ভ্রমণ

মানসিক শান্তির জন্য ভ্রমণ কেন জরুরি

খাদিজা আক্তার সায়মা

মনকে জীবন্ত করার জন্য সবচেয়ে উত্তম ও সঠিক উপায় হলো ভ্রমণ বা ঘুরতে যাওয়া। ঘুরতে যাওয়ার মাধ্যমে মনকে সতেজ ও প্রাণবন্ত করা যায়। একঘেয়েমি ও ব্যস্তময় জীবনের জন্য বেড়াতে যাওয়া জরুরি। আজকাল আধুনিকতার ছোঁয়ায় ও কর্মময় জীবনে ঘুরতে যেতে আমরা প্রায় ভুলেই গেছি।

সপ্তাহে ছয়দিন স্কুল, কলেজ ও অফিস করে সাপ্তাহিক ছুটি পাওয়ার পর কাটিয়ে দিই ঘুমিয়ে, টিভি দেখে কিংবা মোবাইলের নীল স্ক্রিনে। ফলে জীবন হয়ে উঠেছে একচেটিয়া। মানসিকভাবে পাই না কোনো শান্তি। মন-মেজাজ হয়ে থাকে খিটখিটে।

সব ক্লান্তি, অবসাদ দূর করার জন্য প্রয়োজন বেড়াতে যাওয়া। হতে পারে সেটি আপনার বাড়ির পাশের কোনো খোলা জায়গা, কোনো পার্ক, আত্মীয়ের বাসা কিংবা দূর কোনো অজানা প্রকৃতিতে। যে প্রকৃতিতে আপনি মিশে যাবেন। মিশে যাবে আপনার আধ্যাত্মিক মন। ফিরে আসতে মন চাইবে না আপন নীড়ে।

আরও পড়ুনশীতের ভ্রমণে এক টুকরো চায়ের রাজ্য 

প্রকৃতির কাছাকাছি যে গেছে; সে পেয়েছে প্রকৃত মানসিক শান্তি। সেই শান্তি আর কোনো কিছুতে পাওয়া যায় না। বাংলাদেশ অপরূপ লীলাভূমির দেশ। এ দেশের যেদিকে তাকাবেন শুধু সবুজের সমারোহ ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু স্থান দেশের দক্ষিণাঞ্চল। যেমন- চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি।

এ ছাড়া আছে সুন্দরবন ও সিলেটের শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজারের চা-বাগানসহ দেশের বিভিন্ন স্থান। অল্প কিছু বাজেট ও সময় নিয়ে আপনি ঘুরে আসতে পারেন এসব স্থান থেকে। পাশাপাশি প্রত্যেক জেলায় গড়ে উঠেছে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। যা বাচ্চাদের জন্য খুবই জনপ্রিয়। দর্শনীয় স্থানগুলোতে আছে বিভিন্ন কার্যক্রম ও রাইড। যা বাচ্চাদের শরীরচর্চা ও মনের খোরাক মেটায়।

গৃহবন্দি জীবন থেকে বের হয়ে বাচ্চাদের নিয়ে বেড়াতে যাওয়া উচিত। এতে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে। মন প্রফুল্ল থাকে। পড়ায় মন বসে। শরীরও ভালো থাকে। মেডিক্যাল সায়েন্স অনুযায়ী, ভ্রমণ কিংবা বেড়াতে যাওয়ার মাধ্যমে মেজাজ শান্ত থাকে, মস্তিষ্কের কার্যকক্ষমতা বাড়ে, স্ট্রেস হরমোন কমিয়ে মেজাজ ভালো রাখে।

আরও পড়ুনপাহাড়ি জলের সৌন্দর্যের খোঁজে একদিন 

তাই আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা কাটিয়ে সুযোগ করে বেড়াতে যাওয়া জরুরি। ‘মানসিক স্বাস্থ্য ছাড়া শারীরিক সুস্থতা অসম্পূর্ণ’- এ মনোভাব নিয়ে আমাদের ভ্রমণে বা ঘুরতে যেতে হবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, সরকারি তোলারাম কলেজ, নারায়ণগঞ্জ।

এসইউ