নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির আবেদন নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। জুয়েলের বাড়ি বাগেরহাটে হলেও তিনি রয়েছেন যশোর কারাগারে, স্ত্রী-সন্তানের জানাজায় তিনি থাকতে পারেননি। পরে স্বজনেরা গতকাল শনিবার (২৪ জানুয়ারি) মা ও ছেলের মরদেহ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেন; জুয়েল সেখানে স্ত্রী-সন্তানকে শেষবারের মতো দেখেন।
জুয়েলের স্বজনেরা দাবি করেছেন, স্ত্রী-সন্তানের জানাজায় অংশ নিতে তার প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়েছিল, কিন্তু প্রশাসনের সাড়া মেলেনি।
তবে প্রশাসনের ব্যাখ্যা ভিন্ন রকম। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুতে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি জুয়েল হাসান সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে যশোর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ বরাবর কোনো আবেদন করা হয়নি।
প্যারোল কীআইনের পরিভাষায় প্যারোল মানে শর্তের অধীনে মুক্তি দেওয়া। নির্দিষ্ট কোনো শর্তসাপেক্ষে কোনো আসামিকে সাময়িকভাবে মুক্ত থাকার সুযোগ দেওয়াকে প্যারোল বলা হয়।
বাংলাদেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্যারোল–সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন করে। বন্দিরা কারাগারে যে কর্তৃপক্ষের অধীনে থাকে, সেই কারা অধিদপ্তর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।
প্যারোলে মুক্তির নীতিমালা বিভিন্ন সময় হালনাগাদ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সর্বশেষ নীতিমালাটি করা হয় ২০১৬ সালের ১ জুন। এটি এখনো কার্যকর রয়েছে বলে কারা কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
প্যারোলের অনুমতি কে দেননীতিমালা অনুসারে কারাবন্দিদের প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার ক্ষমতা জেলা প্রশাসকের, তিনি একই সঙ্গে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটও। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আরও পড়ুনকারাগার থেকেই স্ত্রী-সন্তানকে শেষবিদায় জানালেন ছাত্রলীগের সাদ্দামছাত্রলীগ নেতার স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে পাশাপাশি দাফন
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, কোনো বন্দি জেলার কোনো কেন্দ্রীয়/জেলা/বিশেষ কারাগার/সাব জেলে আটক থাকলে ওই জেলার অভ্যন্তরে যে কোনো স্থানে মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ প্যারোল মঞ্জুর করতে পারবেন।
জুয়েলকে শেষবার দেখাতে স্ত্রী-সন্তানের মরদেহ নেওয়া হয় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে
অন্যদিকে কোনো বন্দি নিজ জেলায় অবস্থিত কোনো কেন্দ্রীয়/জেলা/বিশেষ কারাগার/সাব জেলে আটক না থেকে অন্য জেলায় অবস্থিত কোনো কেন্দ্রীয়/জেলা/বিশেষ কারাগার/সাব জেলে আটক থাকলে গন্তব্যের দূরত্ব বিবেচনা করে মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ প্যারোল মঞ্জুর করতে পারবেন।
কখন প্যারোলে মুক্তি পাওয়া যায়নীতিমালায় বলা হয়েছে, ভিআইপি বা সব শ্রেণির কয়েদি/হাজতি বন্দিদের কাছের আত্মীয় যেমন মা-বাবা, শ্বশুর-শাশুড়ি, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি ও আপন ভাই-বোন মারা গেলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যাবে।
আরও পড়ুনসাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে যা বললো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
এছাড়া আদালতের আদেশ কিংবা সরকারের বিশেষ সিদ্ধান্তে প্যারোলে মুক্তির প্রয়োজন হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্দিকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যাবে।
কতক্ষণ মুক্ত থাকা যায়মুক্তির সময়সীমা কোনো অবস্থায়ই ১২ ঘণ্টার বেশি হবে না বলে নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে।
এটাও বলা আছে যে, নিরাপত্তা ও দূরত্ব বিবেচনায় প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ সময় নির্ধারণ করবেন। এছাড়া বিশেষ ক্ষেত্রে সরকার মুক্তির সময়সীমা কমানো বা বাড়ানোর ক্ষমতা রাখে।
মুক্ত বন্দির পাহারায় কে থাকেপ্যারোলে সাময়িক মুক্ত বন্দিকে সার্বক্ষণিক পুলিশ পাহারায় রাখতে হবে বলে নীতিমালায় বলা হয়েছে। কারা ফটক থেকে পুলিশ প্যারোলে মুক্ত বন্দিকে গ্রহণ করেন। অনুমোদিত সময়সীমার মধ্যেই আবার কারাগারে বুঝিয়ে দেন।
এ বিষয়ে কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ জাগো নিউজকে বলেন, শুধু জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্যারোল আবেদন মঞ্জুর করেন। প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষের কোনো ক্ষমতা নেই।
তিনি বলেন, একজন বন্দি প্যারোল পেলে কারা কর্তৃপক্ষ বন্দিকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। মুক্তির সময়সীমা শেষ হলে পুলিশ পুনরায় কারা কর্তৃপক্ষের কাছে সংশ্লিষ্ট বন্দিকে হস্তান্তর করে।
টিটি/এমকেআর