খেলাধুলা

শরীর ভাঙলেও মন ভাঙেনি, নাটকীয় জয়ে ফাইনালে আলকারাজ

ক্র্যাম্প নিয়ে ভুগলেও মানসিক দৃঢ়তা আর শেষ শক্তিটুকু উজাড় করে দিয়ে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটালেন কার্লোস আলকারাজ। আলেকজান্ডার জভেরেভকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে জায়গা করে নিলেন স্পেনের এই তরুণ টেনিস তারকা।

পাঁচ ঘণ্টা ২৭ মিনিটের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে আলকারাজ জিতেছেন ৬-৪, ৭-৬ (৭-৫), ৬-৭ (৩-৭), ৬-৭ (৪-৭), ৭-৫ গেমে। তবে স্কোরলাইনের চেয়েও ম্যাচের নাটকীয়তা ছিল অনেক বেশি।, মেলবোর্নে যা দর্শকদের শ্বাসরুদ্ধ করে রেখেছিল।

প্রথম দুই সেট অনায়াসেই জিতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই এগোচ্ছিলেন আলকারাজ। কিন্তু তৃতীয় সেটে ৪-৪ গেমে সার্ভ করতে গিয়ে হঠাৎই শারীরিকভাবে অস্বস্তিবোধ করেন তিনি। ঠিকমতো নড়াচাড়া বা সার্ভ কোনোটাই করতেই পারছিলেন না।

অস্বস্তি চরম পর্যায়ে গেলে মেডিকেল টাইম আউট নেন আলকারাজ। যা তৃতীয় বাছাই জভেরেভকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। চিকিৎসার পর কোর্টে ফিরলেও আলকারাজকে অনেকটাই ছায়ামাত্র মনে হচ্ছিল। সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচ পঞ্চম সেটে টেনে নেন জার্মান তারকা।

জভেরেভ পঞ্চম সেটে শুরুতেই ব্রেক পেয়ে যান। ম্যাচ জয়ের জন্য ৫-৪ গেমে সার্ভও করেন তিনি। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে ঠিক তখনই ঘুরে দাঁড়ান আলকারাজ।

দর্শকদের উচ্ছ্বাসে অনুপ্রাণিত হয়ে ব্রেক ফিরিয়ে ম্যাচে সমতা ফেরান তিনি। এরপর ৬-৫ ব্যবধানে সার্ভ করতে নামা জভেরেভের স্নায়ুচাপে ভেঙে পড়ার সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগান আলকারাজ।

একটি ব্যাকহ্যান্ড শটে জভেরেভের ভুলের পর অবিশ্বাসে কোর্টে লুটিয়ে পড়েন আলকারাজ। সেই ভুলই তাকে পাঠিয়ে দেয় রোববারের ফাইনালে।

ম্যাচ শেষে আলকারাজ বলেন, ‘আমি সব সময় বলি, যে পরিস্থিতিই হোক, নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। এই দর্শকরা না থাকলে আমি আজ এখানে পৌঁছাতে পারতাম না। প্রতিটি পয়েন্টে যেভাবে আমাকে আবার ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছেন, সেটা অবিশ্বাস্য।’

এই জয়ে টিকে থাকলো ২২ বছর বয়সী আলকারাজের ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন। রোববার শিরোপা জিততে পারলে তিনিই হবেন সবচেয়ে কম বয়সে ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম পূর্ণ করা পুরুষ খেলোয়াড়।

আইএন