রাজনীতি

শিশু-বয়স্কদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও জাতীয় স্বাস্থ্যবিমার প্রতিশ্রুতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এতে, ৫ বছরের নিচে শিশু ও ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে সব নাগরিককে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হবে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে জাতীয় স্বাস্থ্যবিমা ও ডিজিটাল হেলথ কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।  বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বনানীর হোটেল শেরাটনে এ ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। ইশতেহারে ‘স্বাস্থ্যসেবা সবার অধিকার’ টপিকে হাতের নাগালে, কম খরচে ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

সরকারি হাসপাতাল শক্তিশালী করার অঙ্গীকারজামায়াতের ইশতেহারে প্রথম ৬ মাস থেকে এক বছরের মধ্যে বিদ্যমান সরকারি হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা শতভাগে উন্নীত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর জন্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, যন্ত্রপাতির মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়িয়ে রাজধানীকেন্দ্রিক রোগীর চাপ কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

জেলা-উপজেলায় আধুনিক হাসপাতাল ও আইসিইউইশতেহার অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল স্থাপন করা হবে। প্রতিটি জেলার সদর সরকারি হাসপাতালে কমপক্ষে ৫ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার, আইসিইউ ও সিসিইউ স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনশিক্ষার্থীদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরবে জামায়াত ভোটে জিতলে পরবর্তী নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি চালু করবে জামায়াত 

ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে রেজিস্টার্ড স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং ওষুধ সরবরাহের কথা বলা হয়েছে। শহরাঞ্চলে প্রতিটি ওয়ার্ডে নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র (জিপি সেন্টার) চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

দুর্নীতি রোধ ও সুশাসনের ঘোষণাস্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি নির্মূলে সরকারি ও বেসরকারি সব স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের তথ্য পাবলিক ওয়েবসাইটে প্রকাশ এবং ক্রয় প্রক্রিয়ায় ই-জিপি চালুর কথা বলা হয়েছে। হাসপাতাল ও ক্লিনিকে কমিশন বাণিজ্য, অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং উপহার সংস্কৃতি বন্ধে আইন প্রণয়নের অঙ্গীকার করা হয়েছে।

নারী, শিশু ও প্রবীণদের অগ্রাধিকারইশতেহারে নারী ও শিশু চিকিৎসায় বিশেষ অগ্রাধিকার, প্রবীণদের জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের জন্য হোম কেয়ার, রিহ্যাবিলিটেশন ও প্যালিয়েটিভ কেয়ারের ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে।

মানসিক স্বাস্থ্য ও জরুরি সেবায় গুরুত্বডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে জাতীয় কৌশল বাস্তবায়ন এবং ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও ক্যানসারের মতো অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ করে আসক্তি ও আত্মহত্যা প্রতিরোধে আলাদা কর্মসূচি এবং ধাপে ধাপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।

ওষুধ, মেডিকেল শিক্ষা ও মেডিকেল ট্যুরিজমইশতেহারে ৩০০টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ ন্যায্যমূল্যে সরবরাহ (পর্যায়ক্রমে ৫০০-তে উন্নীত), প্রতিটি হাসপাতালে রেজিস্টার্ড ফার্মাসিস্ট নিয়োগ এবং এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানির সক্ষমতা বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি মানহীন মেডিকেল কলেজগুলোর মানোন্নয়ন, বিএমইউ সুপার-স্পেশালাইজড হাসপাতাল দ্রুত চালু এবং আন্তর্জাতিক মানের মডেল হাসপাতাল গড়ে তুলে মেডিকেল ট্যুরিজম বিকাশের কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসইউজে/কেএসআর