টেলিগ্রামে বিদেশি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের নামে প্রতারণা করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া একটি চক্রের আরও দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান।
গ্রেফতাররা হলেন- রনজিত বসাক রওনক (২৫) ও পলাশ চন্দ্র বসাক (৪০)।
জসীম উদ্দিন খান বলেন, সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টায় ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ থানা এলাকা থেকে রনজিত বসাক রওনককে এবং রাত ২টায় দিনাজপুর সদর থানাধীন সুইহারী এলাকা থেকে পলাশ চন্দ্র বসাককে গ্রেফতার করেছে সিআইডির ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগের একটি আভিযানিক দল।
তিনি বলেন, গত ৪ সেপ্টেম্বর ডিএমপির পল্টন থানায় এই সংক্রান্ত একটি মামলা দায়ের হয়। সেই মামলায় আগে এই প্রতারণা চক্রের মূলহোতা ফারদিন আহমেদ ওরফে প্রতীক (২৫) এবং তার সহযোগী মো. সাগর আহমেদকে (২৪) গ্রেফতার করা হয়েছিল। তারা আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় এবং চক্রের আরও দুই সদস্যের নাম প্রকাশ করে। তাদের তথ্যের ভিত্তিতেই রনজিত ও পলাশকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তের তথ্য জানিয়ে তিনি আরও বলেন, প্রতারক চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে টেলিগ্রাম অ্যাপে ‘বিদেশি বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম’ ও অন্যান্য বিভিন্ন আকর্ষণীয় নামে ভুয়া গ্রুপ খুলে অল্প সময়ে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বিনিয়োগে প্ররোচিত করত। ভুক্তভোগীরা গ্রুপে যুক্ত হলে সেখানে আগে থেকেই যুক্ত কিছু সদস্য বিনিয়োগ করে কীভাবে স্বল্প সময়ে অধিক লাভ করেছে- এমন ভুয়া ও সাজানো পোস্ট দিতো। প্রকৃতপক্ষে এসব সদস্যই ছিল চক্রের সক্রিয় সহযোগী এবং পোস্টগুলো ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।
এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ প্রলুব্ধ হয়ে গ্রুপের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠাতো। এসব অ্যাকাউন্ট অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তৃতীয় ব্যক্তির নামে খোলা ছিল, যাদের অনেকেই প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। পরবর্তীতে প্রতারকরা এসব একাউন্ট ব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেন ও আত্মসাৎ করত। বহু বিনিয়োগকারী এভাবে সর্বস্ব হারিয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ নগদে রূপান্তরের জন্য চক্রটি অভিনব কৌশল ব্যবহার করতো। মূলহোতা ফারদিন আহমেদ বিভিন্ন গাড়ির শোরুম থেকে ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে গাড়ি ক্রয় করে স্বল্প সময়ের মধ্যে কম দামে বিক্রি করে কাগজে লোকসান দেখিয়ে নগদ অর্থ উত্তোলন করতো। এই পদ্ধতিতেই অবৈধ অর্থ ‘ক্যাশ আউট’ করা হতো।
কেআর/এএমএ