আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৩ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। ঘোষিত ইশতেহারে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানিসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধান এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ ৯টি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সূচনা কমিউনিটি সেন্টারে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন আয়োজিত নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ ও আচরণবিধি প্রতিপালন ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি এ ইশতেহার প্রকাশ করেন।
নির্বাচনি ইশতেহারে ববি হাজ্জাজ বলেন, ঢাকা-১৩ আসনের মোহাম্মদপুর-আদাবর-শেরেবাংলা নগর এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তাহীনতা ও নাগরিক ভোগান্তির শিকার। এই ইশতেহার প্রতিশ্রুতি নয়, এটি একটি বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা। লক্ষ্য একটাই—নিরাপদ, মানবিক ও জবাবদিহিমূলক এলাকা গড়ে তোলা।
ববি হাজ্জাজের ৯ দফা ইশতেহারে যা আছে
নিরাপদ ও সন্ত্রাসমুক্ত জীবনকিশোর গ্যাং, মাদক, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। থানা প্রশাসন ও কমিউনিটির সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান, কড়া নজরদারি ও নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে মোহাম্মদপুর-আদাবর-শেরেবাংলা নগরকে নিরাপদ বসবাসযোগ্য এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানিন্যূনতম ভোগান্তি, সর্বোচ্চ জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। তিতাস ও ওয়াসার সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয়, সমস্যাভিত্তিক সার্ভিস ম্যাপ, জরুরি হটলাইন এবং স্থায়ী ফলোআপ ব্যবস্থা চালু করা হবে। স্থানীয় এমপি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়ে মাসিক ওপেন টাউনহলে জনগণের সমস্যা সরাসরি শুনে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রাস্তা ও ড্রেনেজসমস্যা নয়—সমাধানের অঙ্গীকারের ভিত্তিতে ওয়ার্ডভিত্তিক পরিকল্পনা ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে রাস্তা, ফুটপাত, কালভার্ট ও ড্রেনেজ উন্নয়ন করা হবে। জলাবদ্ধতা কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মাসে একবার অগ্রগতি প্রকাশ করে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।
খাল ও লেকদূষণ নয়—নিরাপদ পানি ও দখলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। স্যুয়ারেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ঠিক করে নিয়মিত ডেসিল্টিং ও ক্লিন-আপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। বিল্ডিং কোড ও বর্জ্য ফেলার আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করে মোহাম্মদপুরের খাল ও লেককে দখল ও দূষণমুক্ত করে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
নারীর নিরাপত্তাপ্রতিটি পথ, প্রতিটি পদক্ষেপ হবে নিরাপদ। আলোকসজ্জা, সিসিটিভি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার মাধ্যমে নিরাপদ রাস্তা নিশ্চিত করা হবে। শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী নারীদের জন্য নিরাপদ হোস্টেল সহায়তা এবং নারীবান্ধব পরিবহন নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া হবে।
যুব ক্ষমতায়নদক্ষতা, শিক্ষা ও সৃজনশীলতার নতুন সুযোগ নেওয়া হবে। ওয়ার্ডভিত্তিক স্কিল ট্রেনিং ও ক্যারিয়ার কাউন্সিলিং, রিহ্যাব রেফারেল নেটওয়ার্ক এবং মেধাবী দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য ‘এডুকেশন ফান্ড’ চালু করে তরুণদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে।
বিহারি ক্যাম্প উন্নয়নমর্যাদাপূর্ণ ও মানসম্পন্ন জীবন নিশ্চিত করা হবে। বাসস্থান উন্নয়ন, পানি-স্যানিটেশন, শিশুদের স্কুলিং ও তরুণদের স্কিল ট্রেনিং নিশ্চিত করা হবে। স্থানীয় অংশগ্রহণে জবাবদিহিমূলক প্রশাসনের মাধ্যমে মাদক ও অপরাধমুক্ত নিরাপদ ক্যাম্প গড়ে তোলা হবে।
ব্যবসাবান্ধব এলাকাচাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। সহায়তা ডেস্ক ও দ্রুত অভিযোগ-ফলোআপ ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধ করা হবে। অবৈধ জমি দখল, ফুটপাত ও পার্কিং দখল এবং খেলার মাঠ ও জনসাধারণের স্থান দখলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।
সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও দৃশ্যমান সমাধানপ্রতিটি ওয়ার্ডে নির্দিষ্ট দিনে ওপেন টাউনহল, মসজিদ-মাদরাসার আলেমদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ এবং সার্বক্ষণিক ফোন ও ফিজিক্যাল হেল্প ডেস্কের মাধ্যমে দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ, সমাধান ও ফলোআপ নিশ্চিত করা হবে।
এই ইশতেহার ক্ষমতার প্রতিশ্রুতি নয়, এটি দায়িত্বের চুক্তি বলেও জানান ববি হাজ্জাজ।
কেআর/এমকেআর