বাংলাদেশের মানুষ বরাবরই রাজনীতি সচেতন। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাট-মাঠ-ঘাট-রাজনীতি নিয়ে আলোচনা নেই, এমন জায়গা খুঁজে পাওয়া মুশকিল। সেই রাজনীতি যখন ব্যক্তিগত সম্পর্কে ঢুকে পড়ে, তখন অনেক সময় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। স্বামী-স্ত্রী, প্রেমিক-প্রেমিকা বা জীবনসঙ্গীর সঙ্গে সব কথা ভাগ করে নেওয়া গেলেও রাজনৈতিক মতাদর্শে ভিন্নতা অনেকের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রশ্ন হলো-এই ভিন্নমত কি সম্পর্ক ভাঙার কারণ হবে, নাকি তা সামলে নেওয়া কেন সম্ভব?
আসুন জেনে নেওয়া যাক ভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্বাসী হলে যা করবেন-
শুরুতেই স্পষ্টতা জরুরিসম্পর্কের শুরুতেই একে অন্যের ভাবনা, বিশ্বাস ও মূল্যবোধ স্পষ্ট করে জানা জরুরি। তবে এটাও বাস্তবতা যে, দুজন মানুষ কখনোই সব বিষয়ে শতভাগ একমত হতে পারেন না। রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হলেও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখতে পারলে সম্পর্ক স্বাভাবিকভাবেই এগিয়ে যেতে পারে। বিশ্বাসের জায়গায় শ্রদ্ধা থাকলে সম্পূর্ণ বিপরীত চিন্তার মানুষও একসঙ্গে শান্তিতে থাকতে পারেন।
সময়ের সঙ্গে বদলে যেতে পারে ভাবনাদীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে বড় একটি চ্যালেঞ্জ হলো মানুষের পরিবর্তন। সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিও বদলাতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তন মেনে নেওয়ার মানসিকতা থাকলে সম্পর্ক টিকে থাকে। তবে সেই পরিবর্তন যদি অন্যের ক্ষতি বা ঘৃণার জন্ম দেয়, তাহলে বিষয়টি নতুন করে ভাবা জরুরি।
উত্তপ্ত সময়ে তর্ক এড়িয়ে চলারাজনৈতিক উত্তেজনার সময় দম্পতিদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কও সহজেই বড় ঝগড়ায় রূপ নিতে পারে। আবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে সেই আলোচনা তুলনামূলক শান্তভাবেই শেষ হয়। তাই বুঝে নিতে হবে রাজনীতি নিয়ে কখন আলোচনা করবেন, আর কখন থেমে যাবেন।
সম্পর্ক না মতাদর্শ যেটা অগ্রাধিকারএই জায়গায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো আপনার কাছে কোনটি বেশি জরুরি, সম্পর্ক নাকি রাজনৈতিক মতাদর্শ? যারা সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেন, তারা সাধারণত ভিন্নমত সামলে নিতে পারেন। নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাস কতটা গভীর এবং ভিন্নমতের সঙ্গে তা কতটা সহাবস্থান করতে পারে, সেটি ভেবে দেখা দরকার। পরিবার, দাম্পত্যের শান্তি ও মানসিক স্বস্তি নাকি রাজনৈতিক অবস্থান-এই অগ্রাধিকার ঠিক করাই অনেক সমস্যার সমাধান দিতে পারে।
শ্রদ্ধার সঙ্গে আলোচনা করুনমতাদর্শগত পার্থক্য থাকলে তা এড়িয়ে না গিয়ে আলোচনা করাই ভালো। তবে সেই আলোচনা যেন হয় শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার জায়গা থেকে, চাপ বা হুমকি দিয়ে নয়। নিজের বিশ্বাস সম্পর্কে জানুন, আবার সঙ্গীর বিশ্বাস বোঝারও চেষ্টা করুন। এতে পারস্পরিক আস্থা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কমে।
ঝগড়ার সময় ভালোবাসার কথা মনে করুনযখন রাজনৈতিক তর্ক চরমে ওঠে, তখন এক মুহূর্ত থেমে ভাবুন, কেন এই মানুষটিকেই আপনি ভালোবেসেছিলেন। কোন বিষয়গুলো আপনাদের এক করেছিল, সেগুলো কি রাজনৈতিক মতভেদের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকা সত্ত্বেও সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন খোলা মন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থা। ভালোবাসা থাকলে ছোটখাটো মতবিরোধ সম্পর্কের ভিত্তি নড়বড়ে করে দিতে পারে না।
সূত্র: ভেরি ওয়েল মাইন্ড,সাইকোলজি টুডে
আরও পড়ুন:বিয়ের সঠিক সময় বয়স নয়, মানসিক প্রস্তুতিই আসল সবার পছন্দের মানুষ হতে চান? বদলে ফেলুন এই অভ্যাস
এসএকেওয়াই/