রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেছেন, সৃষ্টিকর্তা নারীদের সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছেন, কিন্তু সেই নারীদের ক্ষমতার লোভে বাংলাদেশের একটি মুনাফেক রাজনৈতিক দল প্রতিনিয়ত অসম্মান করছে। জামায়াতে আমির ডা. শফিকুর রহমান নারীদের ‘বেশ্যা’ বলে দেশের ৯ কোটি নারী জাতিকে অসম্মান করেছেন।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘কী ভাষায় উত্তর দিলে এই মুনাফেকরা এই দেশের নারীদের সম্মান করবে, তা আমরা জানি না। কোন ভাষায় প্রতিবাদ করলে তারা মূল ধারার রাজনীতিতে ফিরবে, সেটাও আমাদের অজানা। ক্ষমতার লোভে তারা প্রতিনিয়ত নিজেদের অবস্থান বদলাচ্ছে। ডা. শফিকুর রহমান, তুমি সেই নারীদের বেশ্যা বলেছো, যারা আমাদের মুমূর্ষু মানুষকে সেবার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলে। সেই নার্সদেরও তুমি অপমান করেছ। এর মাধ্যমে তুমি এই দেশের ৯ কোটি নারীকে অসম্মান করেছ। এমন আচরণ করে এ দেশে রাজনীতি করার কোনো নৈতিক অধিকার এই দলের নেই।’
বিক্ষোভ সমাবেশে উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী আফরিন জাহান বলেন, ‘কেউ নারী হয়ে জন্মগ্রহণ করে না, তাকে নারী হয়ে উঠতে বাধ্য করা হয়—এরকম মানসিকতার মানুষগুলোই এসব কথা বলে। আমি তাদের বলতে চাই, নারীকে নারী হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে দেখুন। এখন সময় এসেছে বদলানোর। এসব মানসিকতা আপনারা বাদ দিন।’
শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে যারা জড়িত ছিল, সেই সংগঠনের নেতাকর্মীদের ভূমিকা আজও প্রশ্নবিদ্ধ। জামায়াত ইসলামীর নারীদের সম্মান দিতে জানেন না এবং যাদের তিনি ‘বেশ্যা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন—এ ধরনের বক্তব্য ইতিহাস ও মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একাত্তরে যারা নির্যাতনের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তারাই আজ নারীদের অবমাননাকর ভাষায় চিহ্নিত করছে।
এদিকে আলোচনা শেষে তারা একটি মিছিল নিয়ে বের হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবারও একই জায়গায় এসে তা শেষ করেন। এ সময় তারা নারী অবমাননার বিরুদ্ধে এবং বিতর্কিত মন্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের। ওই অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের অবমাননা করে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে জামায়াত থেকে দাবি করা হচ্ছে, অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছে।
মনির হোসেন মাহিন/কেএইচকে/জেআইএম