পরিপাটি ও স্বাস্থ্যকর লুক পেতে শুধু ভালো প্রসাধনসামগ্রী ব্যবহার করলেই যথেষ্ট নয়, মেকআপ ব্রাশের পরিচ্ছন্নতাও সমান জরুরি। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, ত্বকের যত্ন বা প্রসাধনী বাছাইয়ে যতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়, ব্রাশ পরিষ্কারে ততটা মনোযোগ থাকে না। দীর্ঘদিন অপরিষ্কার থাকা ব্রাশে জমে যায় তেল, ধুলো, মৃত কোষ ও নানা ধরনের জীবাণু। এর ফল হিসেবে দেখা দিতে পারে ব্রণ, চুলকানি, র্যাশ এমনকি চোখের সংক্রমণও।
ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী মেকআপ ব্রাশকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। একটি হলো ক্রিম বা তরল প্রসাধনী ব্যবহারের ব্রাশ। এর মধ্যে পড়ে ত্বকের ভিত্তি তৈরির ব্রাশ, দাগ ঢাকার ব্রাশ, তরল ব্রাশ, কনট্যুর ও হাইলাইটার ব্যবহারের ব্রাশ। যেহেতু এসব ব্রাশ ভেজা বা ক্রিমজাত প্রসাধনীর সঙ্গে ব্যবহার করা হয়, তাই এগুলোতে খুব দ্রুত ময়লা ও জীবাণু জমে।
অন্যটি হলো শুকনো বা গুঁড়া প্রসাধনীর ব্রাশ। চোখের ছায়া, মুখের পাউডার, পাউডার ব্লাশ, কনট্যুর ও হাইলাইটারের জন্য এই ব্রাশগুলো ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে চোখের আশপাশে ব্যবহৃত ব্রাশগুলো সব সময় পরিষ্কার রাখা জরুরি, কারণ চোখের চারপাশের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল।
নির্দিষ্ট দিন গণনা করে নয়, বরং নিয়ম মেনে ব্রাশ পরিষ্কার করাই সবচেয়ে নিরাপদ। প্রতিবার ব্যবহারের পর পরবর্তী ব্যবহারের আগেই ব্রাশ ধুয়ে নেওয়া উচিত। একবার ব্যবহার করা ব্রাশ না ধুয়ে আবার ব্যবহার করা ঠিক নয়। কারণ ব্যবহারের পর ব্রাশে লেগে থাকে প্রসাধনীর অংশ, যেখানে দ্রুত জীবাণু জন্মাতে পারে। ত্বক সুস্থ রাখতে নিয়মিত ব্রাশ ধোয়ার বিকল্প নেই।
যেভাবে ব্রাশ পরিষ্কার করবেনবর্তমানে মেকআপ ব্রাশ পরিষ্কারের জন্য আলাদা ক্লিনার সহজেই পাওয়া যায়। তবে চাইলে হালকা ফেসওয়াশ ব্যবহার করেও ব্রাশ ধোয়া যেতে পারে। পরিষ্কার করার সময় খুব বেশি জোর না দিয়ে আলতোভাবে ধুয়ে নেওয়াই ভালো। এতে ব্রাশের পশম নষ্ট হয় না।
হালকা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করলে ভেতরে জমে থাকা প্রসাধনী সহজে উঠে আসে। তবে ব্রাশ দীর্ঘক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখা উচিত নয়। ধোয়ার পর ব্রাশ সরাসরি টেবিল বা মেঝেতে না রেখে পরিষ্কার কাপড় বা টিস্যুর ওপর রেখে রোদে শুকানো ভালো। এতে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি কমে। খেয়াল রাখতে হবে, ধোয়ার পর যেন কোনোভাবেই ক্লিনার বা ফেসওয়াশের অবশিষ্টাংশ ব্রাশে থেকে না যায়। নইলে ত্বকে অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে।
আরও পড়ুন: শীতের রুক্ষতায় মধুর মোলায়েম ছোঁয়া ঐতিহ্যের ভাঁজে আধুনিক জয়া রুমিন ফারহানার মতো চোখে কাজল দেবেন যেভাবে একটি ব্রাশ কত দিন ব্যবহার করা নিরাপদসঠিকভাবে যত্ন নিলে ভালো মানের মেকআপ ব্রাশ প্রায় দুই বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। আর সাধারণ মানের ব্রাশ ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে বদলে নেওয়াই উত্তম। বিশেষ করে তরল প্রসাধনী ব্যবহারের ব্রাশ তুলনামূলক দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, তাই এগুলো নিয়মিত পরিবর্তন করা নিরাপদ। ব্রাশের পশম ঝরে পড়া, আগের মতো নরম না থাকা বা মেকআপ ঠিকভাবে ছড়িয়ে না পড়া এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে বুঝতে হবে নতুন ব্রাশ ব্যবহারের সময় এসে গেছে।
মেকআপ ব্রাশ দীর্ঘদিন ভালো রাখতে চাইলে কয়েকটি ছোট অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। ব্যবহার শেষে পরিষ্কার করে ব্রাশ খোলা জায়গায় না রেখে ঢাকনাযুক্ত কভার বা আলাদা ব্যাগে সংরক্ষণ করুন। ভেজা ব্রাশ কখনোই ড্রয়ার বা ব্যাগে রাখবেন না, এতে জীবাণু জন্মাতে পারে এবং দুর্গন্ধ তৈরি হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিজের ব্যবহৃত ব্রাশ অন্য কারও সঙ্গে ভাগাভাগি না করা।
জেএস/