রাজনীতি

সরকারি বেতনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাংবাদিকদের ওয়েজবোর্ডের প্রতিশ্রুতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২৬টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে ‘নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার’ প্রতিশ্রুতিতে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ ইশতেহারের প্রথম ভাগেই তথ্য ও গণমাধ্যম খাতে নিজেদের পরিকল্পনা তুলে ধরেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

ইশতেহারে সাংবাদিকদের অধিকার সুরক্ষায় ওয়েজবোর্ড নিয়মিত হালনাগাদ এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনের গ্র্যান্ড বলরুমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ইশতেহার ঘোষণা করেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। এতে অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা এবং স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও পেশাদার গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠাকে অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছে দলটি।

তথ্য ও গণমাধ্যম বিষয়ে নয়টি সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, গণমাধ্যমে সুস্থ ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটাতে একটি জাতীয় গণমাধ্যম নীতিমালা প্রণয়ন। সংবিধান ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের আলোকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।

ইশতেহারে বলা হয়, অতীতে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সরকারের সময়ে গণমাধ্যমের ওপর আরোপিত দমনমূলক নীতিমালার পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করা হবে।

এছাড়া আগে বন্ধ করে দেওয়া পত্রিকা, টেলিভিশন ও অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলো পুনরায় চালুর সুযোগ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে বাতিল করা ডিক্লারেশন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সংস্কারের বিষয়ে ইশতেহারে বলা হয়, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও বাসসকে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্ব বজায় রেখে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে রাষ্ট্রীয় সংবাদ প্রচারে বাধ্য করার প্রচলিত সংস্কৃতি বন্ধ করার কথা জানানো হয়েছে।

তথ্য অধিদপ্তর (ডিএফপি) থেকে বিজ্ঞাপন বিতরণে স্বচ্ছতা ও বৈষম্যহীনতা নিশ্চিত করার কথাও উল্লেখ রয়েছে ইশতেহারে।

গণমাধ্যমে পেশাদারত্ব বজায় রাখতে সাংবাদিক সংগঠন ও প্রেস কাউন্সিলকে কার্যকর, স্বাধীন ও স্বচ্ছভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে প্রেস কাউন্সিলের বিচারিক ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।

এছাড়া গুজব, অপপ্রচার ও অপসাংবাদিকতা রোধে সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতাকে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে উৎসাহিত করার কথা জানিয়েছে দলটি।

জামায়াত নেতাদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে এবং জনগণের জানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে, যা একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এমডিএএ/এমএএইচ/