দেশজুড়ে

মাদারীপুরে বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, আহত ১০

মাদারীপুর-২ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়া ও স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিদ্রোহী) মিল্টন বৈদ্যের গণসংযোগ চলাকালে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ১০জন আহত হয়েছেন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মাদারীপুর সদর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের কালিরবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুপুরে কর্মী-সমর্থক নিয়ে কালিরবাজার এলাকায় গণসংযোগে যান কলস প্রতীকের প্রার্থী মিল্টন বৈদ্য। গণসংযোগ চলাকালে ধানের শীষের প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়ার সমর্থকরা ও মিল্টন বৈদ্যের সমর্থকদের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। পরে উভয় পক্ষ নিজ নিজ প্রতীকের স্লোগান দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে। এ ঘটনায় ১০ জন আহত হন।

আহতরা হলেন, বেল্লাল ব্যাপারী, অ্যাডভোকেট মহিদুল মাতুব্বর, বেল্লাল মাতুব্বর, জহিরুল ইসলাম প্রমুখ। আহতদের মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে বেল্লাল মাতুব্বর নামে একজনকে হাতুড়িপেটা করায় গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মিল্টন বৈদ্য বলেন, ধানের শীষের স্লোগান দিয়ে আমার কর্মী-সমর্থকদের ওপর হঠাৎ হামলা চালায় হয়। এসময় কয়েকজনকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করেছে। এ ঘটনায় আমার ১০ জন কর্মী-সমর্থককে আহত করা হয়েছে। এর মধ্যে একজনকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করায় তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠানো হয়েছে। এসময় একাধিক মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

ধানের শীষের প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়া বলেন, ধানের শীষের কর্মীদের ওপর হামলা চালালে সেটি প্রতিরোধ করে আমার সমর্থকরা। তবে কোনো মারামারির ঘটনা ঘটেনি। আমার নির্বাচনি ক্যাম্প ভাঙচুর করেছে মিল্টনের লোকজন। আমি এর বিচার চাই।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ওই এলাকায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে। এ ব্যাপারে পরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আয়েশা সিদ্দিকা আকাশী/আরএইচ/এএসএম