচনা-সমালোচনার বিষয়। বেশি ইতিহাসের জন্য অনেক সময় চরিত্রের দ্বন্দ্ব-সংঘাত বাঁধাগ্রস্ত হয়েছে।’
আরও পড়ুনবেগম রোকেয়া স্মরণে সাহিত্য আড্ডা বুক অলিম্পিয়াড একটি স্বপ্ন অভিযাত্রা: রহমান রাজু
শাবানা ইসলাম বন্যা বলেন, ‘উপন্যাসটি আমার অত্যন্ত ভালো লেগেছে। আমি নিজের বাবাকে এই উপন্যাসের মূল চরিত্র আরিফুলের সাথে রিলেট করতে পেরেছি। তাছাড়া লেখক যেভাবে ইতিহাস তুলে এনেছেন, তাতে মনে হয় তিনি সেখানে ছিলেন। এটা অবশ্যই লেখকের মুন্সিয়ানা। মুক্তিযুদ্ধকে মনে-প্রাণে ধারণ না করলে এটা সম্ভব নয়। তাছাড়া বরিশালের আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার উপন্যাসটিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।’
তিনজন আলোচকই এ ব্যাপারে একমত হন যে, অনার্য বৃক্ষযুগল ঐতিহাসিক-রাজনৈতিক সমাজ বাস্তবতার উপন্যাস। উপন্যাসে লেখক বরিশালের আঞ্চলিক ভাষার সার্থক প্রয়োগ করেছেন।
সাহিত্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী মনোয়ার হোসেন, কৃষিবিদ রফিক আহমেদ, কবি ও প্রাবন্ধিক গিয়াসউদ্দিন চাষা, কবি ও গবেষক পারভেজ বাবুল, কবি ও অনুবাদক সালাহউদ্দিন আহমেদ, কথাসাহিত্যিক ইশরাত জাহান প্রমুখ।
গান-কবিতা এবং বই আলোচনায় মাসিক সাহিত্য আড্ডাটি উপভোগ্য হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কবি সবুজ মনির।
এসইউ